হাওরে অবাধে শামুক নিধন হুমকিতে জীববৈচিত্র্য
হাওর অঞ্চল অধ্যুষিত নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ডিঙ্গোপুতা হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে বর্ষায় অবাধে শামুক সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ব্যক্তি ও চক্র প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ শামুক তুলে বিক্রি করায় হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, শামুক জলজ বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি অনেক মাছ, পাখি ও অন্য প্রাণীর খাদ্য হিসেবে কাজ করে এবং জলাশয়ের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে সহায়তা করে। কিন্তু বর্ষা এলেই নির্বিচারে শামুক সংগ্রহের কারণে হাওরের স্বাভাবিক পরিবেশ ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে জলজ প্রাণীর প্রজনন ও খাদ্যশৃঙ্খলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, মৎস্য সংরক্ষণ আইনে শামুক নিধন বা সংগ্রহের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান না থাকায় মৎস্য অধিদপ্তরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনেক ক্ষেত্রে শুধু সচেতনতামূলক পরামর্শ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রতি বর্ষার ন্যায় এবারও মোহনগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন হাওরে অবাধে শামুক নিধন ও বিক্রি চলছে। হাঁস ও মৎস্য খামারের জন্য হাওরের শামুকের কদর থাকায় সেভাবে বিক্রিও হচ্ছে।
ডিঙ্গোপুতা হাওর ঘুরে দেখা গেছে, ‘ভাসান পানির’ মৌসুম থাকায় হাওর এলাকা অনেকটা সুনসান। মাছ ধরার জন্য নির্ধারিত জলমহালগুলোয় মৎস্যজীবীদের একটি অংশ শামুক ধরছে। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি নৌকা দিয়ে প্রায় দুই থেকে আড়াইশ বস্তা শামুক সংগ্রহ করা হচ্ছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার।
বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২-এর ধারা ৬ ও ৩৪-এ বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া বন্য প্রাণী শিকার, ওঠানো, উপড়ানো ও ধ্বংস বা সংগ্রহ করা যাবে না। এ ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় বা আমদানি-রপ্তানি করা যাবে না। এ নিয়ম না মানলে এ অপরাধের জন্য এক বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে। ২০১২ সালের ১০ জুলাই প্রকাশিত সরকারি প্রজ্ঞাপনে শামুককে বন্য প্রাণী হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
৩ নম্বর তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বজলু মিয়া বলেন, ‘এ বিষয় অনেকবার নিষেধ করেছি। শ্যামপুর, নোয়াপাড়া, তেঁতুলিয়ায় যারা নৌকা দিয়ে শামুক সংগ্রহ করে তাদের বলেছি, শামুক ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে নিষেধের ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর কিছুটা কম। এ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম প্রয়োজন।’
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অনিক রহমান জানিয়েছেন, ‘শামুক আমাদের মৎস্য খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে না। এটি প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাদের সঙ্গে কথা বললে ওরা হয়ত বা কোনো উদ্যোগ নিতে পারে। শামুকের জন্য আমাদের কোনো আইন নেই। জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে এটা সত্য।
মোহনগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার উৎপল কুমার সরকার বলেন, ‘আমরা শামুক নিয়ে কাজ করি না। মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে দেখতে পারেন।’
বন বিভাগের নেত্রকোনা কার্যালয়ের
সহকারী (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা (এসএফএনটিসি) আব্দুর রফিক বলেন, এটি আমাদের অধিদপ্তরের না। শামুকের বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না। এ নিয়ে কথা বলতে পারবে পরিবেশ অধিদপ্তরে যারা আছে তারা।
বন বিভাগের নেত্রকোনার রেন্জ অফিসার রামকৃষ্ণ জানিয়েছেন, শামুক হাওরাঞ্চলের জলজ প্রাণীর জীবনচক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। শামুক এভাবে আহরণ করা হলে হাওরের জীববৈচিত্র্য পুরোপুরি নষ্ট হবে। শামুকের প্রজননক্ষমতাও নষ্ট হবে। অনেক শামুক আছে, যেগুলো মাছের জন্য ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খায়। আবার মাছও শামুক খায়। শামুকের সংকট দেখা দিলে মাছেরও আকাল তীব্র হবে।
মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা খাতুন বলেন, এ বিষয়ে মৎস্য অফিসারের সঙ্গে কথা বলেন। এ সংক্রান্ত কোনো আইন আছে কি না আমার জানা নেই।’
এমএসএম / এমএসএম
ধামইরহাট উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ ও মিছিল
কুড়িগ্রামে ৭ম কাব ক্যামপুরি অনুষ্ঠিত
বিলাইছড়িতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কার বিতরণ
গাসিকে নাগরিক সেবা ডিজিটালাইজেশন: হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স অটোমেশনের সফটওয়্যার চালু
টাঙ্গাইল বন বিভাগের ১২ একর জমি দখলের অভিযোগ দুর্নীতির বরপুত্র শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ এর বিরুদ্ধে
ঠাকুরগাঁওয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ভূল্লীতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
ভূরুঙ্গামারীতে ‘স্পেস টু লিড’ প্রকল্পের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা
উলিপুর সরকারি কলেজে নবীন বরন অনুষ্ঠিত
জামিনে বের হয়ে এসে মাদকব্যবসায়ি ফের গ্রেপ্তার
পাবনায় মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব ও করণীয় শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
লাকসামে নওয়াব ফয়জুন্নেচ্ছা সরকারি কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
বগুড়ায় মাইক্রোবাস-ট্রাক সংঘর্ষে প্রবাসীসহ নিহত ২