দায়িত্ব গেল, এবার সম্পদ-টেন্ডার নিয়ে প্রশ্নের মুখে বদরুল
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানকে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১-এর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রিজার্ভে পদায়নের পর তাঁকে ঘিরে পুরোনো নানা অভিযোগ আবারও আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে কথিত বিপুল সম্পদ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব রাখার অভিযোগ।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করে অভিযোগগুলোর বাস্তব ভিত্তি খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
বদরুল আলম খানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—তাঁর চাকরিজীবনের আয় ও ঘোষিত আয়ের সঙ্গে কথিত সম্পদের পরিমাণের কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না।
অভিযোগকারীদের দাবি, রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি বাড়ি, বাসাবো এলাকায় ছয়টি ভবন, কারওয়ান বাজারে একাধিক ফ্ল্যাট এবং গাজীপুরে ‘প্রচেষ্টা’ নামে একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। ওই গার্মেন্টসের মূল্য ৫০ কোটি টাকার বেশি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, বর্তমান বাজারমূল্য এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য নথিভিত্তিক তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো যাচাই করতে হলে সম্পদ বিবরণী, আয়কর রিটার্ন, জমির দলিল, ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকানা নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সম্পদের উৎস নিয়ে যে প্রশ্নগুলো
একজন সরকারি কর্মকর্তার ক্ষেত্রে চাকরিতে যোগদানের সময়কার সম্পদ এবং পরবর্তী সময়ে অর্জিত সম্পদের তুলনামূলক হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। বদরুল আলম খানের ক্ষেত্রেও একইভাবে দেখা যেতে পারে—চাকরির শুরুতে তাঁর ও পরিবারের সম্পদের পরিমাণ কত ছিল এবং বর্তমানে তা কতটা বেড়েছে।
অভিযোগে উল্লিখিত সম্পদ তাঁর নিজের কিংবা পরিবারের সদস্যদের নামে থাকলে সেগুলো কখন, কী মূল্যে এবং কোন অর্থের উৎস থেকে কেনা হয়েছে—সেটিও যাচাইয়ের বিষয়। এসব সম্পদের বিপরীতে কোনো ব্যাংক ঋণ নেওয়া হয়েছিল কি না, আয়কর নথিতে সেগুলোর তথ্য রয়েছে কি না এবং ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সম্পদ অর্জনের হিসাব সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর নথি যাচাইয়ের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব।
অভিযোগের বিপরীতে পরিবারের অন্য সদস্যদের বৈধ ব্যবসা ও আয়কে সম্পদের উৎস হিসেবে দেখানো হয়ে থাকলে সেই দাবিও নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
ব্যবসার প্রকৃত মালিকানা কার, সেখানে বিনিয়োগের পরিমাণ কত, বার্ষিক আয়-ব্যয় কত, কত টাকা কর দেওয়া হয়েছে এবং ব্যবসার আয় থেকে বদরুল আলম খান কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে কোনো সম্পদ কেনা হয়েছে কি না—এসব তথ্য যাচাই করা হলে সম্পদের উৎস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
শুধু ব্যবসা থাকার দাবি নয়, ব্যবসার ব্যাংক হিসাব, কর নথি, আর্থিক বিবরণী প্রমাণ হতে পারে।
বদরুল আলম খানকে ঘিরে সম্পদের পাশাপাশি গণপূর্ত অধিদপ্তরের টেন্ডার ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।
২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ঠিকাদারদের অভিযোগের বরাতে তাঁর বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গঠন, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে চাপ প্রয়োগ এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের কথা উঠে আসে।
এরপর জুন ২০২৬-এ প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন গ্রহণ এবং ঠিকাদারি ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার মতো অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট টেন্ডার নথি, কার্যাদেশ, বিল, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক যাচাই করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে যেসব ঠিকাদার তাঁর দায়িত্বকালে ধারাবাহিকভাবে কাজ পেয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে কোনো পারিবারিক, ব্যবসায়িক বা আর্থিক সম্পর্ক ছিল কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা যেতে পারে।
দায়িত্ব পরিবর্তনই কি শেষ কথা?
বদরুল আলম খানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রিজার্ভে পদায়ন করা একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। এই পদায়ন নিজে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ নয়। তবে একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে যখন সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অভিযোগের পাশাপাশি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও সামনে আসে, তখন অভিযোগগুলোর নথিভিত্তিক যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়।
প্রথমত, চাকরিতে যোগদানের সময় তাঁর ও পরিবারের সম্পদের পরিমাণ এবং বর্তমান সম্পদের তুলনামূলক হিসাব।
দ্বিতীয়ত, তেজগাঁওয়ের বাড়ি, বাসাবোর কথিত ভবন, কারওয়ান বাজারের ফ্ল্যাট এবং গাজীপুরের ‘প্রচেষ্টা’ প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, মূল্য ও অর্থের উৎস।
তৃতীয়ত, তাঁর দায়িত্ব পালনকালে বিতর্কিত টেন্ডার ও প্রকল্পগুলোর দরপত্র, কার্যাদেশ, বিল, কাজের মান, সময়সীমা এবং সুবিধাভোগী ঠিকাদারদের তালিকা।
এসব নথি পাশাপাশি বিশ্লেষণ করা হলে অভিযোগের সঙ্গে সম্পদ অর্জন কিংবা স্বার্থের সংঘাতের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নির্ধারণ করা সহজ হতে পারে।
অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নথিপত্র যাচাই। চাকরিতে যোগদানের সময়ের সম্পদ বিবরণী থেকে শুরু করে বর্তমান সম্পদ, আয়কর রিটার্ন, জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল, ব্যাংক লেনদেন, ব্যবসায়িক মালিকানা এবং তাঁর দায়িত্ব পালনকালে সম্পাদিত গুরুত্বপূর্ণ টেন্ডার—সবকিছু পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে।
প্রশ্ন হলো—সরকারি চাকরির বৈধ আয় ও ঘোষিত আয়ের সঙ্গে কথিত সম্পদের হিসাব কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?
নাকি এসব সম্পদের পেছনে এমন কোনো আয়ের উৎস রয়েছে, যা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি?
অভিযোগগুলোর বিষয়ে মোহাম্মদ বদরুল আলম খান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
এমএসএম / এমএসএম
জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থায় প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
দায়িত্ব গেল, এবার সম্পদ-টেন্ডার নিয়ে প্রশ্নের মুখে বদরুল
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদা সহকারে পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান
কনফিডেন্স সার্ভে ট্রেনিং সেন্টারে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম সম্পন্ন
মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে পাকিস্তান দূতাবাসে ইনসাফ গার্ডের সভাপতির আলোচনা
রাজধানীতে হোটেল এবং স্পা সেন্টারে অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশ
ডিএমপির জুলাইয়ের সেরা শ্রেষ্ঠ থানা মিরপুর মডেল,১২ বার শ্রেষ্ঠ ওসির পুরস্কার হাফিজের
আশুলিয়ায় ১০ হাজার টাকার জন্য ভ্যানচালককে হত্যা: মূল ঘাতকসহ গ্রেফতার- ২
প্রমাণভিত্তিক মাদক প্রতিরোধে তরুণদের সুরক্ষার আহ্বান: আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা
দেশব্যাপী বিএনপিকরণের অন্যতম এজেন্ডা হচ্ছে ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগ ক্ষমতা প্রদান করাঃ শেখ ফজলুল করীম মারুফ
দুর্নীতিবাজ নারী হিসাবরক্ষক শাহনাজকে কোন উপজেলায় নিতে চায় না
সৌদির সঙ্গে সপ্তাহে ৮৪ যাত্রীবাহী ফ্লাইট, বাড়ছে কার্গো সুবিধা