বিমানের কর্মকর্তা শাহজালালকে ঘিরে তদবিরের অভিযোগ, সামনে আসছে পুরোনো কার্গো ঘটনার প্রশ্ন
বদলি-স্থগিতের পর ফের ঢাকায় ফেরার চেষ্টা
বদলি হওয়ার পর আবারও ঢাকায় ফেরার চেষ্টা করছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো বিভাগের কর্মকর্তা কে এম শাহজালাল—এমন অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তাকে ঢাকায় ফেরাতে বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির চলছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিমান কর্তাব্যক্তিদের আলোচনায় বাংলাদেশ বিমান এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন, রেজিঃ নং বি-১৯১৭-এর সভাপতি মো. ইজাজুল হকের নামও উঠে আসছে।
ঘটনার নেপথ্য খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, কে এম শাহজালালকে নিয়ে গত কয়েক মাসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স থেকে পরপর একাধিক প্রশাসনিক আদেশ জারি হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসন সেল/পুল (বিপণন ও বিক্রয় পরিদপ্তর) থেকে ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা এক আদেশে কার্গো এইচএসআইএ, ঢাকায় কর্মরত বাণিজ্যিক তত্ত্বাবধায়ক কে এম শাহজালাল ( জি-৫২২৮৮-)কে কক্সবাজারে বদলি করা হলেও এর মাত্র একদিন পর অর্থাৎ ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিমান কর্তৃপক্ষ আরেকটি আদেশে আগের বদলি/প্লেসমেন্ট আদেশটি স্থগিত করে দেয়। কিন্তু একদিনের ব্যবধানে বদলি আদেশ স্থগিত হওয়ার কারণ কী ছিল—এ প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ওই স্থগিতাদেশে উল্লেখ করা হয়নি।
কয়েক মাস পর আবারও বদলি
এরপর ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তর থেকে নতুন করে বদলি আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশে কে এম শাহজালালকে কার্গো পরিদপ্তরের জেলা ব্যবস্থাপক, কক্সবাজারের ১৩ জুলাই পূর্বাহ্নে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। অর্থাৎ জানুয়ারিতে কক্সবাজারে বদলি করা কে এম শাহজালালের বদলি প্রথমে স্থগিত হওয়ার পর, কয়েক মাসের ব্যবধানে আবারও তাকে কক্সবাজারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
কে এম শাহজালাল বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের বিমান শ্রমিক লীগ (সিবিএ), রেজি. নং বি-২০২৫-এর একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন—এমন গুঞ্জন রয়েছে। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট মহল দাবি করেছেন , বিমান শ্রমিক লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমেও তাকে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। এদিকে, সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সময়ে তিনি বাংলাদেশ বিমানের বিভিন্ন কাজে প্রভাব বিস্তার করতেন বলেও কেউ কেউ দাবি করেছেন।
তদবিরের অভিযোগ, আলোচনায় ইজাজুল হকের নাম
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, কে এম শাহজালালকে কক্সবাজার থেকে আবার ঢাকায় ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ বিমান এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইজাজুল হক চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের বিষয় থাকতে পারে—এমন অভিযোগও রয়েছে। এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের দাবি, কে এম শাহজালাল বদলি হয়ে যাওয়ার পরও কার্গো ভিলেজে তাকে বিভিন্ন সময় দেখা যায়। সূত্রগুলোর আরও বলছে, কার্গো ভিলেজের বিভিন্ন অনিয়মের আর্থিক সুবিধাভোগীদের মধ্যে শাহজালালের নাম এখনো রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, কে এম শাহজালাল বলেন, “আমি মিটিংয়ে আছি। চারটার পরে ফ্রি হবো।” তবে পরবর্তী সময়ে তিনি প্রতিবেদককে আর কোনো বক্তব্য দেননি। মো. ইজাজুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকালের সময় প্রতিবেদককে বলেন, “হ্যাঁ, শাহজালাল আমার সংগঠনের এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য। ওই ডিপার্টমেন্টের অনেকগুলো ইস্যু থাকে। তবে তার বদলি স্বাভাবিক ছিল না। কিন্তু কর্তৃপক্ষ চাইলে ফিরাতে পারে। সেখানে সংগঠন কিছু করতে পারে না।” অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারি—অর্থ লেনদেনের বিষয়ে কেউ বলছে, এমন কোনো লেবেল থেকে কোনো তথ্য-প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে আপনি যা বলবেন আমি তা মেনে নেব।” তিনি আরও বলেন, “আমার জানা মতে বিমান লেভেলে তাকে ফিরিয়ে আনতে কোনো তদবির নেই। আর এখন সে নিজেই আসতে চাচ্ছে না বলে জানি। এসব তারই প্রতিপক্ষদের আন্দাজনির্ভর ছড়ানো হতে পারে। কারণ সে এলে তাদের ক্ষতি হতে পারে। তাই এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”
সামনে আসছে ২০২৫ সালের কার্গো-ঘটনাও
কে এম শাহজালালের তদবিরের অভিযোগ ওঠার আলোচনায় সামনে এসেছে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ও ৭ ডিসেম্বরের দুটি শিপমেন্টের মালামাল নিয়ে অনিয়ম বা হেরফেরের একটি পুরোনো কার্গো ঘটনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০২৫ সালের ওই তারিখগুলোতে কার্গো ভিলেজে দায়িত্ব পালনের সময় এ ঘটনা ঘটে। তাই দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। তবে এ ঘটনায় যে মালামালের ঘাটতি বা হেরফেরের বিষয় সামনে আসে তার প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, মালামালের ধরন কী, ঘাটতি বা হেরফেরের সুনির্দিষ্ট হিসাব কত এবং কে এম শাহজালালের সঙ্গে এর প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না—বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নের বিভিন্ন দিক এখনো রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ সকালের সময় প্রতিবেদককে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বদলি হয়ে থাকে।
প্রশাসনিক আদেশের এই ধারাবাহিকতা স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ১৩ জানুয়ারি বদলি আদেশের একদিনের ব্যবধানে সেই আদেশ স্থগিত হলো কেন, আবার জুলাইয়ে একই কর্মকর্তাকে সেই কক্সবাজারেই বদলির প্রয়োজনই বা কেন দেখা দিল? আর বদলি হওয়া এই কর্মকর্তাকেই আবার ঢাকায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা কেনইবা চলছে—এর পেছনে কারণই বা কী?
এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। পাশাপাশি ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ও ৭ ডিসেম্বরের কার্গোতে ঠিক কী ঘটেছিল, এ বিষয়ে কোনো তদন্ত হয়েছিল কি না এবং তদন্তে কী পাওয়া গিয়েছিল—সেটিও সংশ্লিষ্টদের কাছে এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে বদলি, স্থগিতাদেশ, পুনরায় বদলি এবং ঢাকায় ফেরানোর অভিযোগ—এই পুরো ধারাবাহিকতার নেপথ্যে আসলে কী রয়েছে, সেটিই এখন অনুসন্ধানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- চলমান
এমএসএম / এমএসএম
ডেমরায় নামজারি সিন্ডিকেটের দাপট
ভেটেরিনারি ডক্টরস' এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভ্যাব)-এর শোকবার্তা
কাস্টমসের বাধ্যতামুলক অবসরপ্রাপ্তদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি
ফেব্রিকের চালান, ভেতরে ১,৬৫৫ দামি মোবাইল জব্দ
বদলি-স্থগিতের পর ফের ঢাকায় ফেরার চেষ্টা
মাতৃবাংলা আইনজীবী সমবায় সমিতির নতুন কমিটি গঠন
তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন অফিসে দুদকের অভিযান
২০ দেশের অংশগ্রহণে ২৯ অক্টোবর ঢাকায় বসছে আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা
সড়ক দুর্ঘটনায় বিএসটিআই কর্মকর্তা শেখ মিশার মৃত্যু
রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় চাকরি হারানোর অভিযোগ মিরপুর গার্লসের শিক্ষিকার
লুঙ্গির কোচের টাকাই কাল হলো ইসমাইলের, গ্রেপ্তার ৩
তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে দুদকের অভিযান