চট্টগ্রামে রেলের জলাশয়ে জুয়ার আসর, মৌন সম্মতি
চট্টগ্রামে রেলওয়ের মালিকানাধিন ভেলুয়ার দিঘিতে বড়শি প্রতিযোগিতার নামে বড় আকারের জুয়ার আসর বসানো হয়েছে। ৩০ লাখ টাকার ১৭টি পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে প্রতি টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। বেআইন এই কার্যক্রম চালাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ম্যানেজ করা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সবুর লিটন স্থানীয় কতিপয় বিএনপি নেতার সহায়তায় এই অপকর্মের মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থের বড় একটি অংশ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও সূত্র দাবি করছে। আর এই অপকর্ম বন্ধে একটি চিঠি ইস্যু করে দায় সারছে রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগ, তবে এই জুয়ার আসরে রেলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৌন সম্মতি আছে বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, দিঘিটি ২০২১ সালে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক প্যানেল মেয়র আব্দুস সবুর লিটন তার ভাই আব্দুল মান্নান খোকনের নামে ইজারা গ্রহণ করে। তখন থেকেই নিয়মিত জুয়ার আসর বসিয়ে পাবলিকের পকেট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সেই লোভ ছাড়তে না পেরে এবার স্থানীয় কতিপয় বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় আবারো এই ধান্দা শুরু করেছেন। তবে আগের প্রতি টিকিটের মূল্য ৪০ হাজার টাকা থাকলেও এবার অনেককেই ভাগ দিতে হবে বলে প্রতি টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা।
সূত্র জানায়, ১৩.৭৪ একর আয়তনের এই জলাশয়টি রেলের ২য় বৃহত্তম দিঘি। এখানে লিজের শর্ত ভেঙে বড়শি প্রতিযোগিতার নামে ১১২ টি সিট বানানো হয়েছে। মাসে চার দিন (প্রতি শুক্রবার) এই খেলা চালানোর জন্য সপ্তাহে একদিনের জন্য ৮৪ লাখ, মাসে প্রায় সাড়ে ৩ আর বছরে ৪০ কোটি টাকা অনৈতিকভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে আব্দুস সবুর লিটন চক্র। প্রতিযোগিতার পুরস্কার ও আনুসাঙ্গিক খরচ ছাড়াও স্থানীয় পাতি নেতা এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে কিছু সম্মানি দিয়ে বাকি টাকাটা পলাতক লিটেনের কাছে পাঠানো হবে বলে সূত্র দাবি করছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (সিইও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. লুঃফুর রহমান বলেন, রেলের জলাশয়ে বড়শি প্রতিযোগিতার নামে জুয়া খেলা সম্পূর্ণ বেআইনি। এটা ইজারা শর্ত ভঙ্গ, কিছুতেই এমন অপকর্ম চলতে দেওয়া হবে না।
এবিষয়ে বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (ডিইও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, বড়শি প্রতিযোতিার নামে জুয়া বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিইও অফিস থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সদর কাচারি আমিন ও কানুনগোর প্রতিবেদন এবং নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, লাইসেন্সী জনাব আব্দুল মান্নান খোকন, ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর তারিখ থেকে চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত বৈধ লাইসেন্সি। পুকুরটিতে অবৈধভাবে বড়শি প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। সদর কাচারীর ফিল্ড কানুনগো/আমিন মৌখিকভাবে বাধা প্রদান করেন। বড়শিতে মাছ ধরার আয়োজন, টিকিট বিক্রি এবং জুয়ার আসর বসানো লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের সামিল। যেহেতু বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি নীতিমালা” ২০২০ এর আলোকে মৎস্য লাইসেন্সের চুক্তিপত্র লঙ্গন করা হয়েছে। চুক্তিপত্রের ১নং শর্ত হতে ২৫ নং শর্তে কোন মৎস্য লাইসেন্সী মৎস্য লাইসেন্সে বড়শি প্রতিযোগিতা/জুয়া করা যাবে না। তবুও লাইসেন্সী কর্তৃক বড়শি প্রতিযোগীতা বা প্রাইজমানির টিকেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাহা অতি দ্রুত রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনী/স্থানীয় প্রসাশনের মাধ্যমে উক্ত বড়শি প্রতিযোগিতা/ জুয়া বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রেলওয়ের সম্পত্তিতে অনিয়ন্ত্রিত জনসমাগম সৃষ্টি হয়ে বিশৃঙ্খলা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং অনাকাঙিক্ষত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে পুকুরের পাড়ে অতিরিক্ত মানুষের অবস্থানের কারণে দুর্ঘটনা, মারামারি/বিরোধ, রেলওয়ের সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং পরিবেশের ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে। অতিদ্রুত তা বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এই চিঠি আরএনবি, রেলের ডিজি, পূর্বাঞ্চলের জিএম, প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (পূর্ব), চিফ কমানডেন্ট আরএনবি, বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) চট্টগ্রাম, ওসি ডবলমুরিং থানা, পাহাড়তলী থানা ও জিআরপি চট্টগ্রামকে (বড়শি প্রতিযোগিতা তথা জুয়া বন্ধ করার প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলা হয়েছে।
সূত্র জানায় এই চিঠি ইস্যুর পর আরএনবি সদস্যরা বড়শি প্রতিযোগিতার নামে জুয়া বন্ধে মাইকিং করলেও রহস্যজনক কারণে রাতেই পরিস্থিতি জুয়ার অনুকূলে চলে যায় এবং কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিনব্যাপী চলে জুয়ার কার্যক্রম।
সূত্র জানায় আরএনবির মাইকিংয়ের পর কতিপয় বিএনপির নেতা লিটনের পক্ষ নিয়ে রেলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে তদবীর করার পর সবকিছু পাল্টে যায়। ফলে এই জুয়ার আসরে রেলের মৌন সম্মতি আছে বলেও মনে করছেন অনেকে।
এবিষয়ে জানতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহা ব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীনকে একাধিকবার মোবাইলে কল ও একাধিক বার্তা দিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে আওয়ামী লীগ নেতা লিটনের পক্ষে চট্টগ্রামের কয়েকজন বিএনপি নেতা জিএম এর সাথে যোগাযোগ করেছিলেন বলে বিশ্বস্ত সূত্র দাবি করছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) মো. মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইঞা বলেন, বড়শি প্রতিযোগিতার নামে জুয়া বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি খবর নিয়ে দেখছি।
এমএসএম / এমএসএম
সিংড়ায় প্রশাসনের অভিযানে ৪ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস
উখিয়ায় ডুবন্ত কাঠের ক্যারিয়ারসহ ইয়াবা উদ্ধার, অস্ত্র-গুলিসহ আটক ৩
অভয়নগরে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, র্যালি ও মহড়া
ডিম উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু
উলিপুরে আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
অসুস্থতার কথা বললেন অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি, চিকিৎসক বললেন ঠিক আছেন
সাপ্তাহিক দেশজনতার কথার উদ্যোগে 'মধূ শিক্ষা নিকেতনে' মেধাবীদের মাঝে শিক্ষা উপকরন বিতরন
হাটহাজারীতে দূর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে চালক, যাত্রী ও পথচারীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান এসএমপি কমিশনারের
রাজস্থলীতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
জয়পুরহাটে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
আদমদীঘিতে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত