ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

টাঙ্গাইলে খাল দখল করে পৌরসভার ৭ মার্কেট : অস্তিত্ব সংকটে শ্যামা বাবুর খাল


রাশেদ খান মেনন, টাঙ্গাইল photo রাশেদ খান মেনন, টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ১৫-৮-২০২৬ বিকাল ৬:৪
 টাঙ্গাইলে খাল দখল করে  পৌরসভার ৭ টি মার্কেট হয়েছে, অস্তিত্ব সংকটে শ্যামা বাবুর খাল। শ্যামা বাবুর খালের অস্তিত্ব বর্তমানে খুঁজে পাওয়াই কঠিন। শতবর্ষী যে খালটি এতদিন পন্য পরিবহন, পানি নিষ্কাশন করে টাঙ্গাইল শহরের প্রাণ রক্ষা করে আসছিল, সেই শ্যামা বাবুর খাল নিজেই আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে! দখল দুষণে খালটিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়ে শহরবাসী এখন নিজেরাই বিপদে পড়েছে। জলাবদ্ধতা যেন তাদের নিত্যসঙ্গী। প্যারাডাইস পাড়া খাদ্য গুদামের কাছে লৌহজং নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে খালটি শহরকে উত্তর-দক্ষিণে ভাগ করে পূর্ব প্রান্তের বিল ঘারিন্দায় গিয়ে পানি প্রবাহিত হতো। তবে বিভিন্ন সময়ে খালের বিভিন্ন অংশ দখল করে টাঙ্গাইল পৌরসভার  বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, অনুমোদনহীন ব্যক্তিগত বহুতল ভবন সহ স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছে। জানা যায়, শ্যামা বাবুর খালটি ছিল কৃত্রিমভাবে খনন করা একটি খাল। ১৯০০ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রানি ভিক্টোরিয়ার সিংহাসনে আরোহণের সম্মানে টাঙ্গাইল মহকুমার প্রধান সড়ক ভিক্টোরিয়া রোড তৈরির জন্য খালটি খনন করা হয়। ১৯৮৮ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যার পর ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশের জন্য প্রণীত ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় কম্পার্টমেন্টালাইজেশন পাইলট প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হয়। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ১৯৯৬ সালে শ্যামা বাবুর খালকে ড্রেনে রূপান্তর করা হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় খালের জায়গা দখলের প্রতিযোগিতা। শ্যামনগরে খাল দখল নিয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র জামিলুর রহমান মিরন ২০০৩ সালে টাউন প্রাইমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ভিক্টোরিয়া রোডের পাশে খালের জায়গার ওপর প্রথম ক্যাপসুল মার্কেট নির্মাণ করেন। পরে সেটির নামকরণ করা হয় শওকত আলী তালুকদার পৌর সুপার মার্কেট। এরপর পর্যায়ক্রমে শামছুল হক মার্কেট বা ভিক্টোরিয়া ফুডজোন, শামসুর রহমান খান পৌর মার্কেট, পৌর সুপার মার্কেট, পৌর সুপার মার্কেট-১, পৌর সুপার মার্কেট-২ এবং পৌর সুপার মার্কেট-৩ নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি খালের জায়গা দখল করে ফায়ার সার্ভিস মার্কেট ১ ও ২ গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়াও পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অনুমোদনহীন বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন খালের জায়গায় নির্মাণ হয়েছে। খালের প্রবেশমুখ প্যারাডাইস পাড়া খাদ্য গুদামের কাছে খালের জায়গা দখল করে আল মাদরাসাতুল আরাবিয়্যাহ মার্কাস মাদ্রাসা নির্মাণ করা হয়েছে। এর পূর্ব দিকে আরও গড়ে উঠেছে মুক্তিযোদ্ধা ভবন, প্যারাডাইস পাড়া পূজা মণ্ডপ এবং পার্ক বাজারের পাইকারি বাজার। খালের মাঝামাঝি, অর্থাৎ শহরের গুরুত্বপূর্ণ অংশে সিডিসি শপিং কমপ্লেক্স, সিডিসি ক্লাব, বই মার্কেট'সহ আরও অনেক স্থাপনা তৈরি হয়েছে। এতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভিক্টোরিয়া রোড সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে যানবাহনের চাপে ভিক্টোরিয়া রোডে সব সময় ট্রাফিক জ্যাম থাকছে।
এদিকে দখলে দখলে খাল ড্রেনে পরিণত  হওয়ার পরিণতি ইতিমধ্যেই ভোগ করতে শুরু করেছে এলাকাবাসী। আগে এই খালের মাধ্যমেই শহরের বৃষ্টির পানি লৌহজং নদী ও বিল ঘারিন্দায় গিয়ে পড়ত। খালটি দখল হওয়ার পর বৃষ্টি হলেই এখন টাঙ্গাইল শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। দখলের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্যারাডাইস পাড়ার সুবল গৌড় ও হারাধন শীল বলেন, “কয়েক যুগ আগে নৌকা যোগে লৌহজং নদী হয়ে শ্যামা বাবুর খাল দিয়ে শহরের নিরালা মোড়ে ব্যবসায়ীরা আসতেন। সেই খালটি এখন ড্রেনে পরিণত হয়েছে। পচা পানির দুর্গন্ধে খালের পাশ দিয়ে হাঁটাচলাই দায়। অবিলম্বে খালটি উদ্ধারের জোর দাবি জানাচ্ছি।” টাঙ্গাইল জেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূর মোহাম্মদ রাজ্য বলেন, দূষণও দখলে খালটি তার অস্তিত্ব হারানোর শেষ পর্যায়ে। এ বিষয়ে দুদুক এ একটি গন শুনানি করেছি। খালটি উদ্ধার করে খননের জন্য জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় এমপি মহোদয়ের মাধ্যমে স্মারকলিপি সরকার প্রধানের নিকট প্রস্তাবনা আকারে পাঠিয়েছি। আশা করি  সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খাল গুলোকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বলেন, “খালটি কোনোভাবে উদ্ধার করা যায় কি না, সে বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একদল বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলছেন। আশা করা যায়, খুব দ্রুতই খালটি উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু করা যাবে।”
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা'র বিভাগীয় কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র চন্দ বলেন, “খালের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি ও অবৈধ। নদী, খাল, বিল ও জলাশয় উদ্ধারে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। এ ছাড়া হাইকোর্টের দিকনির্দেশনাও আছে।” তিনি অবিলম্বে শ্যামা বাবুর খাল উদ্ধারে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইন উদ্দিন বলেন, “টাঙ্গাইল সদরের ৭টি খাল বর্তমানে খনন প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে, তার মধ্যে শহরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শ্যামা বাবুর খালও রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব খালটি দখলমুক্ত করে খননের কাজ শুরু করা হবে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।
টাঙ্গাইল পৌরসভার পৌর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবো। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলবো। পৌরসভার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়গুলো জানবো। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে, আপনাদেরকেও বিষয়টি অবহিত করতে পারবো। 

এমএসএম / এমএসএম

মাগুরায় ৩৫১ কাঁচা রাস্তা গেজেটভুক্ত, দ্রুত পাকাকরণের প্রত্যাশা

মাগুরায় ৩৫১ কাঁচা রাস্তা গেজেটভুক্ত, দ্রুত পাকাকরণের প্রত্যাশা

বাগেরহাটে ব্র্যাকের উদ্যোগে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উযযাপন, বিনামুল্যে আই ক্যাম্প পরিচলনা

পাঁচবিবিতে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও অসহায় ব্যক্তিকে হুইল চেয়ার বিতরণ

পিরোজপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জামায়াতের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও লিফলেট বিতরণ

কৃষকের জমি দখল করে মাছ চাষের অভিযোগ

নড়াইলে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারের

রূপগঞ্জে ফরটিস গ্রুপের বিরুদ্ধে জমি দখলের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

ধামরাইয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান

কুড়িগ্রামে সিএনজি চলাচলের অনুমতির দাবিতে চালকদের সড়ক অবরোধ

গজারিয়ায় শারদীয় দূর্গাপূজা২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুুতিমুলক সভা

পেকুয়ায় শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা