ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

নেছারাবাদে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারি জালের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান, বিপুল পরিমাণ জাল জব্দ ও ধ্বংস


বদরুজ্জামান সুজন, নেছারাবাদ photo বদরুজ্জামান সুজন, নেছারাবাদ
প্রকাশিত: ২১-৮-২০২৬ দুপুর ৪:০

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল, ডোবা ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারি জালের অবাধ ব্যবহারের বিরুদ্ধে অবশেষে সমন্বিত অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন জলাশয়ে অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারি জাল জব্দ করা হয় এবং পরে তা জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। দীর্ঘদিন পর নিষিদ্ধ এই জালের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় এটিকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, সাধারণ জেলে ও সচেতন মহল।

এর আগে গত ২৩ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ‘প্রজনন মৌসুমে চায়না জালের ফাঁদে দেশীয় মা মাছ ও পোনা’ শিরোনামে একটি বিশেষ অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বর্ষা মৌসুমে নেছারাবাদের খাল-বিল ও জলাবদ্ধ ফসলি জমিতে সূক্ষ্ম ফাঁসের চায়না জাল ব্যবহারের ফলে ডিমওয়ালা মা মাছ, রেণু-পোনা এবং জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, প্রজনন মৌসুমে এসব ক্ষতিকারক জাল পেতে মাছ ধরার কারণে শুধু দেশীয় প্রজাতির মাছই নয়, বিভিন্ন ধরনের জলজ প্রাণীও বিলুপ্তির মুখে পড়ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এসব নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযানের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার পরিচালিত অভিযানে নেছারাবাদ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাল ও বিলে একযোগে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকারক চায়নাদুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত এসব জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। অভিযানে উপস্থিত থেকে নেছারাবাদ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারিয়া কনক বলেন, “নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারি জাল ব্যবহারের কারণে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ও জলজ প্রাণী অকাতরে ধরা পড়ছে। এতে প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয়ে আমাদের এই অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে এবং নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারকারী ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দীর্ঘদিন পর পরিচালিত এই অভিযানের পর স্থানীয় সাধারণ জেলে ও কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। স্থানীয় প্রবীণ জেলে বাবুল ও কৃষক আতাহার জানান, আগে বর্ষায় খাল-বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত, কিন্তু এখন চায়না জালের কারণে ছোট মাছ বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। প্রশাসনের এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে তাঁরা অভিযানটি নিয়মিত পরিচালনার দাবি জানান। এদিকে স্থানীয় মাছ বিক্রেতারাও জানান যে টেংরা, পুঁটি, খলিশা, কৈ, শিং, মাগুর, টাকি ও দেশীয় চিংড়ির সরবরাহ আগের তুলনায় আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। তবে সঠিক সময়ে মা মাছ ও পোনা সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের উৎপাদন আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, শুধু জলভাগে অভিযান নয়, বরং এসব নিষিদ্ধ জাল কোথা থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং বাজারে কারা বিক্রি করছে—সেসব মূল উৎসেও কঠোর আইনি নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

এমএসএম / এমএসএম

পর্যটন ও পরিবেশ সুরক্ষায় কুয়াকাটায় তারুণ্যের উৎসব

পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নাই,চাল আসবাবপত্র সব পুড়ে ছাই

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে শালিখা থানা পুলিশের মোটরসাইকেল মহড়া

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের অধিগ্রহণের চেক বিতরণ

এসি বাস চালু হতেই ফের বাধা, বাঁশখালীতে আটকে দেওয়া হলো এসআর পরিবহনের দুই এসি বাস

কুমিল্লা কবি পরিষদের দাউদকান্দি শাখার সভাপতি আমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক শাকিল সরকার

সুবর্ণচরে কৃতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

গোপালগঞ্জে সাইফুর রহমান নান্টুর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কক্সবাজার জেলা ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

সুবর্ণচরে কৃতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

নড়াইলে প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণে নড়াগাতী রিপোর্টার্স ইউনিটির সাথে বৈষম্যের অভিযোগ

ঈমান আমল ছাড়া জান্নাত পাওয়া যায় না --মুফতি আরশাদ ইদ্রিস

দাশিয়ারছড়া সমন্বয় পাড়া উচ্চবিদ্যালয়: এক দশকেও কাটেনি সংকট, শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন