ঢাকা রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬

তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৮০ দিন পেরিয়ে জনগণের সরকার


আব্দুর রউফ photo আব্দুর রউফ
প্রকাশিত: ২৩-৮-২০২৬ বিকাল ৫:২৫

দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে এক নতুন ভোরের সূর্য উঠেছিল বাংলাদেশে। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং অভূতপূর্ব জনরায়ের ওপর ভর করে গঠিত বিএনপি সরকার দায়িত্ব পালনের ১৮০ দিন অতিক্রম করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ যে নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যাত্রায় পা বাড়িয়েছে, তা কেবল ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সুশাসন, ন্যায়বিচার ও আধুনিকতার নতুন এক রূপরেখা। একটি চরম ভঙ্গুর অর্থনীতি, প্রশাসনিক স্থবিরতা, বিপুল ঋণের বোঝা ও বিভাজিত সামাজিক কাঠামোর ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছিল নতুন এই সরকারকে।

তবে গত ৬ মাসে নেওয়া একের পর এক বাস্তবমুখী ও বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছে, সঠিক রাজনৈতিক ইচ্ছা এবং সুদৃঢ় মানসিকতা থাকলে একটি দেশকে কতটা দ্রুত অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ও সামাজিক সুরক্ষার সঠিক পথে ফেরানো সম্ভব।  সরকারের এই অর্ধবার্ষিক পথচলায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রীয় আচরণের দর্শনে। দীর্ঘদিনের ব্যক্তিত্ববন্দনা, ক্ষমতার দম্ভ এবং রাজনৈতিক হিংসা-প্রতিহিংসার যে চর্চা রাষ্ট্রকে কুরে কুরে খাচ্ছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম দিন থেকেই সেই সংস্কৃতিকে কঠোরহস্তে নির্মূল করার পদক্ষেপ নিয়েছেন। সরকারি বা বেসরকারি কোনো ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, রাষ্ট্রীয় কার্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অপ্রয়োজনীয় ছবি টাঙানোর অপসংস্কৃতি বন্ধ করা এবং মন্ত্রী-আমলাদের অযাচিত রাজকীয় সুযোগ-সুবিধা ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত দেশে এক অভাবনীয় বার্তা দিয়েছে। প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে তিনি ধৈর্য ও সহনশীলতার নতুন পথ উন্মোচন করেছেন, যা দেশের সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে এক গভীর স্বস্তি ও আস্থার সঞ্চার করেছে।

 প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জট কাটাতে ও আমলাতন্ত্রে মেধাভিত্তিক স্বচ্ছতা ফেরাতে সরকার অভূতপূর্ব কড়াকড়ি ও সংস্কারের নীতি গ্রহণ করেছে। বিতর্কিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল, সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা অর্ধেক করে ফেলা, শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা তুলে নেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশি ভ্রমণ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে রাষ্ট্রের অপচয় বন্ধের নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে (বিপিএসসি) রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে নতুন নিরপেক্ষ নেতৃত্ব প্রদান এবং সরকারি দপ্তরগুলোর হাজার হাজার শূন্য পদে মেধানির্ভর নিয়োগপ্রক্রিয়া বেগবান করা হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের সুবিধাবঞ্চিত ও হতাশ যুবসমাজের সামনে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।  অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া '৩আর' (রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন) কৌশল আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়েছে।

বিগত শাসনের রেখে যাওয়া উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি ও বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকট সামাল দিয়ে দেশে আজ অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ফিরে আসছে। সুপরিকল্পিত নীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, আর বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করে এক শক্তিশালী ভিত্তির ওপর গিয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ায় নিট সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৭৮ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় স্থানে উন্নীত করেছে।  দেশের ইতিহাসে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য পাস হওয়া ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে কেবল সংখ্যা বা পরিসংখ্যানের ফ্রেমে আটকে না রেখে একটি খাঁটি 'জীবনবান্ধব বাজেট' হিসেবে রূপ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি স্বস্তি আনতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর থেকে কর ও শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের অর্থনৈতিক নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ করে দিতে করমুক্ত আয়ের সীমা এক লাফে চার লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারকারীদের রুখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে আইনি উদ্যোগ নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারকারী সংস্থার সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করা প্রমাণ করে যে, লুণ্ঠিত সম্পদ ফেরাতে বর্তমান সরকার কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

 দেশের সর্বসাধারণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মুখে হাসি ফোটাতে সামাজিক সুরক্ষার যে বিশাল ছাতা উন্মোচন করা হয়েছে, তা দেশের ইতিহাসের এক অনন্য মাইলফলক। 'ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক'Ñএই দর্শনকে বাস্তব রূপ দিতে চালু করা হয়েছে স্বপ্নের 'ফ্যামিলি কার্ড'। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যেই সফলভাবে এই কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের গৃহিণী ও নারীপ্রধানদের হাতে সরাসরি প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে পৌঁছে যাচ্ছে। এটি কেবল এককালীন আর্থিক সাহায্য নয়, বরং নারীর ক্ষমতায়ন এবং একটি পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা সুসংহত করার যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আগামী কয়েক বছরে চার কোটির বেশি পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার যে সুদূরপ্রসারী নকশা তৈরি হয়েছে, তা টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামোর মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।  কৃষি ও কৃষককে বাঁচাতে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লব ঘটিয়েছে। দেশের প্রতিটি কৃষকের আত্মপরিচয় ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা সরাসরি নিশ্চিত করতে আধুনিক 'কৃষক কার্ড' চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সার, বীজ, সেচ ও উন্নত কৃষিযন্ত্রের প্রণোদনার টাকা সরাসরি কৃষকের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ওপর থেকে ঋণগ্রস্ততার করুণ বোঝা কমাতে ফসল, গবাদিপশু ও মৎস্য খাতের ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে, যা দেশের কোটি কৃষক পরিবারকে এক নতুন জীবনের আলো দেখিয়েছে। কৃষিপণ্য পচন থেকে রক্ষা করতে হাজার হাজার বায় প্রবাহ সংরক্ষণ যন্ত্র ও আধুনিক মডেল সংরক্ষণাগার নির্মাণের ফলে মাঠের কৃষকের ঘাম ঝরানো ফসলের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হচ্ছে।

 জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পানির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে অভূতপূর্ব কাজ সম্পন্ন করেছে সরকার। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে এবং কৃষি জমিতে নিরবচ্ছিন্ন সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী নদী ও খাল পুনঃখননের যে মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, তার সুফল ইতিমধ্যেই মিলতে শুরু করেছে। মাত্র ৬ মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল সফলভাবে পুনঃখনন করা হয়েছে, যা বর্ষার পানি নিষ্কাশন ও শুষ্ক মৌসুমে সেচের অপার সুযোগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি যুগের পর যুগ আটকে থাকা কৌশলগত তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ফলে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের পানি ও কৃষি নিরাপত্তা চিরতরে সুসংহত হওয়ার পথে। বর্তমান খাদ্য গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের ইতিহাসসেরা ২৪ লাখ টনেরও বেশি মজুত কেবল বাজারকে স্থিতিশীল রাখেনি, বরং যেকোনো বৈশ্বিক বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশের মানুষের পেট ভরানোর সবচেয়ে শক্ত ভরসা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।  শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের গুণগত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। শিক্ষাখাতে এক লাফে ৫৬.৬ শতাংশ বরাদ্দ বাড়িয়ে জাতীয় বাজেটের বড় একটি অংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। মেয়েদের ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর থেকে অতিরিক্ত কর তুলে নেওয়া, দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় বিনামূল্যে বাস সার্ভিস চালু করা এবং দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে ছেলে ও মেয়েদের জন্য দুটি করে সর্বাধুনিক মডেল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা দেশের শিক্ষা ধারণাকেই বদলে দিচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষকদের হাতে প্রযুক্তি তুলে দিতে 'ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব' কর্মসূচি এবং সব স্কুলে দ্রুতগতির ওয়াই-ফাই সেবা চালুর মাধ্যমে ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে, বিগত চার বছর ধরে আটকে থাকা দেশের হাজার হাজার বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার বকেয়া টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠায়ে দেওয়ার উদ্বোধন শিক্ষকদের প্রতি নতুন সরকারের গভীর শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীলতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।  স্বাস্থ্যখাতে 'প্রতিরোধই প্রতিকারের চেয়ে উত্তম'Ñএই নীতিকে সামনে রেখে দেশে এক বিশাল পরিবর্তন সূচিত হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ দূর করতে ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, পেসমেকার, ক্যানসারের ওষুধ ও চোখের লেন্সের মতো জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর থেকে সব ধরনের ভ্যাট ও কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি করে 'ই-হেলথ কার্ড' চালুর প্রক্রিয়ার পাশাপাশি গ্রাম ও শহরের মধ্যবর্তী সংযোগ তৈরি করতে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা এবং ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস ইউনিট যুক্ত করার কাজ চলছে। ১ লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের বিশাল প্রক্রিয়া, যার ৮০ শতাংশই নারী, দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে প্রতিটি ঘরের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে শুরু করেছে।  ঝুঁকি ও বিশৃঙ্খলায় আচ্ছন্ন শিল্প ও শক্তি খাতকে নতুন জীবন দিতে পেরেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ইজারা দিয়ে বেসরকারি খাতে সচল করার মাধ্যমে হাজার হাজার ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকের মুখে হাসি ও কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতবিহীন ৪ শতাংশ সুদে ৫০০ কোটি টাকার 'স্টার্ট-আপ ফান্ড' গঠন এবং প্রশিক্ষিত যুবকদের মাঝে দ্রুততম সময়ে বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণ দেশে নতুন কর্মসংস্থানের জোয়ার এনেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুবিধার জন্য বিডা, বেজা ও অন্যান্য সংস্থা একীভূত করে 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ' আইন ও সিঙ্গেল উইন্ডো চালুর ফলে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ জটিলতা চিরতরে বন্ধ হয়েছে। জ্বালানি খাতে জাতীয় রুফটপ সোলার ও নবায়নযোগ্য শক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে শত শত মেগাওয়াট পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে, যা পরিবেশ সুরক্ষার সাথে সাথে বিদ্যুতের সংকট নিরসনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

পররাষ্ট্রনীতিতে 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতির বাস্তবায়ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তিকে এক নতুন উচ্চতায় বসিয়েছে। কূটনৈতিক সম্পর্কের সমতা বজায় রেখে চীন ও মালয়েশিয়ার মতো পরাশক্তি ও মিত্র দেশগুলোর সাথে ঐতিহাসিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। জাতিসংঘের মতো সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব জোরদার হওয়া এবং শান্তিরক্ষা মিশনে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হওয়া প্রমাণ করে যে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ আজ স্বমহিমায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় 'প্রবাসী কার্ড' চালু, বন্ধ থাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক শ্রমবাজারগুলোকে পুনর্গঠন করে পুনরায় চালু করা এবং আন্তর্জাতিক রুটে জাতীয় বিমান সংস্থার নতুন নতুন সরাসরি ফ্লাইট চালু প্রবাসীদের মর্যাদাকে বহুমিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।  তবে প্রথম ১৮০ দিনের এই বিস্ময়কর অগ্রযাত্রার উজ্জ্বল আলোর পাশাপাশি সরকারের সামনে রয়েছে এক কঠিন ও বাস্তব চ্যালেঞ্জের পর্বত। বিগত দেড় দশকের চেপে বসা প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের জট কয়েক মাসে পুরোপুরি খুলে ফেলা কোনো রূপকথার গল্প নয়।

বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আকস্মিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং প্রান্তিক পর্যায়ে পুষ্টিহীনতা দূর করার চ্যালেঞ্জ এখনো বেশ প্রকট। স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে যে সুদূরপ্রসারী সংস্কার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতির কারণে মাঠপর্যায়ে তা শতভাগ সুষমভাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করা সময়সাপেক্ষ। একই সাথে অসাধু বাজার সিন্ডিকেটকে পুরোপুরি নির্মূল করে খুচরা বাজারে দ্রব্যমূল্যের প্রভাব একদম শূন্যে নামিয়ে আনা এবং ব্যাংক ব্যবস্থার খেলাপি ঋণের ঐতিহাসিক বোঝা পুরোপুরি মুক্ত করা সরকারের জন্য এক মহা অগ্নিপরীক্ষা।  রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির শতভাগ সংস্কার সাধন এবং সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান আশা ও আকাক্সক্ষার সাথে গতি মিলিয়ে দেশ পরিচালনা করাটাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় কৌশলগত পরীক্ষা। কিন্তু বিগত ১৮০ দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার যে সততা, দূরদর্শিতা, সামাজিক সংবেদনশীলতা ও কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা দেখিয়েছে, তা দেশের ১৮ কোটি মানুষের মনে এই বিশ্বাস দৃঢ় করেছে যেÑভুল-ত্রুটি ও নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ আজ অবক্ষয় ও অন্ধকারের গহ্বর থেকে বেরিয়ে এক সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও বিশ্বমানের শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তোলার সঠিক ও নির্ভুল পথে ধাবমান।

এমএসএম / এমএসএম

ডেঙ্গুতে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯

‘হ্যালো ডিসি’তে এক মাসে সেবা পেলেন ২০৯১ জন

তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৮০ দিন পেরিয়ে জনগণের সরকার

সাংবাদিক দম্পতি শাকিল-ফারজানার সম্পদের হিসাব তলব দুদকের

অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত

হামের উপসর্গে আরো ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১২২৮

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে ফিলিস্তিনের অভিনন্দন

স্লিপার বাস বন্ধ হলে ২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়বে

রাষ্ট্রপতিক অ‌ভিনন্দন জা‌নিয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করার বার্তা জাপানের

স্লিপার বাস নিয়ে মালিকদের সঙ্গে বসবে বিআরটিএ : চেয়ারম্যান

বিমান ও পর্যটন খাতে গতি আনতে চান নতুন মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত

বিটুমিন সরবরাহে হয়রানি, যমুনা অয়েলের জিএমের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

মান ঠিক রেখে মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী