রংপুরে শিক্ষকসহ চারজনকে হত্যা : নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি মহিলা পরিষদের
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গভীর শোক, উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (২৩ আগস্ট) এক বিবৃতিতে মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, রংপুরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০) এবং তাদের দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার রাতে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মহিলা পরিষদ মর্মাহত এবং গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
সংগঠনটি বলছে, দেশে নারী ও শিশুসহ সার্বিক হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে তারা উদ্বিগ্ন। এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অপরাধের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
মহিলা পরিষদের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক স্কুলশিক্ষক যোগেশ চন্দ্র রায়কেও তার স্ত্রীসহ নিজ বাসায় হত্যা করা হয়েছিল। ওই সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল। রংপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাটিকেও প্রাথমিকভাবে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে বিবেচনার এক ধরনের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
তবে রংপুরে চারজনকে হত্যার ঘটনায় রোববার পুলিশ নতুন তথ্য দিয়েছে। রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকেও হত্যা করা হয়। হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে ঘরের জিনিসপত্র ছড়িয়ে ডাকাতির নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
মহিলা পরিষদ বলেছে, একটি পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধের পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা গভীরভাবে অনুসন্ধান করা জরুরি। বিশেষ করে, দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নানা ধরনের উদ্বেগ ও শঙ্কা রয়েছে-এমন পরিস্থিতিতে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডকে কোনোভাবেই শুধু ডাকাতির ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
সংগঠনটির মতে, এ ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে, বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের আসামিরা কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং তা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের ধরন, ঘটনার পরিস্থিতি, নিহতদের সামাজিক ও পারিবারিক অবস্থান এবং তাদের ধর্মীয় পরিচয়সহ সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব অপরাধীকে চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মহিলা পরিষদ একই সঙ্গে দেশে নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে।
aliul / aliul
নারী ভোটার ৪৯ শতাংশ, প্রতিনিধিত্ব ২.৩ শতাংশ
এনএসআইয়ের পরিচালক হলেন পুলিশের দুই ডিআইজি
নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ঢাকা উত্তরের মেয়র হবেন সেলিম উদ্দিন : গোলাম পরওয়ার
ডিএনসিসির প্রধান সড়কে ডেকোরেটিভ পোল স্থাপন করা হবে : প্রশাসক
রংপুরে শিক্ষকসহ চারজনকে হত্যা : নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি মহিলা পরিষদের
সব ধর্ম ও মতের মানুষ যাতে কথা বলতে পারে সে ব্যাপারে চেষ্টা থাকব
প্রধানমন্ত্রীর হাতে যোগদানপত্র দিলেন জহির উদ্দিন স্বপন
ডেঙ্গুতে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯
‘হ্যালো ডিসি’তে এক মাসে সেবা পেলেন ২০৯১ জন
তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৮০ দিন পেরিয়ে জনগণের সরকার
সাংবাদিক দম্পতি শাকিল-ফারজানার সম্পদের হিসাব তলব দুদকের
অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত