উপকূলে খাবার পানিতে লবণাক্ততা, হৃদরোগের ঝুঁকিতে প্রতি পাঁচজনে একজন
দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে খাবার পানির উৎসে লবণাক্ততার উচ্চমাত্রা এবং মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে এক গবেষণায়। খুলনার কয়রা উপজেলায় জরিপ করা খাবার পানির ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ উৎসে লবণাক্ততা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে কয়রা ও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ৪০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী মানুষের ২১ দশমিক ৬ শতাংশের আগামী ১০ বছরে অন্তত ১০ শতাংশ হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে বলে গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীতে আইসিডিডিআর,বি-এর সাসাকাওয়া মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে খাবার পানির লবণাক্ততা এবং স্বাস্থ্য : প্রমাণ, অভিযোজন এবং নীতিগত সমাধান’ শীর্ষক সেমিনারে গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। আইসিডিডিআর,বি ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন যৌথভাবে গবেষণাটি পরিচালনা করেছে।
গবেষণায় খুলনার কয়রা উপজেলার ৭১টি কমিউনিটি ক্লিনিকের আওতাধীন ১৭২টি গ্রাম এবং তুলনামূলক এলাকা হিসেবে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার পানির উৎস মূল্যায়ন করা হয়। দুই উপজেলায় মোট ২৭ হাজার ৬৯৭টি পানির উৎস জরিপ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৭০৩টি বা ২৪ দশমিক ২ শতাংশ উৎস খাবার পানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এসব উৎসের মধ্যে কয়রায় ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং আশাশুনিতে ২৩ দশমিক ৩ শতাংশে লবণাক্ততা পাওয়া গেছে।
গবেষণায় দুই উপজেলার ৪০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী ১৫ হাজার ৪৭১ জন প্রাপ্তবয়স্কের হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। তাদের ২১ দশমিক ৬ শতাংশের আগামী ১০ বছরে অন্তত ১০ শতাংশ হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে। কয়রায় এ হার ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং আশাশুনিতে ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
তবে গবেষণায় খাবার পানির লবণাক্ততা সরাসরি হৃদরোগের কারণ এমন কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। গবেষকেরা খাবার পানিতে থাকা সোডিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান এবং এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।
গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে পানি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে একীভূত করে সমন্বিত কার্যক্রম নেওয়ার উদ্যোগ হয়েছে। এর আওতায় কম লবণাক্ত খাবার পানির প্রাপ্যতা বাড়ানো, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পানির উৎসের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে। পানির কর্মসূচির আওতায় কমিউনিটি রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং, পন্ড স্যান্ড ফিল্টার ও টিউবওয়েল ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি খাবার পানির উৎসগুলোর তথ্য সংরক্ষণ ও নিয়মিত নজরদারির জন্য ডিজিটাল নিবন্ধন ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। জনসম্পৃক্ততা ও স্বাস্থ্যশিক্ষার পাশাপাশি অ্যালগরিদমভিত্তিক ‘ক্লিনিক্যাল ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেম’-এর মাধ্যমে রোগী শনাক্তকরণ, বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য পাঠানো, চিকিৎসা ও পরবর্তী পর্যবেক্ষণে সহায়তা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক পাওলো ভিনেইস বলেন, খাবার পানির লবণাক্ততার জন্য এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো স্বাস্থ্যভিত্তিক মাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি। সোডিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান স্বাস্থ্যের ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। খাবার পানির স্বাস্থ্যভিত্তিক মানদণ্ড নির্ধারণে উপযুক্ত নির্দেশিকা প্রণয়নের প্রয়োজন রয়েছে।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান বাটলার বলেন, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছ্বাস পুকুর ও অগভীর ভূগর্ভস্থ পানিতে দীর্ঘমেয়াদি লবণাক্ততার কারণ হতে পারে। জলোচ্ছ্বাসের পর পানির উৎস দ্রুত পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি উপকূলীয় পোল্ডার ও বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
আইসিডিডিআর,বি-এর নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে স্বাস্থ্যগত প্রভাবের সম্পর্ক নিয়ে তথ্য-প্রমাণ এখনো সীমিত। নিরাপদ খাবার পানি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও জনসম্পৃক্ততাকে একসঙ্গে যুক্ত করে কার্যকর অভিযোজন কৌশল তৈরির কাজ চলছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম বলেন, খাবার পানির লবণাক্ততা একই সঙ্গে জলবায়ু অভিযোজন ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়। এটি মোকাবিলায় পরিবেশ, স্বাস্থ্য, পানি ও স্থানীয় সরকার খাতের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, লবণাক্ততা ও স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে এখন আমাদের হাতে বহু বছরের গবেষণালব্ধ প্রমাণ রয়েছে। এখন প্রয়োজন এসব প্রমাণ একত্র করে বাস্তবসম্মত নির্দেশিকা ও নীতিতে রূপ দেওয়া, পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা।
সেমিনারে পানির গুণগত মান পর্যবেক্ষণ ও তথ্য আদান-প্রদান জোরদার, খাবার পানিতে সোডিয়ামের স্বাস্থ্যভিত্তিক নির্দেশিকা প্রণয়ন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় বৃদ্ধি এবং পানির উৎসের টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ খাবার পানির সংকটকে শুধু পানি সরবরাহের সমস্যা নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তন, অসংক্রামক রোগ ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সমন্বিত চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেছে।
aliul / aliul
উপকূলে খাবার পানিতে লবণাক্ততা, হৃদরোগের ঝুঁকিতে প্রতি পাঁচজনে একজন
মির্জা ফখরুলকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অভিনন্দন
ডিএমপির অভিযানে ২১৪৪ মামলা, আট শতাধিক যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ভূমির সুরক্ষা ছাড়া জলবায়ু সহনশীলতা ও খাদ্য নিরাপত্তা সম্ভব নয়: পরিবেশমন্ত্রী
দক্ষিণ এশিয়ার জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ
দেশমাতৃকার সেবায় কাজ করে যাওয়ার নির্দেশ সেনাপ্রধানের
হামে আরও ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩২
শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
ইউনিফর্মধারীদের তুলে নেওয়ার অভিযোগ, চার মাসেও সন্ধান নেই মিরাজের
জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে ভালো স্থানীয় নির্বাচন করতে চাই : সিইসি
কালচারাল ট্যুরিজম উন্নয়নে দুই মন্ত্রণালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত