রেলের কারখানায় নকল যন্ত্রাংশের ব্যবহার, অর্থ লোপাট, ঝুঁকিতে সেবা!
বাংলাদেশ রেলওয়ের পাহাড়তলী ক্যারেজ ও ওয়াগন মেরামত কারখানা এবং সৈয়দপুর কারখানায় খুচরা যন্ত্রাংশ ক্রয়, গ্রহণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কতিপয় অসৎ কর্মকতার সাথে লোভী সরবরাহকারীরা আঁতাত করে বিদেশি উন্নতমানের যন্ত্রাংশের পরিবর্তে দেশিয় নিম্নমানের নকল যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে রেলের অর্থ আত্মসাৎ ও যাত্রীদের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। আর মোটা কমিশনের বিনিময়ে সংশ্লিষ্টরা সেসব যন্ত্রাংশ ব্যবহারের মাধ্যমে রেলের ক্ষতি করে জালিয়াত চক্রকেই সহায়তা করছে বলে বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে।
জানা যায়, নিরাপদ যাত্রীসেবা নির্বিঘ্ন রাখার স্বার্থে রেলের কোচ ও লোকোমোটিভে বিদেশি উন্নতমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করার কথা। এসব যন্ত্রাংশ তৈরিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নতমানের কাঁচামাল ব্যবহার করা হয় ফলে অতিরিক্ত লোড সহনীয় ও দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হয়। আর এসবের দামও হয় স্থানীয় যন্ত্রাংশের ৮ থেকে ১০ গুন অতিরিক্ত। দামের তুলনায় অধিক টেকসই হওয়াতে রেল চলাচলে তেমন বেগ পেতে হয় না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি যন্ত্রাংশের মতো হুবহু দেখতে কিন্তু মানে খুব দুর্বল মালামাল বাংলাদেশে তৈরি করে একশ্রেণির লোভী ব্যবসায়ীরা। যার দাম অনেক সস্তা।
সূত্র জানায়, গতবছরের ১ জুলাই মো. আলমগীরের মালিকানাধিন আহসানুল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি সরবরাহকারী পাহাড়তলী কারখানার ম্যানেজার বরাবরে ৭০ পিছ এক্সেল শক এবজর্বার সরবরাহ করে। যেটি ইন্ডিয়ার তৈরি উন্নতমানের প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ার কথা, কিন্তু যেগুলো সরবরাহ করা হয়েছে সেগুলো ইন্ডিয়ার আশা কর্পোরেশনের লোগো ব্যবহার করা হলেও প্রকৃতপক্ষে নিম্নমানের দেশিয় যন্ত্রাংশে বিদেশি লেভেল লাগানো হয়েছে। বাংলাদেশি একটি নকল শক এবজর্বারের দাম ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা অথচ এটিকে বিদেশি দেখিয়ে কেনা হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকায়। এছাড়া ইন্ডিয়ার শিকা ইঞ্জিনিয়ারিং এর তৈরি বলে ২০০ পিছ হুইল সেট গাইড সরবরাহ করেছেন যা দেশিয় নকল ও নিম্নমানের বলে জানা গেছে। এসব নকল যন্ত্রাংশ ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন অল্প সময়ে তা নষ্ট হয়ে অর্থের অপচয় হয় অন্যদিকে লোড নিতে না পারায় লাইনচ্যুতির ঘটনাও ঘটে। দুর্ঘটনায় পতিত হয় ট্রেন, যাত্রা হয় অনিরাপদ ও অনিশ্চিত। ফলে যাত্রীদের কাছে অনাস্থা বাড়তে থাকে এই সেবাসংস্থাটির প্রতি এবং রেলের ইমেজ সংকট বাড়ে ক্রমেই। আর বিদেশি উন্নতমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করলে টেকে বহুদিন। নিরাপদ যাত্রীসেবা নিশ্চিত হয় ও রেলের ব্যয়কৃত অর্থ উশুল হয়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে আহসানুল এন্টারপ্রাইজের ওনার মো. আলমগীর প্রথমে যন্ত্রাংশ ইন্ডিয়ার তৈরি বললেও পরে আবার জার্মানির তৈরি বলে জানান। আবার তাকে আশা কর্পোরেশনের কথা জিজ্ঞেস করলে সেই প্রতিষ্ঠানের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই বা সেটিকে চিনেন না বলেও জানান। তার আমদানি সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে ’নেই’ জানিয়ে তিনি বলেন, এসব যন্ত্রাংশ তিনি স্থানীয় ঠিকাদারের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন। সেই ঠিকাদারের ইমপোর্ট সনদ আছে কিনা জানতে চাইলে তাও তিনি সঠিকভাবে জানেন না বলে জানান। তবে এধরণের যন্ত্রাংশ শুধু তিনি একাই নয় এভাবে আরো অনেকেই সরবরাহ করে থাকেন বলে জানান। কমিশনের বিষয়টি স্বীকার করলেও কাকে কত শতাংশ দিতে হয় তা বলেননি।
অপর একটি সূত্র জানায়, দেখতে হুবুহু বিদেশি যন্ত্রাংশের মতো কিন্তু নিম্নমানের অনেকগুলো আইটেম বগুড়া, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয় যা রেলের কারখানায় মোটা কমিশনের বিনিময়ে সরবরাহ করে রেলের অর্থ অপচয়ের মিশনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে একটি সিন্ডিকেট।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট একাধিক সরবরাহকারী জানান, মালামাল সরবরাহে রেলের কারখানার কতিপয় লোভী কর্মকর্তাকে কর্মকর্তা ও ব্যবহারকারীদেরই ১০ থেকে ১২ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। তারা পণ্যের গুনগত মানের চেয়ে কমিশনকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। ফলে সরবরাহকারীরা কমিশনের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে অনেকটা বাধ্য হয়েই নিম্নমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেন। টেন্ডারে বিদেশি অরিজিনাল যন্ত্রাংশের শর্ত থাকলেও বাস্তবে শতকরা ১০ থেকে ২০শতাংশ আসল যন্ত্রাংশ দেখিয়ে বাকি ৮০ ভাগই নিম্নমানের বা নকল মালামাল সরবরাহ করা হয়। ফলে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করেও ভালো মানের যন্ত্রাংশ পাওয়া যাচ্ছে না।
রেলে কর্মরত অনেক অভিজ্ঞ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উন্নত বিশ্বে রেল খাতে ব্যবহৃত প্রতিটি যন্ত্রাংশের মান যাচাই অত্যন্ত কঠোরভাবে করা হয়। সেখানে বাংলাদেশে অনেক সময় কাগজে-কলমে বিদেশি ব্র্যান্ড দেখিয়ে বাস্তবে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করা হয়। বিদেশি যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে ল্যাব টেস্ট না করে শুধুমাত্র ইউজার বা ভোক্তা টেস্টকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে ব্যবহারকারী কতিপয় কর্মকর্তা মোটা অংকের কমিশনের বিনিময়ে নকল ও নিম্নমানের যন্ত্রাংশকে আসল বলে সার্টিফাইড করে। আর সেই নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণে অনেক ইঞ্জিন ও কোচ নির্ধারিত সময়ের আগেই বিকল হয়ে পড়ে। এতে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অথচ অরিজিনাল যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হলে দীর্ঘ সময় সেগুলো কার্যকর থাকত এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমে যেত। আবার কারখানায় কিছু ক্ষেত্রে কেনাকাটা হয় শুধু কাগজে কলমে, বাস্তবে সরবরাহগ না করেই বিল আদায় করে থাকেন কিছু ক্ষেত্রে আবার কার্যাদেশের তুলনায় কম মালামাল দিয়েও পূর্ণ বিল আদায় করা হয়।
এবিষয়ে জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, রেলে বিদেশি যন্ত্রাংশের নামে স্থানীয় ও নিম্নমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি দীর্ঘদিন যাবৎ শুনে আসছি। তবে এখন যেহেতেু গণমানুষের দল বিএনপি সরকার পরিচালনা করছে তাই এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ। তাছাড়া সকল অনিয়ম বন্ধে কমিশন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে আরো কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
এবিষয়ে পাহাড়তলী ক্যারেজ এন্ড ওয়াগন মেরামত কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক মোস্তফা জাকির হাসানের মোবাইলে কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ম্যানেজার রাজিব দেবনাথ কমিশন বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আহসানুল এন্টারপ্রাইজের যন্ত্রাংশ গ্রহনের সময় আমি এখানে ছিলাম না। তাই বিস্তারিত বলতে পারছি না। আমরা যন্ত্রাংশ মেশিনের মাধ্যমে টেস্ট করেই ব্যবহার করছি। তবে আমরা নকল পণ্য গ্রহণ ও ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্ক। কেউ এরকম কাজে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএসএম / এমএসএম
বোয়ালমারীতে ধানের জমি থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার
কুড়িগ্রামে ৪০ বছরের মুয়াজ্জিনি শেষে ঘোড়ার গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শুক্কুর আলী
চাকিরপশার বিলের শতবর্ষের ইতিহাস নদী থেকে বিল হারাচ্ছে মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য
রেলের কারখানায় নকল যন্ত্রাংশের ব্যবহার, অর্থ লোপাট, ঝুঁকিতে সেবা!
পারখী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মাদক নির্মূল কমিটি গঠন
বরিশালে ছাত্রশিবিরের এসএসসি A+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
ফটিকছড়িতে ‘মির্জারহাট মারকাযুদ দাওয়াহ্ মহিলা হিফয খানা’র শুভ উদ্বোধন ও সবক প্রদান অনুষ্ঠিত
খালিয়াজুরীতে ভবন সংকটে ব্যাহত পাঁচগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান
বরিশালে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ড্রেজার-বাল্কহেডসহ ৪ বালু উত্তোলনকারী আটক
পটিয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মিছিল
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ৫০ কিলোমিটার যানজট
কোনাবাড়ীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক রুপ নিয়েছে: গত ৭ দিনে আক্রান্ত ৪৩২