মনপুরায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ৪৮৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার একমাত্র দ্বিতল ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের ছাদ, পিলার ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ে কোথাও কোথাও রড বেরিয়ে গেছে। বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি চুঁইয়ে পড়ায় শ্রেণিকক্ষের পরিবেশও হয়ে ওঠে স্যাঁতসেঁতে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই বাধ্য হয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। বর্তমানে এখানে ৪৮৭ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ৫ জন কর্মচারী রয়েছেন। ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত এ মাদ্রাসায় একটি জরাজীর্ণ দ্বিতল ভবনের পাশাপাশি একটি টিনশেড ভবন রয়েছে।
সরেজমিনে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতল ভবনের বিভিন্ন স্থানে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। দেয়াল ও পিলারের পলেস্তারা উঠে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে রড। ভবনের বারান্দা ও আশপাশের বিভিন্ন অংশেও দেখা দিয়েছে ভাঙন ও ক্ষয়। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ছে। এতে বই-খাতা ও শিক্ষা উপকরণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে আতঙ্ক।
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা এয়াকুব আলী হান্নান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে এটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে এখানেই ক্লাস নিতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদ দিয়ে নিয়মিত পানি পড়ে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিসা আক্তার জিনুক বলেন, ভবনের অবস্থা দেখে প্রতিদিনই ভয় লাগে। ক্লাস চলাকালে কখন ভবনের কোনো অংশ খসে পড়ে, সেই আতঙ্ক থাকে। বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় বই-খাতা ভিজে যায়। এ কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আকলিমা আক্তার রিংকু বলেন, ক্লাস করার সময় অনেক সময় মনে হয় ভবনের কোনো অংশ ভেঙে পড়তে পারে। এতে আমরা আতঙ্কের মধ্যে থাকি। দ্রুত নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই।
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম মোল্লা ও সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মিজান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করাতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সবসময় উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হয়। ভবনের বর্তমান অবস্থা দ্রুত সংস্কার কিংবা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি রাখে। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, “এই মুহূর্তে আমার কাছে কোনো বাজেট নেই। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাতে পারেন। আমি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।”
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব জানান , “বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। জেলা প্রশাসক স্যার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির এমন বেহাল দশা থাকলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি দ্রুত পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণ অথবা প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এমএসএম / এমএসএম
বেনাপোল বন্দরে ইমিটেসন পণ্য সিন্ডিকেটের কারসাজিতে রাজস্ব ফাঁকি
কুড়িগ্রামে বিএনপির ৫ শতাধিক বৃক্ষরোপণ
গলাচিপায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি হামলা
৬১ বছরের পদমর্যাদা ও গ্রেড অবনমনের প্রতিবাদে মেহেরপুরে বিএডিসির অবস্থান কর্মসূচি
মাগুরা সদরের উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল কবিরের বিদায় সংবর্ধনা
সিংড়ায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার চেক বিতরণ
লোডশেডিংয়ের কারণে শরণখোলায় চরম বরফ সংকট, ইলিশের ভরা মৌসুমে বিপাকে হাজারো জেলে।
পূর্বাচলে চার দিনব্যাপী ২৫তম টেক্সটাইল সিরিজ অফ এক্সিবিশনের উদ্বোধন
সড়ক নিরাপত্তায় শান্তিগঞ্জে টাস্কফোর্সের অভিযান, জরিমানা ১৭ বাসকে
পটুয়াখালীতে নতুন দুটি জাতের রসালো ফল তরমুজ চাষ: উপকূলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার
প্রায় দুই যুগ পর কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় বাজার ব্যবসায়িক সমিতির নির্বাচন; ভোটাররা চায় নতুন নেতৃত্ব
রাজারহাট খাদ্য গুদামে অনিয়ম,দুর্নীতি এবং ওসিএলএসডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিতে মানববন্ধন