গোপালগঞ্জে নদীভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি, বসতভিটা হারিয়ে অন্য জেলায় আশ্রয় নিচ্ছেন মানুষ
গোপালগঞ্জে নদীভাঙনের প্রকোপ দিন দিন বেড়ে চলেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীর তীব্র স্রোতে ভেঙে যাচ্ছে বসতবাড়ি, কৃষিজমি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ভাঙনের মুখে পড়ে অনেক পরিবার নিজ এলাকা ছেড়ে পাশের জেলা নড়াইলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি ও বাঘিয়া নদীর তীরবর্তী এলাকায় বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ডুবশি মোল্লাপাড়া এলাকায় নদীভাঙন উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। নদীর পাড় ধসে একের পর এক জমি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। একই ধরনের পরিস্থিতি জেলার অন্যান্য নদীতীরবর্তী এলাকাতেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বছরের পর বছর নদীভাঙনের সঙ্গে সংগ্রাম করলেও চলতি বছরে নতুন করে ভাঙনের বিস্তার ঘটেছে। তাঁদের মতে, জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে নদীপাড়ের মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
নদীভাঙনের কারণে শুধু সম্পদ হারাচ্ছেন না, অনেক পরিবারকেই বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে কেউ কেউ পাশের জেলা নড়াইলে বসতি স্থাপন করেছেন। এতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকারিয়া ফেরদৌস জানান, চলতি বছরে নতুন করে প্রায় এক হাজার মিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয় জনগণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর ভাঙন এলাকা পরিদর্শনের পর জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনুমোদন নিয়ে প্রায় এক হাজার ২০০ মিটার এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জেলার আরও প্রায় এক হাজার ৫০০ মিটার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সদর উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, ডুবশি এলাকায় ভাঙনরোধে জিওব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে এবং তা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে নদীভাঙন মোকাবিলায় টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিস হায়দার খান জানান, ভাঙনরোধে প্রাথমিক পর্যায়ে জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সরেজমিন প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধসহ টেকসই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দাবি, সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নয়, নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Aminur / Aminur
শৈলজারঞ্জন কেন্দ্রে নেই সাংস্কৃতিক কার্যক্রম , নষ্ট হচ্ছে ভবন
টাঙ্গাইলে চিকিৎসা সেবা বিভিন্ন সংকটে জর্জরিত : রোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই
বরিশালে ‘সাহিত্য পাতা আষাঢ়' সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন
চন্দনাইশে ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন কনফারেন্স’ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন
গোপালগঞ্জে নদীভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি, বসতভিটা হারিয়ে অন্য জেলায় আশ্রয় নিচ্ছেন মানুষ
দেবে যাচ্ছে ঘের সংলগ্ন মনিরামপুর-নওয়াপাড়া সড়ক, উঁপড়ে পড়ছে গাছ
অবৈধভাবে সার মজুত রোধে অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা
ঢাকা ইপিজেডে কারখানা শ্রমিকদের জন্য সমন্বিত চক্ষু ও এনসিডি স্বাস্থ্য
কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে ৬১৩ জন শ্রমিক ছাঁটাই
শেরপুরে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন
শালিখায় অবৈধভাবে সার মজুদের দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা
কুড়িগ্রামে সারের কৃত্রিম সংকট নিয়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকঃ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক