ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গোপালগঞ্জে নদীভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি, বসতভিটা হারিয়ে অন্য জেলায় আশ্রয় নিচ্ছেন মানুষ


গোলাম রব্বানী , গোপালগঞ্জ  photo গোলাম রব্বানী , গোপালগঞ্জ
প্রকাশিত: ৮-৯-২০২৬ দুপুর ১১:২৫

গোপালগঞ্জে নদীভাঙনের প্রকোপ দিন দিন বেড়ে চলেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীর তীব্র স্রোতে ভেঙে যাচ্ছে বসতবাড়ি, কৃষিজমি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ভাঙনের মুখে পড়ে অনেক পরিবার নিজ এলাকা ছেড়ে পাশের জেলা নড়াইলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি ও বাঘিয়া নদীর তীরবর্তী এলাকায় বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ডুবশি মোল্লাপাড়া এলাকায় নদীভাঙন উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। নদীর পাড় ধসে একের পর এক জমি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। একই ধরনের পরিস্থিতি জেলার অন্যান্য নদীতীরবর্তী এলাকাতেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বছরের পর বছর নদীভাঙনের সঙ্গে সংগ্রাম করলেও চলতি বছরে নতুন করে ভাঙনের বিস্তার ঘটেছে। তাঁদের মতে, জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে নদীপাড়ের মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

নদীভাঙনের কারণে শুধু সম্পদ হারাচ্ছেন না, অনেক পরিবারকেই বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে কেউ কেউ পাশের জেলা নড়াইলে বসতি স্থাপন করেছেন। এতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকারিয়া ফেরদৌস জানান, চলতি বছরে নতুন করে প্রায় এক হাজার মিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয় জনগণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর ভাঙন এলাকা পরিদর্শনের পর জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনুমোদন নিয়ে প্রায় এক হাজার ২০০ মিটার এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জেলার আরও প্রায় এক হাজার ৫০০ মিটার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সদর উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, ডুবশি এলাকায় ভাঙনরোধে জিওব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে এবং তা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে নদীভাঙন মোকাবিলায় টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিস হায়দার খান জানান, ভাঙনরোধে প্রাথমিক পর্যায়ে জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সরেজমিন প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধসহ টেকসই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দাবি, সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নয়, নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Aminur / Aminur

কুমিল্লায় আবারও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৭৯

কুমিল্লায় ১৩ চোরাই মোবাইল ও নগদ টাকা উদ্ধার, ৫ নারী গ্রেপ্তার

পেকুয়ায় ব্র্যাকের উদ্যোগে মাছের পোনা বিতরণ

নোয়াখালীতে ব্ল্যাকমেইল ও সম্পত্তির বিরোধে প্রবাসীর আত্মহত্যার অভিযোগ

আদমদীঘিতে দুই মাদক কারবারির জেল-জরিমানা

টাঙ্গাইলে এলজিইডি'র ১০ কোটি টাকার আধুনিক ব্রিজে উঠতে হয় বাঁশের সাঁকো দিয়ে

দুর্গাপুরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা

পিরোজপুরে বাংলা কিউআর বাস্তবায়নে মতবিনিময় সভা

রৌমারীতে গাভিন গরু জবাই করে বিক্রি'র অভিযোগ মাংস বিক্রেতার বিরুদ্ধে, মৃত বাছুর উদ্ধার

অপরাধ যে করবেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে-প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল 

নাগরপুরে চোরের ছুরিকাঘাতে গৃহস্থ নিহত, আহত ২, ঘাতক আটক

গলাচিপায় মাদ্রাসার সুপারের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন, চাকরির প্রলোভনে ৮ লক্ষ টাকা ঘুষের অভিযোগ

নওয়াপাড়ায় ভৈরব নদে গোসল করতে নেমে শিশু নিখোঁজ