ঢাকা বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গঙ্গা চুক্তি

৪১ দিন থেকে ৩০ বছর—নতুন সমঝোতার অপেক্ষায় বাংলাদেশ


টি আই এস বিউটি photo টি আই এস বিউটি
প্রকাশিত: ৯-৯-২০২৬ দুপুর ৩:২৭

ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। সামনে তাই আবারও পুরোনো প্রশ্ন—গঙ্গার পানি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কোন পথে যাবে? নতুন চুক্তি কি আগের কাঠামোকেই ধরে রাখবে, নাকি বদলে যাবে পানি বণ্টনের দর্শন ও হিসাব? গঙ্গার পানি বাংলাদেশের কাছে শুধু একটি নদীর পানি নয়। এটি কৃষি, মৎস্য, নৌপরিবহন, জীববৈচিত্র্য, লবণাক্ততা, সুন্দরবন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। অন্যদিকে ভারতের কাছে ফারাক্কা ব্যারাজ কলকাতা বন্দরের নাব্যতা, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের পানি ব্যবস্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে গঙ্গার পানি বণ্টন নিছক দুই দেশের একটি নদী-চুক্তি নয়; এটি দুই দেশের কূটনীতি ও পানি-নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

বঙ্গবন্ধুর সময়: ১৯৭৫ সালে চুক্তি মাত্র ৪১ দিনের
প্রথমেই একটি প্রচলিত ভুল ধারণা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। গঙ্গার পানি নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের সময় যে সমঝোতা হয়েছিল, সেটি কোনো পাঁচ বা ১০ বছরের চুক্তি ছিল না। ১৮ এপ্রিল ১৯৭৫ সালের সমঝোতার আওতায় ফারাক্কা ব্যারাজের ফিডার ক্যানাল পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৪১ দিনের জন্য—২১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে ১৯৭৫ পর্যন্ত। সে সময় ১০ দিন পরপর পানির প্রবাহ ভাগের ব্যবস্থা করা হয়। ২১-৩০ এপ্রিল ফারাক্কায় নির্ভরযোগ্য প্রবাহ ধরা হয়েছিল ৫৫ হাজার কিউসেক; এর মধ্যে ভারতের জন্য ১১ হাজার এবং বাংলাদেশের জন্য অবশিষ্ট ৪৪ হাজার কিউসেক। ১-১০ মে ভারত পায় ১২ হাজার এবং বাংলাদেশ ৪৪ হাজার ৫০০ কিউসেক; ১১-২০ মে ভারত ১৫ হাজার ও বাংলাদেশ ৪৪ হাজার ২৫০ কিউসেক; আর ২১-৩১ মে ভারত ১৬ হাজার এবং বাংলাদেশ ৪৯ হাজার ৫০০ কিউসেক পাওয়ার কথা ছিল। অর্থাৎ ওই ৪১ দিনের সমঝোতায় বাংলাদেশের অংশ ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি—প্রবাহের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ। কিন্তু এটি ছিল সাময়িক ব্যবস্থা; ৩১ মে ১৯৭৫ এর পর নতুন কোনো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হয়নি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দুই দেশের সম্পর্কেও বড় পরিবর্তন আসে এবং গঙ্গার পানি প্রশ্ন আরও জটিল হয়ে ওঠে।

জিয়াউর রহমানের সময়: ১৯৭৭ সালের পাঁচ বছরের  চুক্তি
জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ও ভারত পাঁচ বছরের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার মেয়াদ ছিল ১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত। এটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি।
এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল ‘গ্যারান্টি ক্লজ’। গঙ্গার পানির প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলেও বাংলাদেশের জন্য নির্দিষ্ট ন্যূনতম অংশ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা ছিল। বিশেষ করে ২১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে—সবচেয়ে সংকটপূর্ণ সময়ে—বাংলাদেশের নির্ধারিত অংশের অন্তত ৮০ শতাংশ নিশ্চিত করার বিধান ছিল।
এ ছাড়া ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ১০ দিনভিত্তিক পানি বণ্টনের একটি নির্দিষ্ট সূচি ছিল। চুক্তিতে শুকনো মৌসুমে গঙ্গার প্রবাহ বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ছিল। তিন বছরের মধ্যে পানির প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য যৌথভাবে কার্যকর ব্যবস্থা খুঁজে বের করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
কিন্তু পাঁচ বছর শেষে ১৯৮২ সালে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

এরশাদের সময়: দুই বছর, তারপর আরও তিন বছর
এরপর ক্ষমতায় আসে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকার। ৪ অক্টোবর ১৯৮২ সালে দুই বছরের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়, যা ১৯৮৩ ও ১৯৮৪ সালের শুকনো মৌসুমকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে—১৯৭৭ সালের চুক্তির শক্তিশালী গ্যারান্টি ক্লজ বাদ পড়ে যায়। পরিবর্তে কম প্রবাহের পরিস্থিতিতে ‘burden sharing’ বা উভয় পক্ষের ওপর সংকটের ভার ভাগ করে নেওয়ার ধারণা আসে। এরপর ২২ নভেম্বর ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ ও ভারত আবার তিন বছরের জন্য আরেকটি MoU স্বাক্ষর করে, যা ১৯৮৬, ১৯৮৭ ও ১৯৮৮ সালের শুকনো মৌসুমকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই সমঝোতায়ও ১৯৭৭ সালের মতো শক্তিশালী ন্যূনতম গ্যারান্টি ব্যবস্থা ছিল না। পাশাপাশি দুই দেশ গঙ্গার শুকনো মৌসুমের প্রবাহ বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নিয়ে যৌথ গবেষণার কথাও বলেছিল।

১৯৮৮ সালের মে মাসে এই MoU শেষ হওয়ার পর আবারও বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। খালেদা জিয়ার সময়: ১৯৯১ সালে নতুন চুক্তি হয়নি এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনটি হলো—খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গঙ্গার পানি নিয়ে কোনো নতুন আনুষ্ঠানিক পানি বণ্টন চুক্তি করেননি। ১৯৮৮ সালের পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কার্যত কোনো কার্যকর গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি ছিল না। এই সময় গঙ্গার পানি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চললেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ১৯৯২ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী পি. ভি. নরসিমা রাওয়ের সঙ্গে বৈঠকে গঙ্গার পানি বণ্টনের একটি স্থায়ী ও সমন্বিত সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা তোলেন। কিন্তু সেই বৈঠক কোনো চূড়ান্ত পানি বণ্টন চুক্তিতে রূপ নেয়নি। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিসরেও বিষয়টি উত্থাপন করে। অর্থাৎ খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের সময় গঙ্গা ইস্যুটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রশ্ন, কিন্তু চুক্তির মেয়াদ বা শর্ত বলার মতো নতুন কোনো গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি তখন হয়নি।

এই সময়টিকে তাই ‘চুক্তির সময়’ না বলে ‘চুক্তিহীনতা ও কূটনৈতিক চাপের সময়’ বলা অধিক সঠিক।
শেখ হাসিনার সময়: ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক ৩০ বছরের চুক্তি
দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচ. ডি. দেবগৌড়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ৩০ বছরের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি। এই চুক্তির মেয়াদ ১৯৯৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত।
এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ফারাক্কায় গঙ্গার পানি ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত প্রতি ১০ দিন অন্তর একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলায় ভাগ হবে।
চুক্তির মূল হিসাবটি হলো—
ফারাক্কায় প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে:
বাংলাদেশ ও ভারত ৫০:৫০ অনুপাতে পানি পাবে।
প্রবাহ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক হলে:
বাংলাদেশ পাবে ৩৫ হাজার কিউসেক এবং ভারত পাবে অবশিষ্ট পানি।
প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেক বা তার বেশি হলে:
ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং বাংলাদেশ পাবে অবশিষ্ট পানি।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, চুক্তিতে বলা হয়েছে—ফারাক্কায় প্রবাহ কোনো ১০ দিন মেয়াদি সময়ে ৫০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে গেলে দুই দেশকে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা করে পরিস্থিতির সমাধান করতে হবে।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, ফারাক্কা থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবাহিত পানি ভারত যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার ছাড়া কমাবে না; দুই দেশের যৌথ কমিটি প্রবাহ পরিমাপ করবে এবং তথ্য বিনিময় করবে। দীর্ঘমেয়াদে গঙ্গার শুকনো মৌসুমের প্রবাহ বাড়ানোর জন্যও দুই দেশকে সহযোগিতা করার কথা বলা হয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হলো—চুক্তির Article X অনুযায়ী পাঁচ বছর পরপর চুক্তির কার্যকারিতা পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। আর Article XII বলছে, চুক্তি ৩০ বছর কার্যকর থাকবে এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য। অর্থাৎ ২০২৬ সালের পর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে না; নতুন করে দুই দেশের সম্মতি প্রয়োজন।

২০২৬: এবার সামনে কী?
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ডিসেম্বর ২০২৬-এ ৩০ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে কী হবে?
প্রথম কথা, চুক্তি শেষ হলেই গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে সবকিছু শূন্যে নেমে যাবে—এমন নয়। দুই দেশের সামনে মূলত তিনটি পথ রয়েছে।
প্রথমত, নতুন করে একই ধরনের ৩০ বছরের বা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, পুরোনো চুক্তিকে সংশোধন করে নতুন বাস্তবতা—জলবায়ু পরিবর্তন, উজানে পানির ব্যবহার, শুকনো মৌসুমে প্রবাহ কমে যাওয়া এবং পরিবেশগত প্রয়োজন—বিবেচনায় নিয়ে নতুন কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে।
তৃতীয়ত, আলোচনা দীর্ঘায়িত হলে অন্তর্বর্তী কোনো ব্যবস্থা বা সমঝোতার মাধ্যমে পানি বণ্টন চালু রাখার চেষ্টা হতে পারে।
তবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শুধু চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নয়, বরং নতুন চুক্তিতে কী শর্ত থাকবে।
বাংলাদেশের আলোচনায় একটি শক্তিশালী গ্যারান্টি ক্লজ, স্বচ্ছ ও রিয়েল-টাইম পানি প্রবাহের তথ্য বিনিময়, কম প্রবাহের সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনা এবং গঙ্গার অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়া স্বাভাবিক। ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের মতো সরাসরি ন্যূনতম পানি নিশ্চিত করার শক্তিশালী গ্যারান্টি নেই—এটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের একটি আলোচ্য বিষয়।
নবায়নের সম্ভাবনা কতটা?
বর্তমান পরিস্থিতিতে চুক্তি নবায়নের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ার কোনো কারণ নেই; বরং দুই দেশেরই নতুন সমঝোতায় যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ গঙ্গার পানি বণ্টন এমন একটি বাস্তব সমস্যা, যার কোনো পক্ষই দীর্ঘমেয়াদে উপেক্ষা করতে পারে না।
২০২৬ সালের আগস্টে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ার পরও ভারতীয় প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষার কথা প্রকাশ্যে এসেছে। একই সময়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গঙ্গার পানি চুক্তিসহ নদী-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও এবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সম্প্রতি বলেছেন, গঙ্গা চুক্তি নবায়নের সময় বিহারের পানি-স্বার্থও বিবেচনায় নেওয়া হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে পশ্চিমবঙ্গ, বিহারসহ সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর উদ্বেগও সামলাতে হবে।
শেষ কথা
গঙ্গার ইতিহাস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—স্বল্পমেয়াদি সমঝোতা কখনো দীর্ঘমেয়াদি পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না।
১৯৭৫ সালে ছিল ৪১ দিনের পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা। ১৯৭৭ সালে হলো পাঁচ বছরের চুক্তি। ১৯৮২ সালে দুই বছর, ১৯৮৫ সালে তিন বছর। এরপর প্রায় আট বছর কোনো আনুষ্ঠানিক পানি বণ্টন ব্যবস্থা ছিল না। অবশেষে ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের একটি চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন ভিত্তি দেয়।
এখন ২০২৬ সালে এসে আবার ইতিহাসের মোড়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ ও ভারত।
প্রশ্নটি তাই শুধু—‘চুক্তি নবায়ন হবে কি না?’—এতটুকু নয়।
প্রকৃত প্রশ্ন হলো—‘নতুন চুক্তি হলে তা কি আগামী দিনের গঙ্গার বাস্তবতা, বাংলাদেশের পানির অধিকার এবং উভয় দেশের ন্যায্য স্বার্থকে কতটা ধারণ করবে?’
কারণ নদী কোনো পাঁচ বছরের রাজনৈতিক সমঝোতা বোঝে না। নদী চলে শতাব্দীর ধারায়। তাই গঙ্গার নতুন চুক্তিও হতে হবে এমন—যেখানে থাকবে ন্যায্যতা, স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা, পারস্পরিক আস্থা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পানির অধিকার।
গঙ্গার পানি নিয়ে এবার শুধু চুক্তি নয়—বাংলাদেশের দরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি, বিজ্ঞানভিত্তিক ও ন্যায্য পানি-কূটনীতি।

এমএসএম / এমএসএম

৪১ দিন থেকে ৩০ বছর—নতুন সমঝোতার অপেক্ষায় বাংলাদেশ

আজকের তরুণ প্রজন্ম আগামী বিশ্বের ভবিষ্যৎ

মহাসাধক ​বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী: অলৌকিক সাধনা ও বিপন্ন মানুষের পরম আশ্রয়

​শুভ জন্মাষ্টমী ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ: সম্প্রীতির আলোয় ঘুচুক অন্ধত্ব

জাতীয় সংকটে আস্থার ঠিকানা জিয়া পরিবার

বিএনপির ৪৮ বছরের পথচলা: শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া

ইস্টার্ন রিফাইনারি: ৮ হাজার কোটি থেকে ৩৫ হাজার কোটি—দেড় যুগের অপেক্ষার মূল্য আর কত?

১৪ লাখের বেতন বাড়বে, ১৭ কোটি মানুষের কী হবে?

দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও অধিকার আদায়ের আলোকবর্তিকা: বীরউত্তম মেজর জেনারেল সি আর দত্ত

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আমন্ত্রণ: সম্প্রীতির নতুন সুরে ঢাকা–দিল্লির ভূ-কৌশলগত সমীকরণ

জ্বালানি-নিরাপত্তা নিশ্চিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি