শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র: মানবপ্রেম, আত্মজাগরণ ও সুন্দর সমাজের স্বপ্ন
মানবতার আলোকবর্তিকা, যুগপুরুষোত্তম শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আবির্ভাব ও জীবনদর্শন কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি আত্মিক জাগরণ এবং মানবকল্যাণের এক মহা-উপলব্ধি। ১৮৮৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর (বাংলা ১২৯৫ সনের ৩০ ভাদ্র) অবিভক্ত বাংলার পাবনা জেলার হিমায়তপুর গ্রামে এক ধরণীতে জন্মগ্রহণ করেন এই মহামানব। পিতা শিবচন্দ্র চক্রবর্তী ও মাতা মনমোহিনী দেবীর ঘর আলোকিত করে ভূমিষ্ঠ হওয়া এই শিশুর শৈশব থেকেই মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সেবা করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। পরবর্তীতে ঝাড়খণ্ডের দেওঘরে 'সৎসঙ্গ' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি মানবপ্রেম ও কর্মের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য জীবন ও মানবসেবার নানা অধ্যায় পেরিয়ে ১৯৬৯ সালের ২৬ জানুয়ারি (বাংলা ১৩৭৫ সনের ১২ মাঘ) তিনি নশ্বর দেহত্যাগ করে মহাপ্রয়াণে ব্রতী হন। তাঁর তিরোধানের পর তাঁর আদর্শ ও বাণী বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্তদের হৃদয়ে তিনি চিরজাগরূক হয়ে আছেন।
বর্তমান জটিল ও যান্ত্রিকতাপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে শ্রীশ্রী ঠাকুরের জীবনদর্শন, বাণী এবং আদর্শ আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। তাঁর শিক্ষা কোনো গতানুগতিক বা জটিল তত্ত্বের বেড়াজালে আবদ্ধ ছিল না। তিনি মানুষকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন, মানুষের অন্তরে সুপ্ত ঈশ্বরীয় সত্তাকে জাগিয়ে তুলতে সচেষ্ট হয়েছেন। তিনি একাধারে ছিলেন চিকিৎসক, সমাজ সংস্কারক ও দার্শনিক। দুঃখী মানুষের সেবায় তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। কলকাতার ছাত্রজীবনে দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে আমৃত্যু তিনি মানবসেবাকেই পরম ধর্ম বলে মনে করেছেন। আজকের বিশ্বজুড়ে হানাহানি, স্বার্থপরতা, নৈতিক অবক্ষয় এবং মানসিক অশান্তির এই সময়ে তাঁর সুচিন্তিত বাণীগুলো আমাদের পথ দেখায়। তিনি মানুষকে কর্মমুখর ও চরিত্রবান হওয়ার তাগিদ দিয়ে বলতেন, "যাঁরা চলেন ঠেকে বলে, জয় হয় তো তাঁদেরই দলে" কিংবা "আগে নিজে ভালো হও, তবে অপরকে ভালো করতে যেয়ো" কিংবা "চলতে যদি হয় ভালো, চলতে শেখো মেনে চল।" এ ধরনের অমিয় বাণীর মাধ্যমেই তিনি সমাজকে একটি শৃঙ্খলিত ও প্রীতিময় কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতে চেয়েছেন।
তিনি চরিত্র গঠন, ইষ্টভৃতি, এবং সুবিন্যস্ত পারিবারিক জীবনের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, যোগ্য ও সৎ মানুষ ছাড়া কোনো সমাজ বা রাষ্ট্র কখনো উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না। শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আবির্ভাব ও তিরোধান—উভয় তিথিই আমাদের আত্মশুদ্ধির সুযোগ করে দেয়। তাঁর চরণে প্রীতি ও ভক্তি নিবেদন করার অর্থ হলো তাঁর আদর্শকে নিজেদের প্রাত্যহিক জীবনে বাস্তবায়ন করা। আসুন, সংকীর্ণতা ও অহংকার ঝেড়ে ফেলে এই পবিত্র ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা প্রত্যেকেই একটি সুন্দর, প্রীতিময় ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার শপথ নিই—যেখানে জয় হবে মানুষের, জয় হবে কল্যাণের।
(মানিক লাল ঘোষ : সাংবাদিক ও কলামিস্ট। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক।)
এমএসএম / এমএসএম
শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র: মানবপ্রেম, আত্মজাগরণ ও সুন্দর সমাজের স্বপ্ন
সরকারি হাজীদের অব্যয়িত অর্থ ফেরত: স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকারি মাধ্যমে নিরাপদ হজ
মিরকাদিমের ধবল গরু: ভবিষ্যতের জিনগত সম্পদ
শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন
নিরাপদ খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে এ্যাক্রেডিটেশনের ভূমিকা
কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
৪১ দিন থেকে ৩০ বছর—নতুন সমঝোতার অপেক্ষায় বাংলাদেশ
আজকের তরুণ প্রজন্ম আগামী বিশ্বের ভবিষ্যৎ
মহাসাধক বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী: অলৌকিক সাধনা ও বিপন্ন মানুষের পরম আশ্রয়
শুভ জন্মাষ্টমী ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ: সম্প্রীতির আলোয় ঘুচুক অন্ধত্ব
জাতীয় সংকটে আস্থার ঠিকানা জিয়া পরিবার
বিএনপির ৪৮ বছরের পথচলা: শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া