ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফুলছড়িতে বিদ্যালয় স্থানান্তর নিয়ে ৯ মাসের বিরোধ, রোদ-বৃষ্টিতে চলছে পাঠদান


মজিবর রহমান, ফুলছড়ি photo মজিবর রহমান, ফুলছড়ি
প্রকাশিত: ১০-৯-২০২৬ দুপুর ১:৩৬

একটি শ্রেণিকক্ষের স্বপ্ন তাদের। মাথার ওপর পাকা ছাদ, পাশে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, ব্যবহারের উপযোগী একটি শৌচাগার—এই সামান্য চাওয়াটুকুও পূরণ হচ্ছে না গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কটকগাছা এলাকার ৬২ কোমলমতি শিক্ষার্থীর। বিদ্যালয়টি কোথায় থাকবে—কটকগাছায়, নাকি জিগাডাংগায়—এ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে প্রায় নয় মাস ধরে থমকে আছে অবকাঠামো নির্মাণ। শেষ পর্যন্ত শামিয়ানা ও পলিথিনের ছাউনিই হয়ে উঠেছে তাদের ‘শ্রেণিকক্ষ’।

তীব্র রোদের মধ্যে ছাউনির নিচে গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করছে শিশুরা। গরমে অস্থির হয়ে কেউ বারবার বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে, কেউবা ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করছে। বৃষ্টি নামলে পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। নেই নিরাপদ পানির জন্য টিউবওয়েল, নেই শিক্ষার্থীদের ব্যবহার উপযোগী শৌচাগার। প্রতিকূল এই পরিবেশে পাঠদান চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন চার শিক্ষকও।

১৯৮৮ সাল থেকে কটকগাছা এলাকায় বিদ্যালয়টি পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘ সময় ধরে এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার ভরসা এই প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বিদ্যালয়ের স্থায়ী অবস্থান নিয়ে বিরোধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সংকট ঘনীভূত হয়েছে। প্রায় নয় মাস ধরে চলছে টানাপোড়েন। এরই মধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছে এবং একটি স্থান নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু কোনো পক্ষই প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। ফলে অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে আছে বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ।

‘অন্যত্র নিলে স্কুলে আসতে পারবে না অনেক শিশু’

বিদ্যালয়টি কটকগাছায় রাখার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের যুক্তি, কটকগাছা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছে। আশপাশের দরিদ্র ও দূরবর্তী এলাকার শিশুরা হেঁটে বা সহজে যাতায়াত করে বিদ্যালয়ে আসে। অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে বিশেষ করে ছোট শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়বে। এতে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জিগাডাংগার আনছার আলী ও তাঁর বাবা বেলাল হোসেন নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয় স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আনছার আলী। তিনি বলেন, ‘আমরা যে স্থানে বিদ্যালয় চেয়েছি, তার চারপাশে গ্রাম রয়েছে। সেখানে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে। পড়াশোনার জন্যও মানসম্মত পরিবেশ রয়েছে।’

‘ওই জায়গা অনেক দূরে’

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজু মিয়ার কথায় ফুটে ওঠে শিশুদের উদ্বেগ। সে বলে, ‘বিদ্যালয়টি অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে চাচ্ছে। ওই জায়গাটি আমাদের বাড়ি থেকে অনেক দূরে। সেখানে যেতে আমাদের সমস্যা হবে।’

অভিভাবক শাহানা বেগম বলেন, ‘আমার চার ছেলেমেয়ে এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। কাছে হওয়ায় তারা সহজে যাতায়াত করতে পারে। বিদ্যালয়টি অন্যত্র স্থানান্তর করা হলে শিক্ষার্থী কমে যাবে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় বিদ্যালয়টি কটকগাছায় রাখার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

প্রশাসনের উদ্যোগেও কাটেনি জট

প্রধান শিক্ষক এন্তাজ আলী বলেন, ‘শিক্ষকদের পক্ষ থেকে কোনো মতামত নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়টি যে স্থানে নির্ধারণ করবেন, আমরা সেখানেই পাঠদান পরিচালনা করব।’

ফুলছড়ি উপজেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুমুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।’

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। একটি সমাধানও দেওয়া হয়েছিল। কোনো পক্ষই তা মেনে নেয়নি। সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, দ্রুত সমাধান হবে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির স্থায়ী অবস্থান নিয়ে বিরোধের কারণে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়নি। অস্থায়ীভাবে শামিয়ানা ও পলিথিনের ছাউনির নিচে চলছে পাঠদান। তীব্র রোদে ছাউনির নিচে প্রচণ্ড গরম, আর বৃষ্টি হলে পানি পড়ার আশঙ্কা। এমন পরিবেশে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে স্থানীয় বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরাই। বিদ্যালয় কোথায় হবে—এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের বিরোধের ভার কেন বইবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা, সেই প্রশ্নই এখন স্থানীয়দের।

অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়ের অবস্থান নির্ধারণে কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের স্বার্থ নয়, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধা, নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীসংখ্যা ও এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। দ্রুত স্থায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

নয় মাসের বিরোধ আর কতদিন চলবে—এই প্রশ্নের উত্তর এখন প্রশাসনের কাছেই। তবে তার আগেই যেন শামিয়ানার নিচে বসা ৬২ শিশুর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার অন্ধকারে হারিয়ে না যায়, সেটিই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

এমএসএম / এমএসএম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ভিতরবন্দ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে গণসংযোগে মাহমুদুল হাসান মাহমুদ

নিহত সেনাসদস্য পিয়াসের দাফন সম্পন্ন: "এলাকাজুড়ে চলছে শোকের মাতম

মাদক মামলায় আটক নারীকে আদালতে নেয়ার পথে মৃত্যু

মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ভাবনা থেকে বাবুগঞ্জে হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশনের যাত্রা

জনসেবার ধারাবাহিকতায় আবারও ভোটের মাঠে শাহীন হাওলাদার

তজুমদ্দিনে যুবলীগ সভাপতি গ্রেফতার

চিলমারীতে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও অভিভাবক/মা সমাবেশ-২০২৬ অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিরাপদ অভিবাসন ও পুনর্বাসন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ফুলছড়িতে বিদ্যালয় স্থানান্তর নিয়ে ৯ মাসের বিরোধ, রোদ-বৃষ্টিতে চলছে পাঠদান

ওয়ার্ল্ড ভিশন পিরোজপুরের উদ্যোগে Joy of Giving অনুষ্ঠিত

সাংবাদিকের মোবাইল চুরি: বিকাশের পিন রিসেট ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

ঘিওরে মহীলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও গাছের চারা বিতরণ

বেনাপোল বন্দরে ৩ ট্রাক পণ্য লোপাটের অভিযোগ: দুই রাজস্ব কর্মকর্তা বরখাস্ত