কালের পরিক্রমায় সাপের খেলা এখন স্মৃতির ফ্রেমে বন্দী
একসময়ে গ্রাম-গঞ্জের হাট-বাজারের অলিগলি কিংবা রেলস্টেশনের পাশে সাপুড়েরা সাপ খেলার মজমা জমাতো। তখন সাপ খেলা দেখতে ভীড় জমাতো সব বয়সী মানুষ। অথচ কালের বিবর্তনে ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে গ্রাম-গঞ্জের চিরচেনা ঐতিহ্য সাপ খেলা।
'কি সাপে দংশিলো রে, লক্ষিন্দরের, বিধি কি হইলো রে' জনপ্রিয় এ গীতটি সাপ খেলা দেখানোর সময় বেদেদের মুখে শোনা যেতো। বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই, যেখানে সাপের প্রসঙ্গ আসেনি। সাপকে নিয়ে রচিত হয়েছে গান, গল্প, ছড়া, কবিতা, নাটক, উপাখ্যান প্রভৃতি। সাপকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতেও দ্বিধা করেনি চিত্র পরিচালকরাও। উপমহাদেশে সারা জাগানো চলচ্চিত্র ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ চলচ্চিত্রটি কেউ কি ভুলতে পেরেছে? সাপকে কেন্দ্র করে নাগ নাগিনী, পদ্ম গোখরা, চন্দ্রাবতী, শঙ্খমালা, বেহুলা লক্ষিন্দর এমনি শতাধিক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। কবি সুকুমার রায় 'বাবুরাম সাপুড়ে' কবিতায় লিখেছেন- 'বাবুরাম সাপুড়ে, কোথা যাস বাপুরে; আয় বাবা দেখে যা, দুটো সাপ রেখে যা।' কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের গীতিমাল্য কাব্যের গানে সাপুড়ের বাঁশি ও নাচের সুরে উল্লেখ পাওয়া যায়- 'কে গো তুমি বিদেশী। সাপ-খেলানো বাঁশি তোমার বাজালো সুর কী দেশী।' কবি কাজী নজরুল ইসলামের গানে এসেছে- 'গগনে খেলায় সাপ বরষা-বেদিনী। দূরে দাঁড়ায়ে দেখে ভয়-ভীতা মেদিনী।' কিন্তু বর্তমান আধুনিক যুগে বাস্তব সাপ খেলার আগ্রহ কমে যাওয়ায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সাপ খেলা এখন শুধুই স্মৃতি।
উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সাথে কথা বললে তারা সকালের সময়কে বলেন, এমন এক সময় ছিল যখন সাপুড়েরা দলবেঁধে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেরাতো, কখনো বেদেরা তাদের নৌকার বহরে আবার কখনো হেঁটে হেঁটে। গ্রাম-গঞ্জের খোলা মাঠে তাঁবু টানিয়ে রাত কাটাত তারা। সকাল হতেই সাপের ঝাঁপি কাঁধে নিয়ে পোঁটলা, পাটুলিসহ বেরিয়ে পড়তো গ্রামে গ্রামে। বেদেরা বিভিন্ন হাট-বাজারে সাপ খেলা দেখানোর পাশাপাশি বিক্রি করতো বনজ ঔষধ, তাগা, তাবিজ, দশী ও সজ-সমল্লা। আর বেদেনীরা ঝাড়ফুঁক, সিংগা বসিয়ে, তন্ত্র-মন্ত্র পড়ে গৃহস্থ বাড়ির নারীদের কাছ থেকে চাল-ধান সংগ্রহ করতো। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সাপের খেলা দেখানো সাপুড়েরা অভাবের তাড়নায় নিজেদের পেশা বদল করায় এখন আর সাপের খেলা তেমন চোখে পড়ে না। সবমিলে আমরা হারাতে বসেছি গ্রামবাংলার লোকজ ঐতিহ্য সাপ খেলা।
বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েকজন সাপুড়ের সাথে কথা বললে তারা আক্ষেপ করে জানান, এমন একটা সময় ছিল তখন সাপ খেলা, ঝাড়ফুঁক, বনজ ওষুধ, কবজ, তাগা বিক্রি করে সংসার ভালোই চালাইতাম। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এই পেশা আর ঠিকমতো চলছে না। বর্তমান আধুনিক যুগের মানুষ আাদের ঝাড়ফুঁক আর বিশ্বাস করতে চায় না। এখন আমাদের আগের মত আর আয় রোজগার নেই বললেই চলে। এই দুর্মূল্যের বাজারে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই আমাদের অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়েছে।
বারহাট্টা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাসুদ মোস্তফার সাথে কথা বললে তিনি জানান, 'ঐতিহাসিক জেমস ওয়াইজের মতে- সংস্কৃত ব্যাধ থেকে বেদে শব্দটি এসেছে। বলা হয়ে থাকে, বেদুইন থেকে বেদে শব্দের উদ্ভব।' বেদেদের আদি নিবাস মিসরে। বেদুইন হিসেবে মিসর থেকেই তাদের প্রথম পথচলা শুরু। খ্রিস্টীয় সাত শতকের শেষদিকে তাদের পূর্বপুরুষরা আরব উপদ্বীপের আলবাদিয়া বন্দরে বসবাস করত। অন্য এক তথ্যানুযায়ী, তারা পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার পান্ডুয়াতে সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। তারা মাদ্রাজের অধিবাসী বলেও মত রয়েছে। আবার কারো মতে, বেদেরা বাংলাদেশে এসেছে আরাকানের মনতং-মান্তা নৃ-গোত্র থেকে।
কথা হয় বারহট্টা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক শামছ উদ্দিন বাবুলের সাথে তিনি বলেন, একসময় সারাদেশেই সাপের খেলা বেশ জনপ্রিয় ছিলো। এখন হারিয়ে যাচ্ছে। বিষধর সাপও যে মানুষের পোষ মানে তা সাপুড়েদের কারসাজি দেখে বোঝা যায়। সাঁপুড়ে যখন বীন বাঁজিয়ে পা নাড়াতো আর সাপ বীনের সুরে মাতাল হয়ে ফোস্.. ফোস্.. শব্দ করতো, তখন কার না ভাল লাগতো। কিন্তু কালের পরিক্রমায় সাপ খেলার দৃশ্য এখন শুধুই স্মৃতি। এমন একসময় আসবে তখন বিষধর সাপ নিয়ে খেলা দেখানোর ঘটনা শিশুদের হয়তো বা ইতিহাসের পাতা থেকে জানতে হবে।
এমএসএম / এমএসএম
তরুণরা চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হতে হবে, ইসমাইল জবিউল্লাহ
বরগুনায় জি,টিভির প্রাইভেটকারও ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত -২
পর্যটন ও পরিবেশ সুরক্ষায় কুয়াকাটায় তারুণ্যের উৎসব
পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নাই,চাল আসবাবপত্র সব পুড়ে ছাই
শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে শালিখা থানা পুলিশের মোটরসাইকেল মহড়া
চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের অধিগ্রহণের চেক বিতরণ
এসি বাস চালু হতেই ফের বাধা, বাঁশখালীতে আটকে দেওয়া হলো এসআর পরিবহনের দুই এসি বাস
কুমিল্লা কবি পরিষদের দাউদকান্দি শাখার সভাপতি আমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক শাকিল সরকার
সুবর্ণচরে কৃতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান
গোপালগঞ্জে সাইফুর রহমান নান্টুর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
কক্সবাজার জেলা ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন
সুবর্ণচরে কৃতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান