ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জনগণের ভোট আছে, অধিকার কতটা আছে– প্রশ্ন তাসনিম জারা


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫-৯-২০২৬ বিকাল ৭:০

গণতন্ত্রকে শুধু পাঁচ বছর পরপর ভোট দেওয়া কিংবা ক্ষমতার পালাবদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে এর প্রকৃত অর্থই হারিয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা। তিনি বলেন, নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি অংশ মাত্র।

নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে জনগণের অধিকার, সরকারি সেবা, জবাবদিহি ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেটিই গণতন্ত্রের আসল পরীক্ষা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহি সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন এনসিপির সাবেক নেত্রী।

তাসনিম জারা বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই আমরা গণতন্ত্র বলতে বুঝি নির্বাচন হচ্ছে কি না এবং পাঁচ বছর পরপর ক্ষমতার পালাবদল হচ্ছে কি না। কিন্তু প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা হয় দুই নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে।

ওই সময়টাতেই জনগণের অধিকার, জবাবদিহি ও রাষ্ট্রীয় সেবার বাস্তব চিত্র প্রকাশ পায়।
তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের বাস্তবতায় নির্বাচন হলেই যেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

অথচ নির্বাচনেও নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচনে দেশি-বিদেশি অনেক পর্যবেক্ষক থাকলেও অনিয়মগুলো আমরা দেখিনি, এমন নয়।
নির্বাচনী ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির সাবেক এ নেত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের জন্য ব্যয়সীমা নির্ধারণ করে দেয়। প্রার্থী প্রতি নির্ধারিত অর্থ সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা অনুমোদিত সীমা। কিন্তু টিআইবির প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রায় ৭০ শতাংশ প্রার্থী নির্ধারিত ব্যয়সীমা অতিক্রম করেছেন। গড়ে তারা ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন।

তাসনিম জারা প্রশ্ন রাখেন, প্রার্থীরা অনুমোদিত সীমার চেয়ে এত বেশি অর্থ কোথা থেকে পাচ্ছেন এবং নির্বাচনের পর সেই অর্থ কীভাবে তুলে নেওয়া হচ্ছে?

তিনি বলেন, নির্বাচনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়, তা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য দুর্নীতি, চাঁদাবাজি কিংবা বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকেই সেই অর্থ তুলে নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটি প্রশ্নের বিষয়। এর ফলে জনগণ যে সেবা পাওয়ার কথা, সেখান থেকেও অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছে।

এনসিপির সাবেক এ নেত্রী বলেন, ‘ডেমোক্রেসি ফর এ বিজনেসম্যান বাই বিজনেসম্যান’ কথাটিকে আরও বিস্তৃত করে বলা যায়, দুর্ভাগ্যজনকভাবে গণতন্ত্র যেন এলিটদের জন্য হয়ে গেছে। ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা রাজনীতিবিদ, আমলা, ব্যবসায়ী কিংবা মিডিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশি সুরক্ষিত।

স্বাস্থ্যসেবার উদাহরণ দিয়ে তাসনিম জারা বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন সাধারণ মানুষ গেলে অনেক সময় স্বাভাবিক সেবাটুকুও পাওয়া যায় না। নরমাল স্যালাইন বা গজের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসও বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়। অথচ একজন মন্ত্রী বা ভিআইপি হাসপাতালে গেলে সবকিছুই পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা মানুষের জন্য সরকারি সেবা এক রকম, আর সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকারি অফিসে গেলেও নাগরিকদের অনেক সময় এমন আচরণের মুখোমুখি হতে হয়, যেন তারা কোনো অধিকার নিয়ে নয়, বরং কারো অনুগ্রহ নিতে এসেছেন।

এনসিপির সাবেক এ নেত্রী বলেন, নাগরিক হিসেবে মানুষের যে অধিকার, যে সেবা পাওয়ার কথা, সেটি পাওয়ার ক্ষেত্রে যেন অনুগ্রহের অভিজ্ঞতা না হয়। এটি রাষ্ট্রের দেওয়া কোনো দয়া নয়, বরং নাগরিকের প্রাপ্য সেবা।

জনগণকে ক্ষমতার উৎস এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তাসনিম জারা বলেন, আইন পাস বা খসড়া করার ক্ষেত্রে জনগণের অংশগ্রহণ কতটুকু থাকে, সেটিও প্রশ্ন। ভোটের সময় জনগণের কাছে যাওয়া হয়, কিন্তু ভোট হয়ে গেলে তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ থাকে না, এমন একটি ধারণা মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ভোট চাইতে গেলে জনগণ বুঝে যে এখন আসছে, এরপর আর খবর থাকবে না। এরপর শুধু শোষণের মুখেই থাকবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অতীতের অভিজ্ঞতায় এমন বাস্তবতাই দেখা গেছে।

বর্তমান সময়েও বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি মন্তব্য করে এনসিপির সাবেক এ নেত্রী বলেন, উপর দিয়ে হয়ত কিছু নাম, রং, প্রচ্ছদ কিংবা মডেল পরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু ভেতরের যে ব্যবস্থা, সেই রেন্ট-সিকিং ও দুর্নীতির কাঠামো অনেকটাই অটুট রয়েছে। কারণ এ ব্যবস্থা রাজনৈতিক ও অন্যান্য এলিটদের স্বার্থ রক্ষা করে।

তাসনিম জারা বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এ ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করা না হবে এবং ভেঙে পরিবর্তন আনা না হবে, ততক্ষণ এটি চলতে থাকবে। একইসঙ্গে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে এসব অধিকার রক্ষা করতে হবে। একইভাবে টিআইবির মতো নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোকেও অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

এনসিপির সাবেক এ নেত্রী বলেন, একসময় আমরা হয়ত মেনে নিয়েছিলাম যে ক্ষমতার কাছাকাছি যারা থাকেন, তারাই অধিকার পাবেন এবং সাধারণ মানুষ বঞ্চিত থাকবেন। কিন্তু এখন আমাদের বলতে হবে, এটি বাস্তবতা হতে পারে না। আমাদের পরিবর্তন দরকার।

‘আশাটা বাঁচিয়ে রাখতে হবে’ উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, নিজেদের অধিকার নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে। যখন আমরা অধিকার রক্ষার লড়াই বন্ধ করে দেব, তখন সেই অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য অনেকেই বসে আছেন, যারা সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে সেখান থেকে লাভবান হন।

সবশেষে তিনি বলেন, গণতন্ত্র কোনো উপহার নয়, এটি প্রতিদিন রক্ষা করতে হয়। যেদিন আমরা গণতন্ত্র রক্ষার চেষ্টা বন্ধ করব, সেদিনই আমাদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তাই সবাইকে দৃঢ়ভাবে গণতন্ত্রের অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, জাতীয় সংসদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা কমিটির সদস্যসচিব ও নারী নেত্রী মনিষা চক্রবর্তী, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রমুখ।

aliul / aliul

জনগণের ভোট আছে, অধিকার কতটা আছে– প্রশ্ন তাসনিম জারা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে গাফিলতি ছিল কি না, তদন্তের দাবি জামায়াতের

পুরোনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, দলীয়করণে ন্যায়বিচার সম্ভব নয়

১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ নিয়ে ফেসবুক লাইভে আসবেন আসিফ মাহমুদ

সংকট মোকাবিলায় সরকারের অদক্ষতা জাতির কাছে স্পষ্ট : হামিদুর রহমান

১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত

মুচলেকার দাবি ‘অপপ্রচার’, ইজতেমার তারিখ ঘোষণার দাবি নিজামুদ্দিনপন্থীদের

সার নিয়ে বিক্ষোভে মামলা-গ্রেপ্তারে কৃষক শক্তির ক্ষোভ

সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে : রিজভী

মহিলা দলের নেতাকর্মীরা সরকারের অংশ : রিজভী

জাতি এখন সবচেয়ে বড় সংকটে আছে : ডা. শফিকুর রহমান

সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল প্রত্যাহার করতে হবে: খেলাফত মজলিস