ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

গ্রামীণ মেলার ঐতিহ্যবাহী মুখরোচক খাবার এখন শুধুই স্মৃতির ক্যনভাসে


বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি photo বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯-৯-২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাঙালী সংস্কৃতির চিরাচরিত ঐতিহ্যের অপরিহার্য অংশ হলো গ্রামীণ মেলা। আর মেলায় মুখরোচক খাবারের জন্য ভোজন রসিক হিসেবে বাঙালির সুনাম রয়েছে বিশ্বব্যাপী। একসময়ে মেলা মানেই সুস্বাদু ও মুখরোচক খাবারের তালিকায় ছিল- নিমকি, গুড়ের জিলাপি, কটকটি, আঙুল ভাজা, বাদাম টানা, সেকারিনের ছোট গোল্লা, ঝাল-পিয়াজ দিয়ে মাখানো চানাচুর, গজা, তিলের খাজা, মুড়ালি, হাওয়াই মিঠাইসহ হরেক রকমের টক-ঝাল-মিষ্টি খাবার।।তবে কালের বিবর্তন ও আধুনিক যুগের ছোঁয়ায় পাল্টাচ্ছে গ্রামীণ মেলার চিরাচরিত ঐতিহ্যবাহী খাবারের কদর। ফলে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ মেলার চিরাচরিত ঐতিহ্যবাহী এ খাবারগুলো।

বাঙালির জীবনের সঙ্গে মেলার যোগসূত্র দীর্ঘকালের। উৎসব, বিনোদন, কেনা-বেচা আর সামাজিক মেলবন্ধনের উত্তম ক্ষেত্র ছিল মেলা। বাঙালীর চেতনাকে উজ্জীবিত করে তোলে এই মেলা। মেলা নিয়ে রচিত হয়েছে গান, কবিতা, গল্প। গ্রাম্য মেলা ও উৎসবের আবহ নিয়ে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত কবি আহসান হাবীব "মেলা" কবিতায় লিখেছেন- "আর এক মেলা জগৎ জুড়ে/ ভাইরা মিলে বোনরা মিলে-
রং কুড়িয়ে বেড়ায় তারা নীল আকাশের অপার নীলে।" এছাড়াও কবি ডক্টর মুহাম্মদ জাকির হোসেন বিপ্লব "গ্রামের মেলা" কবিতায় গ্রাম্য মেলার সুন্দর প্রতিচ্ছবি তুলে লিখেছেন- "মেঠো পথে ধুলো উড়িয়ে ছুটে চলা বায়, গ্রামের মাঠে আজ যে খুশির বন্যা বয়ে যায়। নাগরদোলায় চড়ে শিশু দিচ্ছে যে চিৎকার, আনন্দে আজ মেতে উঠেছে ছোট-বড় সব তার।"

মেলার অনুভূতি জানতে কথা হয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ষাটোর্ধ কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তির সাথে তারা সকালের সময়কে জানান, একসময়ে প্রতিটি এলাকাতেই জমজমাট মেলার আয়োজন করা হত। আজও গ্রামীণ মেলার কথা মনে হলেই সবার আগে মনে পড়ে যায় বিভিন্ন রকম মিষ্টি, জিলাপি, সাজ-কদমা, খাজা, তিলের নাড়ু, নারকেলের নাড়ু, নারকেলের তৈরী সন্দেশ, কটকটি, নিমকি, বাতাসাসহ হরেক রকম মুখরোচক খাবারের কথা। এখন বয়স বেড়েছে তবুও এসব খাবার চোখে সামনে পড়লেই জিভে জল চলে আসে। তখন সাহস করে লুকিয়ে হলেও মুখে ঢুকিয়ে দেই।

তারা বলেন, গ্রামীন মেলা যেমন- বারুনী মেলা, রথের মেলা, নবান্নের মেলাসহ, অষ্টমী মেলা, সনাতনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন মেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা মেলার ঐতিহ্য বিন্নি ধানের খই, খই ও গুড় দিয়ে তৈরি উখড়া, বড় বাতাসা (আঞ্চলিক নাম খেলনা) ঘোড়া, হাতি, মটুক, পাখি ও নৌকার সাজ নিয়ে দোকান সাজিয়ে বসেন। কিন্তু বর্তমান মেলা গুলোতে এসব ঐতিহ্যবাহী পন্যের দেখা মেলাই ভাগ্যের ব্যাপার। পুরানো ঐতিহ্যকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে এখনও নাতি-নাতনীদের নিয়ে মেলায় গিয়ে ঘুরে আসি। যেন তারা বাঙালির চিরাচরিত ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত হতে পারে।

কথা হয় উপজেলার রায়পুর এলাকার বিভিন্ন মেলায় খাবারের দোকান নিয়ে আসা নিমাই মন্ডল, সতিশ দাস, সাহতা এলাকার নিজাম উদ্দিন, আব্দুল জব্বার, চিরাম এলাকার নন্দন সরকার ও বলরাম পোদ্দারের সাথে কথা বললে তারা বলেন, এ ব্যবসা আমাদের বাপ-দাদার আমলের ব্যবসা। তাই এখনও ধরে রেখেছি। আমরা প্রায় ৩০-৩৫ বছর ধরে এলাকার বিভিন্ন গ্রামীণ মেলায় জিলাপি, মুরালি, বিন্নি ধানের খই, উখড়া, তিল্লুয়া, বড় বাতাসা (আঞ্চলিক নাম খেলনা) বিক্রি করি। এ পেশা দিয়ে সংসার চলে না। তাও বর্তমানে এ পেশার উপর নির্ভর না করে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন মেলা উপলক্ষে এসব খাবার বিক্রি করে থাকি।বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামস উদ্দিন বাবুল বলেন, আবহমান বাংলার দীর্ঘদিনের লালিত ঐতিহ্যবাহী এসব খাবার নতুন প্রজন্ম কিংবা শহুরে মানুষের কাছে আরো পরিচিত করে দেয় মেলাসহ বিভিন্ন উপলক্ষ্য। ফলে গ্রামীণ সংস্কৃতির ছোঁয়া লাগে নগর সংস্কৃতিতেও।

তিনি আরও বলেন, বিগত কয়েক দশক আগেও মেলা ছাড়াও গ্রামের হাট-বাজারে গেলে দেখা যেতো এসব খাবারের পসরা। এমন একসময় ছিল, দাদা-নানার হাত ধরে বাজারে আসা নাতি-নাতনির প্রধান আবদারই থাকত চানাচুর, কটকটি, নিমকি, মুড়ালি ইত্যাদি মুখরোচক খাবার। অথচ সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবার কাছে এসব মুখরোচক খাবার সচরাচর দেখা যায় না।

এমএসএম / এমএসএম

দুর্গাপূজা ঘিরে সম্প্রীতির আহ্বান, সাংবাদিকদের সঙ্গে কল্যাণ ফ্রন্টের মতবিনিময়

চাঁদপুরে দুই আড়তদারের জরিমানা, ইলিশ ও নিষিদ্ধ কারেন্টজাল জব্দ

কালকিনিতে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ একাধিক মামলার আসামি গ্রেফতার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীতে তীব্র ভাঙন, ফসলী জমি ও বসতবাড়ি রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

চন্দনাইশে চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের দাপট: কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় বাসিন্দারা

টুঙ্গিপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে ৫২ মাঠকর্মীকে প্রশিক্ষণ

অটোরিকশাচালক সুমনই তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন

দৈনিক সকালের সময় নিউজের জেরে ভরাট হচ্ছে রাস্তা

বাগেরহাটে ৫ হাজার মিটার জাল ধ্বংস অবৈধ জাল বিক্রেতাকে অর্থদন্ড

টুঙ্গিপাড়ায় দুর্ঘটনার কবলে ঢাকাগামী বাস, হতাহত নেই

আধুনিকতার ছোঁয়ায় মার্বেলের নিখুঁত নিশানা আজ শুধুই স্মৃতি

কুড়িগ্রামে অধ্যক্ষ জমি ও টাকার বিনিময়ে চাকুরী দিলেন, অভিযোগ এলাকাবাসীর

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ