সার আছে, তবু সংকটের হাহাকার
মাঠে রোপা আমনের পরিচর্যার ভরা মৌসুমে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জেলার সদর, উখিয়া, টেকনাফ, চকরিয়া, মহেশখালী ও রামুসহ কয়েকটি এলাকায় সময়মতো সার না পাওয়ার শঙ্কায় এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকায় অসাধু ব্যবসায়ীদের অবৈধ মজুত ও পাচারের অভিযোগ তুলেছেন কৃষকদের একটি অংশ। তবে জেলা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই; অতিরিক্ত চাহিদার প্রবণতা ও গুজবের কারণেই মূলত বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাহিদামতো সার না পেয়ে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ভুগছেন অনেক কৃষক। উখিয়ার রত্নপালংয়ের কৃষক মোহাম্মদ মিয়া জানান, পাঁচ কানি জমিতে চাষাবাদ করলেও পরবর্তী ধাপের জন্য তিনি প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে পারছেন না। ফলে ভবিষ্যতে সংকট হতে পারে এমন ভয়ে অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সার মজুত করার চেষ্টা করছেন, যা বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। তবে একই এলাকার সোনালি নামের আরেক কৃষক জানান, তিনি এক কানি জমিতে চাষ করে স্বাভাবিকভাবেই সার পেয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয় ডিলারদের দাবি, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী জমির আনুপাতিক হারে সার দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু চাষিরা একবারে বাড়তি সার দাবি করায় এবং তা না পেয়ে সংকট বলে প্রচার করছেন।
উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, জেলায় পর্যাপ্ত সার সরবরাহ রয়েছে। কক্সবাজার সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল রানা জানান, ৪ হাজার ৪৭৫ হেক্টর আবাদি জমির বিপরীতে অতিরিক্ত বরাদ্দ এনেও বিতরণ করা হচ্ছে, ফলে বাস্তব কোনো সংকট নেই। চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী ও মহেশখালীর কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল গাফ্ফার জানান, তাঁদের এলাকায় বিতরণ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। রামু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা রহমান উল্লেখ করেন, ১০ হাজার ১৫০ হেক্টর জমির বিপরীতে নিয়মিত সার দেওয়া হচ্ছে, সংকটের খবর কেবলই গুজব।
সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ওঠা উখিয়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কামনাশিস সরকার জানান, ৯ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমির জন্য জুলাইয়ে ২৭০ টন, আগস্টে ৩০১ টন এবং সেপ্টেম্বরে ২৭০ টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অবৈধ মজুত ঠেকাতে অভিযান চালিয়ে সম্প্রতি ৭৫ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ১১ হাজার ৭০ হেক্টর জমির জন্য ১৭৩ টন বরাদ্দের বিপরীতে অতিরিক্ত ২৪৩ টন সার সরবরাহ করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের খবরের প্রভাবে হয়তো এক শ্রেণির কৃষকের মধ্যে প্যানিক বায়িং বা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামানিক জানান, জেলায় সার সংকটের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই; এটি মূলত কৃষক ও অসাধু মহলের ছড়ানো আতঙ্কের ফল। প্রতিটি উপজেলায় চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সার বণ্টন করা হচ্ছে। কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি, পাচার কিংবা অবৈধ মজুতের প্রমাণ পেলে কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এমএসএম / এমএসএম
মেঘনা তীরের জল বিলাসসহ দুই হোটেল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
রাজারহাটে চাচার বিরুদ্ধে ভাতিজিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১
কুড়িগ্রামে জিপিএ-৫ অনুষ্ঠান: শিক্ষার্থীদের মানবিক, সংবেদনশীল ও পরমতসহিষ্ণু মানুষ হইয়ার আহ্বান
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
ময়না তদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন হবে চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলের মরদেহ
পরিত্যক্ত মরমি বাউল সাধক উকিল মুন্সীর স্মৃতিকেন্দ্র, চলছে না সাংস্কৃতিক কার্যক্রম
দাউদকান্দিতে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, নগদ ৪ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট
মনপুরায় অধ্যক্ষ মহিউদ্দিনের ওপর হামলা: মামলা নিয়ে প্রশ্ন যুবদলের, তদন্তের দাবি
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন নদী বন্দরে শুল্ক আদায়ের নামে অতিরিক্ত চাঁদাবাজি'র প্রতিবাদে মানববন্ধন
রায়পুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সাব-রেজিস্ট্রার ও ঝাড়ুদার সোহেলের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের নামে মামলা
ফরেস্ট একাডেমী চট্টগ্রাম-পরিচালকের গাড়ীর ড্রাইভার আল আমিনের বেপরোয়া আচরণ