গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মাধব ছড়ায় মৎস্য কর্মকর্তার তদন্ত
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মাধব গাঙ্গের ছড়ায় বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা মৎস্য অফিস।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজল সরেজমিনে মাধব গাঙ্গের ছড়া পরিদর্শন করেন।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর মাধব গাঙ্গের ছড়ায় ক্ষতিকর কীটনাশকজাতীয় রাসায়নিক প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পুটি, টেংরা, বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, পোনা, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যাওয়ার অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি নিয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্টে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর আগে স্থানীয় ১২ জন বাসিন্দা বিষয়টি প্রতিকার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ১৪ সেপ্টেম্বর বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বুধবার বিকেলের দিকে মাধব গাঙ্গের ছড়ায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজল। পরে তিনি জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ছড়াটিতে বছরে দুই থেকে তিনবার বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগের কথা জানতে পেরেছেন। মিসবাহ উদ্দিন আফজল বলেন, ‘মাধব ছড়ায় বিষ দিয়ে মাছ শিকারের একটি অভিযোগ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে ঘটনাস্থলে এসেছি বিষয়টি দেখার জন্য।’ তিনি বলেন, ‘এখানে এসে কথা বলে জানতে পারলাম, বছরের প্রায় দুই-তিনবার কিছু অসাধু ব্যক্তি বিষ দিয়ে মাছ শিকারের অপকর্ম করে। কারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত, তা শনাক্তের চেষ্টা করছি। এ ক্ষেত্রে এলাকাবাসীকেও সহযোগিতা করতে হবে।’ বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারকে অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিষ দিয়ে মাছ মারা একধরনের ফৌজদারি অপরাধ। কেউ এ অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী সে অপরাধী। উপজেলার যেসব ছড়া রয়েছে, সেখানে যাতে কেউ বিষ দিয়ে মাছ শিকার না করে, সে জন্য সচেতনতা তৈরিতে মাইকিং করা হবে। এরপরও কেউ এ ধরনের অপকর্ম করলে তথ্য-প্রমাণসহ শনাক্ত করা সম্ভব হলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, ‘হাকালুকি হাওরের মৎস্যসম্পদ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বড়লেখা উপজেলা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর একটি এলাকা। এ এলাকার মাছের সুনাম সারা বাংলাদেশে রয়েছে। আমরা চাই, মাছের সুনাম ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাক। এ জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাধব গাঙ্গের ছড়ার পানিতে বিষ প্রয়োগের পর বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী মারা যায়। গত ১০ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে গিয়ে ছড়ার পানিতে মরা মাছ ভেসে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ছড়ার পানি প্রবাহিত হয়ে হাকালুকি হাওরে গিয়ে মেশে। ফলে সেখানে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়ে থাকলে এর প্রভাব হাওরের মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপরও পড়তে পারে। এ ঘটনায় বিষ প্রয়োগের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন ছড়া ও জলাশয়ে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এমএসএম / এমএসএম
নগরকান্দা উপজেলা প্রশাসন স্কুলে বছরে আয় ২০ লাখ, ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন
সুন্দরবনে যাচ্ছে মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা
মেঘনা নদী থাকবে নীরব, কীভাবে চলবে মনপুরার জেলে পরিবার?
নাগরপুরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করে ছুরিকাঘাতে স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা
মুকসুদপুরে মাতৃস্নেহ প্রতিবন্ধী যুব নারী উন্নয়ন সংস্থা আয়োজনে ফ্রি চিকিৎসা ও থেরাপি ক্যাম্পের উদ্বোধন
শালিখায় খেলার মাঠের দাবিতে ছাত্র-ছাত্রী ও গ্রামবাসীর মানববন্ধন
রাঙ্গামাটিতে সেনাবাহিনী কর্তৃক তরুণ-তরুণীদের বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও সনদপত্র বিতরণ
আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার কাচারি ঘর
চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসবিআর অভিযানে হেরোইনসহ যুবক গ্রেফতার
সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড: ইতিহাসের এক অদ্ভুত ফিরে দেখা
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং সন্দেহে এক রাতে আটক ৬২৪
আব্দুল মজিদের শেষ ঠিকানা এখন হাসপাতাল হাসপাতালই তার বসতবাড়ি, রোগীরাই তার পরিবার!