ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মনোহরগঞ্জে কালের সাক্ষী ৬৯ বছরের পুরোনো স্মৃতি

আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার কাচারি ঘর


আবদুর রহিম, মনোহরগঞ্জ photo আবদুর রহিম, মনোহরগঞ্জ
প্রকাশিত: ২৪-৯-২০২৬ দুপুর ১:১৬

আধুনিকতার ছোঁয়া ও নগরায়ণের প্রভাবে গ্রামবাংলা থেকে ক্রমেই বিলুপ্তির পথে একসময়ের সামাজিক মর্যাদা ও আভিজাত্যের প্রতীক ‘কাচারি ঘর’ বা ‘বাংলা ঘর’। নব্বইয়ের দশকের আগেও প্রতিটি সম্ভ্রান্ত গৃহস্থ বাড়ির প্রবেশমুখে শোভা পেত এই ঘর, যা অতিথিশালা, পথচারীদের বিশ্রামাগার, শিক্ষার্থীদের পড়ার কক্ষ, মক্তব কিংবা সালিস-বৈঠকের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামেই এখন আর আগের মতো কাচারি ঘরের দেখা মেলে না। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্যের সামান্য অবশিষ্টাংশ হিসেবে মৈশাতুয়া ইউনিয়নের হাটিরপাড় গ্রামের প্রয়াত সুরুজ ডিলার ও বাদশা মিয়ার বাড়ির সামনে বাংলা ১৩৭৪ সনে নির্মিত প্রায় ৬৯ বছরের পুরোনো একটি কাচারি ঘর এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও তা এখন চরম অযত্ন ও অবহেলায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ঈসা খাঁর আমল থেকে শুরু করে জমিদারি প্রথা চালু থাকা পর্যন্ত সময়ে প্রভাবশালী ও ভূস্বামীদের বাড়ির প্রবেশপথে খাজনা আদায়, সামাজিক সালিস-বিচার ও বৈঠক পরিচালনার জন্য কাচারি ঘর ব্যবহৃত হতো। পরবর্তীকালে চারচালা টিন, শনের ছাউনি কিংবা পাকা দেয়ালের ওপর নির্মিত এই ঘরগুলোতে জায়গির বা লজিং মাস্টার ও শিক্ষার্থীরা থাকতেন। সকালে ছোটদের আরবি পড়া, বিকেলে কৃষিশ্রমিক ও পথচারীদের বিশ্রাম এবং রাতে লুডু খেলা, গল্প-আড্ডা কিংবা জারিগানের আসরে মুখরিত থাকত কাচারি প্রাঙ্গণ। বাড়ির বাইরে পুরুষ ও অতিথিদের উপস্থিতির কারণে রাতের বেলা এলাকায় চুরি-ডাকাতির আশঙ্কাও কম থাকত।

তবে কালের পরিক্রমায় যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারে রূপ নেওয়া এবং ইট-পাথরের আধুনিক অট্টালিকা নির্মাণের ভিড়ে হারিয়ে গেছে সেই সোনালি সংস্কৃতি। কোথাও কোথাও টিকে থাকা কাচারি ঘরগুলো এখন রূপ নিয়েছে গোয়ালঘর কিংবা খড়কুটো রাখার গুদামে। হাটিরপাড় গ্রামের দেলোয়ার হোসেন জানান, তাঁর বাবা ও চাচারা বেঁচে থাকতে প্রতি বছর পরম যত্নে কাচারি ঘরটি মেরামত করতেন, কিন্তু তাঁদের মৃত্যুর পর ঘরটি এখন কেবলই স্মৃতি হয়ে পড়ে রয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জয়নাল আবদিন বলেন, গ্রামবাংলার অন্যতম এই ঐতিহ্য প্রায় পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে; পূর্বপুরুষদের স্মৃতি হিসেবে গ্রামে যে একটি-দুটি ঘর টিকে আছে, সেগুলোও এখন পুরোপুরি ব্যবহারহীন ও পরিত্যক্ত। যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্যবাহী সামাজিক প্রতিষ্ঠানটি অচিরেই কেবল বইয়ের পাতা ও গল্পের স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এমএসএম / এমএসএম

নগরকান্দা উপজেলা প্রশাসন স্কুলে বছরে আয় ২০ লাখ, ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

সুন্দরবনে যাচ্ছে মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা

মেঘনা নদী থাকবে নীরব, কীভাবে চলবে মনপুরার জেলে পরিবার?

নাগরপুরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করে ছুরিকাঘাতে স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

মুকসুদপুরে মাতৃস্নেহ প্রতিবন্ধী যুব নারী উন্নয়ন সংস্থা আয়োজনে ফ্রি চিকিৎসা ও থেরাপি ক্যাম্পের উদ্বোধন

শালিখায় খেলার মাঠের দাবিতে ছাত্র-ছাত্রী ও গ্রামবাসীর মানববন্ধন

​রাঙ্গামাটিতে সেনাবাহিনী কর্তৃক তরুণ-তরুণীদের বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও সনদপত্র বিতরণ

আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার কাচারি ঘর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসবিআর অভিযানে হেরোইনসহ যুবক গ্রেফতার

সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড: ইতিহাসের এক অদ্ভুত ফিরে দেখা

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং সন্দেহে এক রাতে আটক ৬২৪

আব্দুল মজিদের শেষ ঠিকানা এখন হাসপাতাল হাসপাতালই তার বসতবাড়ি, রোগীরাই তার পরিবার!

গাজীপুরে ঝালমুড়ি বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত