ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এইসএসকোড কারসাজি,পরীক্ষণে ধরা

বেনাপোলে কেমিক্যাল পণ্য চালানে কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি উদঘাটন


সুমন হোসাইন, শার্শা photo সুমন হোসাইন, শার্শা
প্রকাশিত: ২৬-৯-২০২৬ দুপুর ১১:৪৯

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে কম শুল্কের কেমিক্যাল পণ্য ঘোষণা দিয়ে উচ্চ শুল্কের আঠা তৈরির রাসায়নিক আমদানির ঘটনায় ১ কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা ৬ পয়সা রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা টিম। পণ্য চালানটির  আমদানিকারক ঢাকার ওএসএল ফার্মা লিমিটেড এবং ছাড়করণের দায়িত্বে ছিলো সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সোনালী এজেন্সী। এ ঘটনায় আমদানিকারক ওএসএল ফার্মা লিমিটেডকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও ২ লাখ টাকা বিমোচন জরিমানা করা হলেও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা নেইনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। 
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ঢাকার আমদানিকারক ওএসএল ফার্মা লিমিটেড ভারত থেকে ৩০ হাজার ৩৬০ কেজি ‘ইপোক্সাইড রেজিন’ ঘোষণায় রাসায়নিকের একটি চালান আমদানি করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানটি কায়িক পরীক্ষা করে। এ সময় ইপোক্সাইড রেজিনের পাশাপাশি পলিয়ামাইড রেজিনও পাওয়া যায়। ঘোষণায় এইচএসকোড ৩৯০৭৩০০০ ঘোষণা করেন। এ এইচএস কোডে পণ্যের টিটিআই ছিল ৩৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ফলে ঘোষিত এইচএস কোড অনুযায়ী চালানটির শুল্ক-কর দাঁড়ায় ১ কোটি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭০ টাকা। কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় চালানটিতে দুই ধরনের রাসায়নিক পণ্য পাওয়া যায়।
পরে,পণ্যের প্রকৃত পরিচয় ও শ্রেণিবিন্যাস নিশ্চিত করতে নমুনা খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যাল (কুয়েট) পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষাগারের প্রতিবেদনে নমুনা দুটি যথাক্রমে ইপোক্সাইড রেজিন ও পলিআমাইড রেজিন হিসেবে শনাক্ত হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষায় দেখা যায়, নির্দিষ্ট অনুপাতে এ দুটি উপাদান একত্রে মিশ্রিত করলে অ্যাডহেসিভ বা আঠা তৈরি হয়। সে অনুযায়ী চালানটির সঠিক এইচএস কোড নির্ধারণ করা হয় ৩৫০৬৯১৯০। সঠিক শ্রেণিতে এইচএস কোডে পণ্যটির টিটিআই ৭৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। ফলে সব মিলিয়ে আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৩৯ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা।
বন্দরের ব্যবসায়ীরা জানান, কাস্টমস হাউসের বদলী না কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে পরীক্ষণ কারসাজি আর ফাইল প্রতি অন থার্ড ঘুস বাণিজ্যের ফাঁদে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি হচ্ছে। কিছু কর্মকর্তা অসাধু চক্রের সাথে হাত মিলিয়ে, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধির অফিসে বসে উচ্চ শুল্ক পণ্যের “এইচএস কোড” পরিবর্তে নিন্ম এইচএস কোড দিয়ে আমদানি শুল্ক অন থার্ড ঘুস বাণিজ্যের ভাগভাগিতে ফাইল পাশ করিয়ে দিচ্ছে। সব থেকে বড় কারসাজি ঘটছে পণ্য পরীক্ষণের সময় নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে। অসাধু কর্মকর্তারা পরীক্ষাগারে নিন্ম শুল্ক যুক্ত নমুনা প্রেরণ করছে। যাতে কাগজে কলমে সব সঠিক দেখায়। আর নমুনা পরীক্ষাও খুব কম পরিমান পণ্য চালানে হয়ে থাকে। 
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বেনাপোল কাস্টমস হাউসে কেমিক্যাল পণ্য শুল্কায়ণ গ্রুপ-২ এ হয়ে থাকে। আর এ গ্রুপে থাকা কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে উচ্চ শুল্ক যুক্ত এমন কেমিক্যাল পণ্য চালান অনায়াসে খালাশ পাচ্ছে। শুধুমাত্র আমদানিকারক ওএসএল ফার্মা লিমিটেডই রাজস্ব ফাঁকিতে লিপ্ত তেমনটি নয়। আরও অনেক আমদানিকারক ইপোক্সাইড রেজিনের নামে প্রিপেয়ার্ড অ্যাডহেসিভ আমদানি করে কাস্টমস কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে, বিশেষ ব্যবস্থায় পণ্য চালান খালাস করে নিয়ে যাচ্ছে। ইতিপূর্বে এমন অনেক চালান খালাস করে নিয়ে গেছে বলে তথ্য উঠে এসেছে। এদিকে পণ্য পরীক্ষণ ও এইচএস কোড নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে এসছে এই গ্রুপের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। 
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব ফ্যাঁকিবাজ চক্র আর রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা অনুসন্ধানের দায়িত্বরতরা একাকার হয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অক্টোপাসের মত জড়িয়ে রয়েছে। বন্দরটিকে ধ্বংসের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সাথে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র। তাছাড়া শুল্ক ফাঁকি পণ্য চালান ধরা পড়লেও পণ্য খালাসে নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে কঠিন আইনগত ও ফৌজদারী মামলা না হওয়াতে পুনরায় একই কাজ অব্যহত থাকছে। ফলে শুল্ক ফাঁকি রোধের কোন কিণারা পাচ্ছে না এ বন্দর।  
অনুসন্ধানে জানা যায়, শুল্ক গোয়েন্দা রাজস্ব ফাঁকি, চোরাচালান এবং অবৈধ পণ্য আমদানি-রপ্তানি রোধ, মানি লন্ডারিং,ওজন কারচুপি ও দোষী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা,মামলা ও অনিয়ম রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। অথচ বেনাপোলে হচ্ছে তার উল্টোটা।  বেনাপোলে দায়িত্বরত কাস্টমের শুল্ক গোয়েন্দা শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা কেএম ফয়সাল, আব্দুল্লাহ আল নোমান ও নঈম আব্দুল্লাহ-র ঘুষ-দুর্নীতি এখন তুঙ্গে রয়েছে। প্রতি পণ্য চালানে তাদের হিস্যার পরিমাণ বর্তমানে সব সীমা পেরিয়ে ৫০ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকেছে বলে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা অভিযোগ করেছেন। 
বেনাপোল কাস্টমসের উদ্ধর্তন কর্মকর্তা জানান, শুল্ক ফাঁকিতে বন্ডের কাগজপত্র, গার্মেন্টস ও কেমিক্যাল জাতীয় পণ্যের চালানে তুলনামূলক বেশি অনিয়মের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এসব চালানের ক্ষেত্রে ঘোষণার সঙ্গে প্রকৃত পণ্য, পরিমাণ ও পণ্যের ধরন মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীরা পূর্বের পণ্য চালান খালাশের নথিপত্র ও টেস্ট রিপোর্ট দাখিল করে দ্রুত পণ্য খালাশের তাগিদ দেন। এক্ষেত্রে আমরাও দ্রুত পণ্য চালান খালাশ দেই। তবে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভিন্ন ভাবে এসব উপায় কাজে লাগিয়ে পণ্যের শ্রেণীবিন্যাশ ও মিথ্যা ঘোষণা দিচ্ছে বলে তথ্য রয়েছে।
সোনালী এজেন্সীর মালিক শামিম হোসেনের মুঠোফোনে একধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 
তবে এবিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের এআরও ফয়সাল জানান, আমার কাছে কোন তথ্য নেই আমি ছুটিতে রয়েছি। তাছাড়া এখন থেকে সদর দপ্তর থেকে সকল তথ্য পাওয়া যাবে। তারা কোন তথ্য দিতে পারবেন না, উপরের নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বেনাপোল সার্কেলের পরিচালক মোশাররফ হোসেন সেলিমের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Aminur / Aminur

টঙ্গীতে অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে যুবদল নেতার সংবাদ সম্মেলন

বেনাপোলে কেমিক্যাল পণ্য চালানে কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি উদঘাটন

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা বাঁধে ধস,

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও কীটনাশক প্রয়োগ কর্মসূচি পালিত

দাউদকান্দিতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাছ কাটা ও খামার ভাঙচুরের অভিযোগ

মনপুরায় ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক

প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী জনবল সংকটে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নাসিরনগরে গলায় ফাঁস দিয়ে তরুণের আত্মহত্যা

টাঙ্গাইলে স্মৃতি-আড্ডা আর আনন্দে ব্যবস্থাপনা বিভাগের অ্যালামনাই

ভারতের চোরাই মালসহ গ্রেফতার -১

ধামইরহাট উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ ও মিছিল

কুড়িগ্রামে ৭ম কাব ক্যামপুরি অনুষ্ঠিত

বিলাইছড়িতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কার বিতরণ