ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জ্বালানির দাম ইস্যুতে শেয়ারবাজারে ফের উদ্বেগ


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬-৯-২০২৬ দুপুর ৩:৮

সাম্প্রতিক দরপতনের পর টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। কম দামে পাওয়া তুলনামূলক ভালো মৌলভিত্তির ও বাছাই করা শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় সপ্তাহজুড়ে সূচক ও লেনদেন-দুটিই বেড়েছে। তবে এর মধ্যেই সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাজারের এই ঘুরে দাঁড়ানোকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন, উৎপাদন ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে। এতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মুনাফায় চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিও বাড়তে পারে। আর মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়লে ঋণের সুদহার কমানোর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব কারণে বিনিয়োগকারীদের একাংশ নতুন করে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

তবে জ্বালানির দাম বাড়ার উদ্বেগের মধ্যেও সপ্তাহে বাজারে বেশ ভালো লেনদেন হতে দেখা গেছে। সাম্প্রতিক দরপতনে যেসব শেয়ারের দাম কমে আকর্ষণীয় পর্যায়ে এসেছিল, সেগুলোর মধ্যে বাছাই করে বিনিয়োগ করেছেন অনেকে। ফলে সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিনই ডিএসইতে সূচক বেড়েছে। বাকি দুই দিন ছিল দরপতন।

সপ্তাহ শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৫৭৮ পয়েন্টে উঠেছে। আগের সপ্তাহেও সূচক বেড়েছিল। ফলে দুই সপ্তাহে ডিএসইএক্স বেড়েছে মোট ৬৩ পয়েন্ট।

জ্বালানির দাম নিয়ে নতুন উদ্বেগ

গত রোববার রাতে সরকার চার ধরনের প্রধান জ্বালানি পণ্যের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে এ দাম বাড়ানো হয়।

জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব শেয়ারবাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশেষ করে যেসব কোম্পানির উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ের সঙ্গে জ্বালানির ব্যবহার সরাসরি জড়িত, তাদের পরিচালন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আগামী প্রান্তিকগুলোতে কোম্পানিগুলোর মুনাফা বৃদ্ধির গতি কমতে পারে।

একজন শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বাজার এমনিতেই চাপের মধ্যে ছিল। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো শেয়ারবাজারের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, এর প্রভাব কোম্পানিগুলোর মুনাফায় পড়তে পারে।

তিনি বলেন, উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের কারণে অনেক তালিকাভুক্ত কোম্পানির আগামী কয়েক প্রান্তিকে মুনাফা বৃদ্ধির গতি কমে যেতে পারে।

ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ইবিএল সিকিউরিটিজের সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায়ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে বাজারের জন্য নতুন উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, আকর্ষণীয় দামে থাকা শেয়ারে ব্যাপক দরকষাকষির মাধ্যমে কেনাকাটার কারণে বাজার বেড়েছে। তবে এই পুনরুদ্ধার কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে বিদ্যমান অর্থনৈতিক উদ্বেগ দূর হওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসার ওপর।

বড় মূলধনি শেয়ারে ভর করে বাড়লো সূচক

সপ্তাহে বড় মূলধনি কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি ডিএসইএক্সকে ঊর্ধ্বমুখী রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, ওরিয়ন ইনফিউশন ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক-এই চার কোম্পানি মিলে ডিএসইএক্স সূচকে ১৮ পয়েন্টের বেশি যোগ করেছে।

ডিএসইর ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস৩০ সপ্তাহে ১১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১১২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১৬ পয়েন্টে উঠেছে।

লেনদেন বেড়েছে ৪২ শতাংশ

সূচকের পাশাপাশি বাজারে লেনদেনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট ৩ হাজার ৯৩০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের ২ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকার চেয়ে ১ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা বেশি।

দৈনিক গড় লেনদেনও ৪২ শতাংশ বেড়ে ৭৮৫ কোটি টাকায় উঠেছে। আগের সপ্তাহে এর পরিমাণ ছিল ৫৫৫ কোটি টাকা। এতে বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

মোট লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বস্ত্র খাত। সপ্তাহের মোট লেনদেনের ২০ দশমিক ৫ শতাংশ এসেছে এ খাত থেকে। এরপর সাধারণ বিমা খাতের ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের ১৩ দশমিক ১ শতাংশ।

বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে

সপ্তাহে ডিএসইতে ২৫২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০৫টির দাম কমেছে এবং ২৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মিউচুয়াল ফান্ড খাত। এ খাতের গড় শেয়ারদর প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই), ওষুধ ও রসায়ন, প্রকৌশল, টেলিযোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ খাতেও মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।

লেনদেনে ইস্টার্ন ব্যাংক শীর্ষে

সপ্তাহে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ারে। ব্যাংকটির প্রায় ১১০ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। লেনদেনের দিক থেকে পরের অবস্থানে ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, আইপিডিসি ফাইন্যান্স ও সাইহাম টেক্সটাইল।

সিএসইতেও ঊর্ধ্বগতি

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সপ্তাহ শেষে সূচক বেড়েছে। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক (ক্যাসপি) ১৭৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৯১২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর নির্বাচিত কোম্পানির সূচক (সিএসসিএক্স) ১২৫ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ১৪৮ পয়েন্টে উঠেছে। 

সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক দরপতনের পর টানা দুই সপ্তাহে শেয়ারবাজারে পুনরুদ্ধারের প্রবণতা দেখা গেলেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি বাজারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে কম দামে পাওয়া শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও বাড়তি লেনদেন বাজারকে চাঙা করছে, অন্যদিকে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা। ফলে বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা কতটা টেকসই হয়, তা অনেকটাই নির্ভর করবে জ্বালানির বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব কোম্পানিগুলোর মুনাফা ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে কতটা পড়ে তার ওপর।

aliul / aliul

জ্বালানির দাম ইস্যুতে শেয়ারবাজারে ফের উদ্বেগ

পুঁজিবাজারে আসছে র‍্যানকন মোটরস, তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি শুরু

কমলো সোনা ও রুপার দাম

চড়া সবজির বাজার, শিম ২০০ বেগুনের কেজি ১৬০!

সাধ আর সাধ্য মিলছে না ইলিশের বাজারে

সিনোবাংলায় স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগে বিএসইসির সম্মতি

ডলার ছাড়াই টাকায় আমদানি-রপ্তানির অর্থ পরিশোধের সুযোগ

পোশাক খাতের সমস্যা সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রত্যাশা

কানাডা-রাশিয়া-সৌদি আরব থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার টন সার কিনবে সরকার

জরিমানা মওকুফ চেয়ে বিএসইসির কাছে প্রাইম ফাইন্যান্সের আবেদন

টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

কারণ ছাড়াই বাড়ছে দুই ফান্ডের ইউনিটের দাম