যুবলীগ নেতা জুয়েলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ, বিপাকে সাধারণ মানুষ
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ৩ নং পানানগর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মহিপাড়া গ্রামের যুবলীগ নেতা জিয়াউর রহমান জুয়েলকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগের নামে অর্থ নেওয়া, অর্থনৈতিক লেনদেনে অনিয়ম, মোটরসাইকেল নিয়ে নেওয়া, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগীদের করা মামলা, সাধারণ ডায়েরি ও থানায় লিখিত অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক বাসিন্দা এবং জুয়েলের পরিবারের সদস্যের পক্ষ থেকেও তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জিয়াউর রহমান জুয়েল পানানগর ইউনিয়নের মহিপাড়া গ্রামের মৃত দেদার আলীর ছেলে। ২০১২ সালে তিনি পানানগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হন এবং ২০১৮ সাল পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান। পরবর্তীতে যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্রের দাবি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে তৎকালীন রাজশাহী-৫ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ডা. মো. মনসুর রহমানের সময়ে জুয়েল মহিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হন। পরে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ওই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের পর আব্দুল ওয়াদুদ দারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তার সঙ্গেও জুয়েলের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
জুয়েলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে মহিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়োগকে কেন্দ্র করে অর্থ নেওয়ার অভিযোগটি অন্যতম। অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয়ের সভাপতি থাকাকালে ২০২৩ সালে অফিস সহকারী, আয়া, নৈশপ্রহরী ও মালি—এই চারটি পদে নিয়োগের কথা বলে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা নেওয়া হয়। অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষক প্রতিনিধিদের একজন প্রতিবাদ করেন এবং তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে অর্থ দেওয়ার দাবি করা চাকরিপ্রত্যাশীরা জুয়েলের ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না।
এদিকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বাসিন্দা মিস্টার সিলবা নিউজের অভিযোগ, ২০২২ সালে জমির বায়না বাবদ তিনি জিয়াউর রহমান জুয়েলের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমির মূল্য পরিশোধ করে জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার কথা থাকলেও পরে জমি না নিয়ে বায়না টাকার লাভ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ তার। সিলবার দাবি, পরবর্তীতে লাভ হিসেবে আরও ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে জুয়েল তার কাছে আরও প্রায় ৮০ হাজার টাকা পাওনা দাবি করছেন।
সিলবার অভিযোগ, গত ২৯ জুন সকাল ১০টার দিকে জুয়েলের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তার নামে রেজিস্ট্রেশন করা রাজশাহী-ল ১৬-২২৯২ নম্বরের ডিসকভার ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলটি জোর করে নিয়ে নেওয়া হয়। একই সময় তাকে মারধর করে একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও পরে তাকে আরও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে দাবি সিলবার। পরে গত ২২ জুলাই দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে সিলবা প্রশ্ন করেন, সাধারণ মানুষ আইনগত প্রতিকার কোথায় পাবেন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় সহযোগিতা চেয়েও প্রত্যাশিত সহায়তা পাননি বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে জুয়েলের বড় ভাই কামরুজ্জামান সোহেলের স্ত্রী শিমু ইয়াসমিন লিপিও তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। লিপির অভিযোগ, ভুল তথ্য ও প্রলোভনের মাধ্যমে তার এফডিআরের অর্থের বিপরীতে বানেশ্বর শাখার আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঋণের অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় তিনি তার এফডিআরের টাকা ফেরত পাননি বলে দাবি করেন।
নিজের অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবিতে রাজশাহীর জেলা আমলি দুর্গাপুর আদালতে মামলা করেন লিপি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলাটি ৪০৮সি/২০২৬ (দুর্গাপুর) এবং এতে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৩৪ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলা করার পর তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে এবং মামলা প্রত্যাহার না করলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা ও লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লিপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগে হয়রানির অভিযোগে রাজপাড়া থানায় ১৪০৮ নম্বর সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি, যার তারিখ ২৬ জুলাই ২০২২।
লিপির আরও অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বর মামলার ধার্য তারিখে আদালতে উপস্থিত থাকার পর দুপুর আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় জুয়েল ও তার স্ত্রী লাবনীসহ পাঁচ থেকে ছয়জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালান। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনি রক্ষা পান বলে দাবি করেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে রাজশাহী জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারায় মামলা করেন তিনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলাটি ৬৮৯পি/২০২৬ (রাজপাড়া)।
এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও জিয়াউর রহমান জুয়েলের স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব কমেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ২০২৬ সালে পানানগর বাজার এলাকায় গোপন বৈঠকের মাধ্যমে তাকে পানানগর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি করা হয়েছে বলে স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও পানানগর ইউনিয়ন থেকে লোকজন নিয়ে অংশগ্রহণের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে দুর্গাপুরে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ৭৪ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হলেও ওই মামলায় জুয়েলের নাম না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে বলে তারা জানান।
এমএসএম / এমএসএম
মান্দায় আইওরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
বিলাইছড়িতে ৫৪ বস্তা ইউরিয়া সারসহ একজন আটক
পিরোজপুরে নবাগত পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়
আশুগঞ্জে শিশু মাহিদা ধর্ষণ ও হত্যা: অভিযুক্ত জাহিদুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
কোথায় আছে মিরা, বেঁচে আছে তো? নিখোঁজ স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারের আকুতি বাবার
ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ
আত্রাইয়ে ঐতিহ্যবাহী আহসানগঞ্জকে আধুনিক মডেল স্টেশন করা ও ট্রেনের স্টপেজের দাবিতে আলোচনা সভা
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে বইয়ের নেশায় আলোর ফেরিওয়ালা নাজমুল হুদা সারোয়ার
সিংড়ায় সার সংকট, খোলা বাজারে ও পর্যাপ্ত সার নাই
যুবলীগ নেতা জুয়েলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ, বিপাকে সাধারণ মানুষ
খাগড়াছড়িতে মালবাহী জীপ খাদে পড়ে চালক নিহত
মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পিতার কবর জিয়ারত করলেন মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা