আহত ব্যক্তি হাসপাতালে, আতঙ্কে পরিবার
চিতলমারীতে জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে হামলা, নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের পরানপুর পূর্বপাড়ায় দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জায়গা ও বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গভীর রাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও নির্মাণসামগ্রী নিয়ে শতাধিক লোকজনের উপস্থিতিতে একটি পরিবারের বাড়ি থেকে রাস্তায় বের হওয়ার একমাত্র পথটি টিন ও বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। এতে পরিবারটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ওবায়দুর মৃধা, বক্কর মৃধা, হাবিব মৃধা, জোবায়ের মৃধা ও এবাদুল মৃধাসহ কয়েকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে লোকজন নিয়ে তাদের ভোগদখলীয় জায়গা ও চলাচলের পথ দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মিজান শেখের উসকানি ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে বাড়ির আশপাশে লোকজনের শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে তারা দেখতে পান, তাদের বাড়ির সামনে ও চলাচলের জায়গায় বিপুলসংখ্যক লোকজন অবস্থান করছেন। পরে সেখানে টিন ও বেড়া দিয়ে জায়গাটি ঘিরে ফেলার চেষ্টা করা হলে তারা বাধা দেন। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ তাদের। আজগর আলী মৃধার অভিযোগ, জোবায়ের মৃধা দেশীয় ধারালো অস্ত্র, স্থানীয়ভাবে ‘বেকা দা’ নামে পরিচিত, দিয়ে তার ওপর হামলা করেন। এতে তার বাম হাতের তালু এবং ডান হাতের কবজির নিচে গুরুতর কাটা জখম হয়। একটি আঘাতের স্থানে পাঁচটি সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি। ঘটনার পর ১২ সেপ্টেম্বর তাকে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শুধু হামলা নয়, ওই ঘটনার সময় নূরুল ইসলাম মৃধার স্ত্রী সুফিয়া বেগমকেও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাকে স্টিলের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় এবং তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয়। পরে পুলিশে অভিযোগ বা মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পরিবারটি। ভুক্তভোগীদের দাবি, পুরুষ সদস্যদের অনেকে নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে থাকতে পারছেন না। অন্যদিকে বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় বাড়ি থেকে বের হওয়া বা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবারটির নারী, শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে মানবেতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। অভিযোগের পরও কেন খোলা হয়নি চলাচলের পথ? স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বিরোধের সূত্রপাত সাম্প্রতিক নয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা প্রায় ৪০ বছর ধরে ওই জায়গা ভোগদখল করে আসছেন এবং আজগর আলী মৃধাই সেখানে প্রথম বসতি স্থাপন করে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথটি হঠাৎ গভীর রাতে বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ায় এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে—কোনো আদালতের আদেশ বা আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া এভাবে একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার এখতিয়ার কার? স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত চলাচলের পথ এভাবে রাতের আঁধারে বন্ধ করে দেওয়া শুধু জায়গা-জমির বিরোধের বিষয় নয়; এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল, নিরাপত্তা ও মানবিক জীবনযাপনের প্রশ্নও জড়িত। তাদের মতে, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে আইনগত পথে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কোনো পক্ষ যদি নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে অন্য পক্ষের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়, তাহলে বিষয়টি প্রশাসনের দ্রুত নজরে আনা প্রয়োজন। স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগেও উত্তেজনা ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেন। এর অংশ হিসেবে আমিনুর রহমান, পিতা—ওদুদ শেখ ( মিজানের আপন ছোট ভাই) এবং মারুফ শিকদার, পিতা—মোজাফফর শিকদার(বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের বিএনপির বর্তমান নির্বাচিত সভাপতি), ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ওবায়দুর মৃধার সব সদস্যকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না পাওয়ায় তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাময়িকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। বাড়ির বাসিন্দাদের অন্তত চলাচলের সুযোগ করে দিতে দুটি টিন খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এ সময় মিজান শেখ, পিতা-ওদুদ শেখ, ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং কয়েকবার মারতে উদ্যত হন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। ফলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ ব্যাহত হয়। থানায় অভিযোগের পরও বিরোধের জটিলতা ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, ঘটনার আগেই গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সুফিয়া বেগম তার স্বামী নূরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে চিতলমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। এরপরও দুই দিন পর গভীর রাতে হামলা, জায়গা দখলের চেষ্টা এবং চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। এ ক্ষেত্রে অভিযোগটি থানায় কীভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল, তদন্তের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি না এবং পরবর্তীতে নতুন করে সংঘর্ষ বা দখল ঠেকাতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও অনুসন্ধানের দাবি রাখে। মিজান শেখকে ঘিরে স্থানীয়দের নানা অভিযোগ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মিজান শেখের সম্পৃক্ততা নিয়ে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, মিজানের উসকানি ও প্রভাবের কারণেই ওবায়দুর মৃধার পক্ষের লোকজন এমন কর্মকাণ্ড করার সাহস পাচ্ছেন। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে মিজান শেখের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সল্প সময়ে সম্ভব হয়নি, অনুসন্ধ্যান চলমান। বিরোধ জমির, কিন্তু ভোগান্তি একটি পরিবারের স্থানীয়দের ভাষ্য, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে মালিকানা বা দখল নির্ধারণের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই স্বাভাবিক পদ্ধতি। আদালত, ভূমি অফিস কিংবা প্রশাসনের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো পক্ষ রাতের আঁধারে বেড়া দিয়ে প্রতিপক্ষের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়, তাহলে তা পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতপূর্ণ করে তুলতে পারে। বিশেষ করে একটি পরিবারের বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে শিশু, নারী, অসুস্থ ব্যক্তি কিংবা বয়স্ক সদস্যদের জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে। আগুন, অসুস্থতা বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে এই অবরুদ্ধ অবস্থার ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্তের দাবি ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, তারা কোনো পক্ষের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চান না। তারা চান, তাদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জায়গা ও চলাচলের পথ নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। জমির প্রকৃত মালিকানা, দখল, দীর্ঘদিনের ব্যবহার, চলাচলের পথ এবং সাম্প্রতিক সময়ে বেড়া দেওয়ার বৈধতা—সবকিছু যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে হামলায় আহত আজগর আলী মৃধার চিকিৎসার বিষয়টি, সুফিয়া বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও অমানবিক। এলাকাবাসী বলছেন, একটি পরিবারের প্রায় চার দশকের বসতভিটা ও চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই প্রশাসনের উচিত বিষয়টি দ্রুত আমলে নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য, জমির কাগজপত্র, স্থানীয় সাক্ষ্য, চিকিৎসার নথি এবং থানায় দেওয়া অভিযোগ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা কারও জায়গা দখল করতে চাই না। আমাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথটুকু চাই। প্রায় ৪০ বছর ধরে যে জায়গায় বসবাস করছি, সেই জায়গা রাতের আঁধারে বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আমরা সংঘাত চাই না, আমরা ন্যায়বিচার চাই।” তাদের দাবি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং কোনো পক্ষের প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
এমএসএম / এমএসএম
আবারও র্যাগিংয়ের শিকার, হাসপাতালে পাবিপ্রবির নারী শিক্ষার্থী
রংপুরে ৪ খুন: নমুনা পরীক্ষায় আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডিএনএ শনাক্ত
মাগুরায় ৩৫১ কাঁচা রাস্তা গেজেটভুক্ত, দ্রুত পাকাকরণের প্রত্যাশা
মাগুরায় ৩৫১ কাঁচা রাস্তা গেজেটভুক্ত, দ্রুত পাকাকরণের প্রত্যাশা
বাগেরহাটে ব্র্যাকের উদ্যোগে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উযযাপন, বিনামুল্যে আই ক্যাম্প পরিচলনা
পাঁচবিবিতে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও অসহায় ব্যক্তিকে হুইল চেয়ার বিতরণ
পিরোজপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জামায়াতের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও লিফলেট বিতরণ
কৃষকের জমি দখল করে মাছ চাষের অভিযোগ
নড়াইলে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারের
রূপগঞ্জে ফরটিস গ্রুপের বিরুদ্ধে জমি দখলের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
ধামরাইয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান