ঢাকা শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

বৈশ্বিক প্রযুক্তি অর্থনীতির অন্যতম মঞ্চ ওয়েব সামিট: লিসবন থেকে দোহা এবং বাংলাদেশের সম্ভাবনা


রিয়াজউদ্দিন আহমেদ photo রিয়াজউদ্দিন আহমেদ
প্রকাশিত: ২৮-৯-২০২৬ দুপুর ১:৭

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল অর্থনীতি, ফিনটেক ও স্টার্টআপ খাতের দ্রুত পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠছে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্বের উদ্যোক্তা, শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের সবচেয়ে বড় মিলনমেলা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে ‘ওয়েব সামিট’। আগামী ৯ থেকে ১২ নভেম্বর পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রযুক্তি দুনিয়ার বহুল প্রতীক্ষিত মূল আয়োজন ‘ওয়েব সামিট ২০২৬’। সাইবার নিরাপত্তা, ফিনটেক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর বাণিজ্যের নানা সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের আলোচনার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ এবং বিনিয়োগকারীদের মেলবন্ধন তৈরিই হবে এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

কেবল একটি প্রযুক্তি সম্মেলনেই সীমাবদ্ধ নয় ওয়েব সামিটের গুরুত্ব; বরং প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে, আগামী বছরগুলোতে কোন খাতে বৈশ্বিক পুঁজি বিনিয়োগ বাড়বে এবং নতুন উদ্যোক্তারা কোন বৈশ্বিক সংকটের সমাধান নিয়ে আসছেন—তা নির্ধারণের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এটি। বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থিক লেনদেন, উৎপাদন ও প্রশাসনিক সেবায় এআইয়ের ব্যবহার যেমন অভূতপূর্ব সম্ভাবনার দ্বার খুলছে, তেমনি তথ্যের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সাইবার ঝুঁকি এবং কর্মসংস্থানে পরিবর্তনের মতো নীতিগত চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। ওয়েব সামিটে উদ্ভাবক ও সরকারি নীতিনির্ধারকদের যৌথ উপস্থিতির ফলে প্রযুক্তির প্রসার ও আইনি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোও এখানে নীতিগত রূপ পায়। পাশাপাশি স্টার্টআপগুলোর জন্য বৈশ্বিক মূলধন সংগ্রহ, বাজার সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব নিশ্চিতের ক্ষেত্রে এটি একটি অনন্য সেতুবন্ধন।

ইউরোপ ছাড়িয়ে ওয়েব সামিটের প্রভাব এখন মধ্যপ্রাচ্যেও বিস্তৃত হয়েছে। চলতি বছর কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত ‘ওয়েব সামিট কাতার’-এ বিশ্বের ১২৭টি দেশ থেকে ৩০ হাজারের বেশি প্রতিনিধি, প্রায় ১ হাজার বিনিয়োগকারী এবং ১ হাজার ৬০০টির বেশি স্টার্টআপ অংশ নেয়। ইতোমধ্যে ২০২৭ সালের দোহার আয়োজনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে, যেখানে ৭০টিরও বেশি বৈশ্বিক অংশীদার যুক্ত হয়েছে। ভৌগোলিক এই বিস্তার প্রমাণ করে যে, লিসবন ও দোহাকে কেন্দ্র করে এটি এখন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে।

এই বৈশ্বিক রূপান্তরের মধ্যে বাংলাদেশের জন্যও বড় ধরনের সম্ভাবনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের তরুণ জনশক্তি এবং দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল সেবার অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় স্টার্টআপগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে পারে। দেশীয় এআই, ফিনটেক, ই-কমার্স ও সফটওয়্যারভিত্তিক উদ্ভাবনগুলো বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে পারলে আন্তর্জাতিক পুঁজি আকর্ষণে ওয়েব সামিট প্রধান মঞ্চ হতে পারে। তবে এর জন্য নিছক সম্মেলনে অংশগ্রহণই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও উন্নয়ন, শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রতিযোগিতামূলক দক্ষ মানবসম্পদ। পরিশেষে, বিশ্ব যখন পুরোপুরি প্রযুক্তি ও তথ্যনির্ভর অর্থনীতির দিকে ধাবিত হচ্ছে, তখন পরবর্তী দশকের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ কীভাবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করবে—তা নির্ধারণই এখন নীতিনির্ধারক ও উদ্যোক্তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া প্রয়োজন।

এমএসএম / এমএসএম

বৈশ্বিক প্রযুক্তি অর্থনীতির অন্যতম মঞ্চ ওয়েব সামিট: লিসবন থেকে দোহা এবং বাংলাদেশের সম্ভাবনা

এআইয়ের প্রভাবে রাষ্ট্র ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে পেইজে লাইক নেওয়ার সুযোগ বন্ধ!

নিরাপত্তা নাকি গোপনীয়তার সংকট? চারপাশের ক্যামেরা নিয়ে নতুন বিতর্ক

শেষ হলো IBC 2026 -বিশ্ব মিডিয়ায় প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত

IBC 2026 আমস্টারডামে বদলে যাচ্ছে সম্প্রচার প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিধিনিষেধ ক্যালিফোর্নিয়ায়

‘রেট্রো নস্টালজিয়ায়’ সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়া: সবার ৮০র দশকের লুক কেন

অ্যাপলের নতুন সিইওর সামনে বড় চার চ্যালেঞ্জ

ছবি সম্পাদনা থেকে অ্যালবাম তৈরি, সব কাজ করবে জেমিনি স্পার্ক

একাধিক ভাষা ও বক্তার কথাকে লাইভ টেক্সটে রূপান্তর করবে মেটার নতুন এআই

প্রতিযোগীদের সুবিধা দিতে ব্যবসার ধরন পরিবর্তনের নির্দেশ আদালতের

শিশুদের নিরাপত্তায় মেটার ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের সমঝোতা