পার্বত্য চুক্তি লঙ্ঘন ও জনবিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্তের অভিযোগ: পাহাড়ের শান্তি রক্ষায় সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিতর্কিত পদায়ন, চুক্তি লঙ্ঘন, আঞ্চলিক পরিষদ ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে টপকে তিন পৃথক কমিটি গঠন এবং আইন ও জনবিচ্ছিন্ন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নাগরিকেরা। পাহাড়ের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের একতরফা সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙ্গামাটির রাজবাড়ী এলাকার ‘সাবারাং রেস্টুরেন্টে’ পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনসাধারণের উদ্যোগে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মুল বক্তব্য উপস্থাপন করেন, রাঙ্গামাটির বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি আদিবাসী ফোরামের সাধারন সম্পাদক ইন্টু মনি তালুকদার, খাগড়াছড়ি আদিবাসী ফোরামের সভাপতি নব কুমার চাকমা, সাবেক অবসরপ্রাপ্ত উপসচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, এ্যাডভোকেট ভবতোষ চাকমা, ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী সন্তজিৎ চাকমা, সমাজসেবক মধু মঙ্গল চাকমা প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে পার্বত্য এলাকা নিয়ে পার্বত্য মন্ত্রণালয় গঠন করার উল্লেখ থাকলেও চুত্তি ভঙ্গ করে পার্বত্য জেলাকে সম্পুর্ণ বাদ দিয়ে অন্যায়ভাবে চট্টগ্রাম থেকে মীর হেলালকে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। যা পার্বত্য এলাকায় অশান্তির সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) স্থায়ী বাসিন্দা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়া একতরফাভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, নির্বাহী কমিটি এবং পরামর্শক কমিটি গঠিত হয়েছে। বক্তারা দাবি করেন, এই কমিটিগুলোর পরিধি ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তি, ১৯৯৮ সালের আঞ্চলিক পরিষদ আইন এবং ১৯৮৯ সালের জেলা পরিষদ আইনের সঙ্গে স্পষ্টত সাংঘর্ষিক। এতে পাহাড়ে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে নতুন করে অশান্তি ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের বীজ রোপিত হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের মতামত না নিয়ে সরকার তিনটি গুরুত্বপুর্ণ কমিটি গঠন করেছে, যা পার্বত্য এলাকার জনগনকে পাশ কাটিয়ে করা হয়েছে যা কোন ভাবে মেনে নেয়া যায় না।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা একটি জাতীয় ও রাজনৈতিক সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সম্পাদন করা হয়। তাই চুক্তির আলোকে পার্বত্য এলাকার সমস্যা সমাধান করার আহবান জানানো হয়। তা না হলে বাস্তবতার কারণে যে কোন সময় আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকার ও নীতি-নির্ধারকদের প্রতি ৪ দফা দাবি পেশ করা হয়:১. প্রতিমন্ত্রী পদায়ন বাতিল: ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিনকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে অন্যত্র পদায়ন করা এবং চুক্তি লঙ্ঘন করে এই মন্ত্রণালয়ে কোনো প্রতিমন্ত্রী/উপ-মন্ত্রী না রাখা। ২. ক্ষমতা অর্পণ রহিতকরণ: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিনকে তিন পার্বত্য জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি সংক্রান্ত বিশেষ দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে অব্যাহতি দেওয়া। ৩. একতরফা গঠিত ৩ কমিটি বাতিল: ১০ সেপ্টেম্বর গঠিত জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক কমিটির কার্যক্রম বাতিল করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির অনুচ্ছেদ মেনে উপদেষ্টা কমিটি, চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি ও টাস্কফোর্স পুনর্গঠন করা। ৪. চুক্তি বাস্তবায়নে রোডম্যাপ: পাহাড়ে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে 'পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৯৯৭' পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণা করা।
এমএসএম / এমএসএম
মোরেলগঞ্জে যুবকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
ত্রিশাল সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
পাবনায় অবৈধভাবে সার মজুত করায় দুই ব্যবসায়ীকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৩৮১ বস্তা সার জব্দ
নড়াগাতীতে পুলিশকে মারধরের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে মিজানুরের সংবাদ সম্মেলন
কুমিল্লায় নাগরিক সেবা সহজ করতে ‘আমার কুমিল্লা’ অ্যাপ চালু
কোটি টাকা ব্যয়ে বুড়িতিস্তা পুনঃখনন মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সুফল
কুমিল্লায় পুলিশের কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৪১৫ জন আটক
পঞ্চগড়ে সুইসগেট ভাঙার এক বছরেও হয়নি সেতু, দুর্ভোগে হাজার হাজার মানুষ
সলঙ্গায় মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
বাঞ্ছারামপুরে ভাড়াটে হিসেবে মারামারি করতে এসে নরসিংদির যুবক নিহত
তজুমদ্দিনে মাদ্রাসার ভবন নির্মাণে অনিয়ম: অ্যানালগ সেন্টারিং ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ
পিরোজপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষের চারা বিতরণ