ডিএফও-রেঞ্জারের সম্মতিতে বান্দরবানে বন নিধন
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও), রেঞ্জার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মৌন সম্মতিতে বান্দরবানে নির্বিচারে বন নিধনের মহাযজ্ঞ পরিচালিত হয় বলে জানা গেছে। বনের গাছ পাচারকারী চক্রের সাথে আঁতাত করে কতিপয় লোভী কর্মকর্তা তাদের নীরবে সহায়তা করছেন। এমনকি নির্বিচারে গাছ কাটার সময় ডিএফও’র মোবাইল বন্ধ থাকে, কর্মকর্তাদের তথ্য দিলেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলে নির্ভযোগ্য একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম বন অঞ্চলের আওতাধীন বান্দরবান লামা বনবিভাগের লামা সদর রেঞ্জের বিভিন্ন বিটে প্রতিযোগীতা দিয়ে বন নিধনের কাজ চালাচ্ছে পাচারকারী চক্র। পাচার করা কাঠ বিক্রির একটা নির্ধারিত অংশ বনবিভাগের কর্মকতারা পেয়ে থাকেন। ফলে গাছ কাটা ও পাচারের সময় কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় না। মাঝে মাঝে দুয়েকটা অভিযান চালানো হলেও তা লোক দেখানো। সরেজমিনে গিয়েও এর সত্যতা পাওয়া গেছে। লামা বনবিভাগের সদর রেঞ্জের আওতাধীন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইয়াংছার কাঠালছড়া এলাকার নদীর পাড়ে সরেজমিনে গিয়ে সেগুন ও গামারী কাঠের একাধিক বিশাল স্তুপ দেখা গেছে। জানা যায়, লামা সদর রেঞ্জের ইয়াংছা ক্যাম্পের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের যোগসাজশে এই কাঠগুলো রিজার্ভ থেকে কেটে পাচারের উদ্দেশ্যে নদীর পাড়ে রাখা হয়েছে।
স্তুপ করা কাঠের মালিকদের মধ্যে একজন হলেন নুরুল আলম। তিনি সকালের সময়কে বলেন, রেঞ্জ অফিস এবং লামা বনবিভাগের ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান ও ইয়াংছা ক্যাম্পের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে কাগজপত্র করেই এসব গাছ কেটে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। কাগজের কোন কপি আছে কিনা জানতে চাইলে প্রতিবেদককে বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
স্তুপ করা গাছগুলো যে অবৈধ এবং নির্বিচারে বন নিধনের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে বিট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি ইয়াংছা বিটের শুধু ক্যাম্প কর্মকর্তা, আপনি রেঞ্জারকে কল করেন, দরকার হলে আমার থেকে নম্বর নেন, ওনি সব জানেন। আর গাছ যে কেটে নিয়ে যাচ্ছে সেটা আমি যেমন জানি তেমন ডিএফওসহ সবাই জানেন। সুতরাং আমি একা জেনে বা ওখানে গিয়ে কি করতাম? আমি একা গিয়ে কি মার খাইতাম বুড়া বয়সে? গাছ কাটলে কাটুক বেইজ্জতি হতে পারব না, চাকুরী আছে মাত্র একবছর, আমার বয়স হয়েছে আমি ঝামেলায় যেতে পারব না।
এই বিষয়ে লামা বনবিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা পারভেজ রনিকে ইয়াংছার বিট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুরের কথা মতো কল করা হলে তিনি বলেন, আমি শুনছি, ওদিকে যাচ্ছি, বিষয়টা দেখতেছি।
এদিকে লামার স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যমকর্মী সকালের সময়কে জানিয়েছেন, অবৈধভাবে রিজার্ভ কাটা কিংবা গাছ পাচারের সময় কোন কিছু দৃশ্যমান হলে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান তখন ফোন অফ করে দেয়। যাতে কেউ ডিএফওকে প্রশ্ন করতে না পারেন।
লামা বনবিভাগের একাধিক কর্মকর্তা সকালের সময়কে বলেন, একটা ডিভিশনে অন্তত কর্মকর্তা কর্মচারী মিলে মোট ৩টা গ্রুপ সৃষ্টি হয়। তিনটা গ্রুপের নজরে থাকে লামা সদর রেঞ্জের পোষ্টিং ও লামামুখ স্টেশন এবং ইয়াংছা ক্যাম্প। এই পদগুলিতেও ব্যাপক অনিয়মের খবর বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে ওঠে এসেছে। আরো ওঠে এসেছে, লামা বনবিভাগের অসাধু কিছু কর্মকর্তাদের গ্রুপে সমাজের কিছু কথিত গণ্যমান্য ব্যক্তিও জড়িত। তারা নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের ফলে অপকর্মে সহযোগীতা করছেন বলে দৈনিক সকালের সময় নিশ্চিত হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে বান্দরবান বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে, ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এমএসএম / এমএসএম
মোরেলগঞ্জে যুবকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
ত্রিশাল সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
পাবনায় অবৈধভাবে সার মজুত করায় দুই ব্যবসায়ীকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৩৮১ বস্তা সার জব্দ
নড়াগাতীতে পুলিশকে মারধরের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে মিজানুরের সংবাদ সম্মেলন
কুমিল্লায় নাগরিক সেবা সহজ করতে ‘আমার কুমিল্লা’ অ্যাপ চালু
কোটি টাকা ব্যয়ে বুড়িতিস্তা পুনঃখনন মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সুফল
কুমিল্লায় পুলিশের কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৪১৫ জন আটক
পঞ্চগড়ে সুইসগেট ভাঙার এক বছরেও হয়নি সেতু, দুর্ভোগে হাজার হাজার মানুষ
সলঙ্গায় মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
বাঞ্ছারামপুরে ভাড়াটে হিসেবে মারামারি করতে এসে নরসিংদির যুবক নিহত
তজুমদ্দিনে মাদ্রাসার ভবন নির্মাণে অনিয়ম: অ্যানালগ সেন্টারিং ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ
পিরোজপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষের চারা বিতরণ