মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়মে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে লাভ-ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক। তবে কোনো মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার কারণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুঁজিবাজারের ওপর তাদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত ‘ইনগরেশন সিরিমনি ফর ডিস্ট্রিবিউশন অব আইপিএস ফান্ডস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। এতে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিজহাত আনোয়ারসহ এক্সচেঞ্জটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের বাজারে বিনিয়োগ করে সব বিনিয়োগকারীর প্রত্যাশা থাকে, তারা যেন একটি সুন্দর বিনিয়োগ পরিবেশের মাধ্যমে ভালো রিটার্ন পান। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে লাভ-ক্ষতি দুটোই হতে পারে। পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক নিয়মে শেয়ারের দাম কমা-বাড়া বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। কিন্তু বাজারের কোনো মধ্যস্থতাকারীর অনিয়মের কারণে যখন আমাদের বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তখন পুঁজিবাজারের ওপর তাদের আস্থা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
‘এটি আমাদের পুঁজিবাজারের জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিগত সময়ে আমরা দেখেছি, বেশ কিছু ব্রোকারেজ হাউস তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেনি। পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউস বিনিয়োগকারীদের অর্থ বা শেয়ার বিভিন্নভাবে নিজেদের হিসাবে স্থানান্তর করেছে। পরে সেই টাকা বা শেয়ার বিনিয়োগকারীদের ফেরত দিতে তারা ব্যর্থ হয়েছে’, বলেন তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে তাদের কাছে থাকা হিসাবে মোট ১৭ হাজার ৯৬৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী রয়েছেন। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারীকে এই পর্যায়ে ইনভেস্টরস প্রোটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করা হবে।
তিনি বলেন, যেসব বিনিয়োগকারীর সম্পূর্ণ অর্থ এই পর্যায়ে পরিশোধ করা সম্ভব হবে না, তাদের অবশিষ্ট অর্থ আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার জন্য ডিএসই ও বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তৎপর থাকবে। যত দ্রুত সম্ভব তাদের প্রাপ্য অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা জানি, আপনাদের কষ্টার্জিত অর্থ আপনারা অনেক আশা নিয়ে বিনিয়োগ করেছিলেন। আপনাদের যে ভীষণ রকমের মানসিক ও আর্থিক ক্ষতি এবং যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তার জন্য আমরা আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিএসইসি, দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং বাজারসংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে তারা আশা করছেন। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও আবার সম্পূর্ণভাবে ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
বিএসইসির চেয়ারম্যানের ভূমিকার প্রশংসা করে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অর্থ পরিশোধের জন্য ডিএসইকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে আলোচনার সময় তিনি শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের নয়, অন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদেরও একইভাবে অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন। এজন্য আমি তাকে এবং কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ১৭ হাজারের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর তথ্য সংগ্রহ, তাদের বিনিয়োগের হিসাব-নিকাশ যাচাই এবং চূড়ান্ত ব্যালান্স নির্ধারণ করা কঠিন কাজ ছিল। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সেই কাজ সম্পন্ন করেছে। এখন অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইনভেস্টরস প্রোটেকশন ফান্ডে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদানের কথা উল্লেখ করে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, এই ফান্ডে অর্থের একটি বড় অংশ আসে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান থেকে। তাদের ট্রেড কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট অর্থের একটি অংশ আইপিএফে জমা হয়। ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর এই অবদান ছাড়া ডিএসইর নেওয়া বর্তমান উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না।
তিনি আইপিএফের ট্রাস্টি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও ধন্যবাদ জানান এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে মমিনুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমের সহযোগিতায় বাজারে নেওয়া এই উদ্যোগের সংবাদ সুষ্ঠুভাবে প্রকাশিত হয়েছে এবং বাজারে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এ জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারে যে ইতিবাচক ধারা শুরু হয়েছে, তা সামনের দিনে আরও জোরদার হবে বলে তারা আশা করছেন। দেশের অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সকলের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা -এই দেশে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ পুঁজিবাজার গড়ে উঠবে, যেটি এ দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা অবশ্যই সেই উদ্দেশ্যে সফল হব।'
aliul / aliul
মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়মে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ক্রয় বেড়েছে
লাইসেন্সবিহীন ২২ অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে লেনদেন না করার পরামর্শ
সোনার দাম আরও কমেছে
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি-বিনিয়োগে সহযোগিতা চাইল ঢাকা চেম্বার
জুলাইয়ের দুর্বলতার পর আগস্টে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে
জ্বালানির দাম ইস্যুতে শেয়ারবাজারে ফের উদ্বেগ
পুঁজিবাজারে আসছে র্যানকন মোটরস, তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি শুরু
কমলো সোনা ও রুপার দাম
চড়া সবজির বাজার, শিম ২০০ বেগুনের কেজি ১৬০!
সাধ আর সাধ্য মিলছে না ইলিশের বাজারে
সিনোবাংলায় স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগে বিএসইসির সম্মতি