ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যশোর দশমহাবিদ্যা মন্দিরে ইসকনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ


মতিন গাজী, যশোর photo মতিন গাজী, যশোর
প্রকাশিত: ২৯-৯-২০২৬ দুপুর ১:৩৪

যশোরের চাঁচড়ায় প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক শ্রীশ্রীদশমহাবিদ্যা মন্দিরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) বিরুদ্ধে মন্দিরের কার্যক্রমে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বসবাসকারী পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ এবং পূজা-অর্চনায় বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। মন্দির কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০১৬ সালে কয়েকটি শর্তে ইসকনকে মন্দির চত্বরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কর্তারা মন্দিরের বিভিন্ন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ বাড়িয়েছেন। একপর্যায়ে মন্দিরের পরিচালনা, দান-অনুদান ও অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনাও তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। এ দিকে মন্দিরের অধ্যক্ষ ও ইসকন নেতা অনুপম রায় ওরফে অপার গোবিন্দ দাসের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব ঘটনার মানসিক চাপে দশম শ্রেণির ছাত্রী শিপ্রা আত্মহত্যা করেছে। শিপ্রার ভাইয়ের করা মামলায় অপার গোবিন্দ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি এবং ধারাবাহিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিকভাবে প্রমাণিত কোনো তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি। দশমহাবিদ্যা মন্দির কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ দত্ত জানান, ২০১৬ সালে বিমল রায়চৌধুরী, স্বপন ভট্টাচার্য ও অপু কাপুড়িয়াসহ কয়েকজনের অনুরোধে ইসকনকে মন্দির চত্বরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, সে সময় ঢাকায় ইসকনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যশোরের ব্যবসায়ী অপু কাপুড়িয়ার বাড়িতে বৈঠক হয়। বৈঠকে মন্দির কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। মন্দিরটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় কমিটির অনেকেই সেখানে ইসকনের প্রবেশের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। বিশ্বনাথ দত্তের ভাষ্য, প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো মন্দিরটির সংস্কার ও উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে ইসকনকে সেখানে আসার সুযোগ করে দেওয়া হয়। তখন বলা হয়েছিল, ইসকন মন্দিরের এক পাশে থাকবে এবং দশমহাবিদ্যা মন্দিরের মূল কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করবে না। সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আগের মতো দুর্গাপূজা, কালীপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজন করতে পারবেন। মন্দির কমিটির সভাপতি আরও জানান, মন্দির চত্বরে বংশপরম্পরায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে প্রয়োজনে বাইরে দুই কাঠা করে জমি কিনে পুনর্বাসনের মৌখিক প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, দীর্ঘ আলোচনার পর ইসকনের সঙ্গে একটি লিখিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইংরেজিতে লেখা চুক্তিটি একজন শিক্ষক পড়ে শোনানোর পর মন্দির কমিটির নেতারা তাতে স্বাক্ষর করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে মন্দিরের ওপর ইসকনের নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অভিযোগ, ইসকন আসার আগে সাধারণ মানুষ মন্দিরে অবাধে যাতায়াত করতে পারতেন এবং নিজেদের মতো পূজা-অর্চনা করতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে মন্দিরের প্রধান ফটক সাধারণ সময়ে বন্ধ রাখা হয়। নির্দিষ্ট পূজা ও উৎসব ছাড়া প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। তাঁদের দাবি, পর্যায়ক্রমে মন্দির চত্বর থেকে তিনটি পরিবারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বংশপরম্পরায় সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মন্দির চত্বরে বসবাসকারী মৌসুমি ঘোষ, সুরঞ্জন বিশ্বাস, শুভ ঘোষ ও মনি বিশ্বাসসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, মন্দিরের বিদ্যুৎ সংযোগ ইসকনের নামে নেওয়া হয়েছে। পানির ব্যবস্থাপনাও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। তাঁদের আরও অভিযোগ, মন্দিরের দানবাক্সের অর্থ ইসকনের লোকজন সংগ্রহ করে অপার গোবিন্দ দাসের কাছে জমা দেন। ওই অর্থ মন্দিরের উন্নয়ন বা পরিচালনা কমিটির কাজে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয় না। এ ছাড়া দশমহাবিদ্যা মন্দিরের নামে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অনুদান বরাদ্দ হলেও সেগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, এসব বিষয়ে মন্দির পরিচালনা কমিটির কার্যকর ভূমিকা নেই। অভিযোগগুলোর বিষয়ে ইসকন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। মন্দির চত্বরে বসবাসকারী পরিবারগুলোর অভিযোগ, ইসকনের নির্মিত ছোট ছোট ঘরে বিভিন্ন অপরিচিত যুবক অবস্থান করেন। তাঁদের অনেকে কিছুদিন থাকার পর চলে যান, আবার নতুন কেউ সেখানে আসেন। এসব যুবকের স্থায়ী ঠিকানা, পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে স্থানীয়দের কাছে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে দাবি করেন বাসিন্দারা। এ পরিস্থিতিতে স্ত্রী, কন্যা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মন্দির চত্বরে গিয়ে শান্ত রায় নামে এক যুবকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, তাঁর বাড়ি পঞ্চগড় জেলা সদরের হাড়িভাসা গ্রামে। তিনি যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের এইচএসসি শিক্ষার্থী এবং ইসকনের তত্ত্বাবধানে থাকেন। শান্ত রায়ের দাবি, সেখানে থাকার জন্য তিনি মাসে আড়াই হাজার টাকা দেন। তবে অপার গোবিন্দ দাস তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে শান্ত রায় তা দেখাতে পারেননি। তিনি স্কুলের সনদ দিয়ে কলেজে ভর্তি হওয়ার কথা জানালেও ওই সনদের কোনো কপি দেখাতে রাজি হননি। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি দ্রুত একটি ঘরে প্রবেশ করেন।অপার গোবিন্দ দাস আত্মগোপনে যাওয়ার পর মন্দিরে আসেন সুমন বিশ্বাস নামে আরেক ব্যক্তি। ইসকনে তাঁর নাম সুমুখ শ্যামহরিদাস। অপার গোবিন্দের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন কি না, জানতে চাইলে সুমন বিশ্বাস জানান, অভয়নগরের রামসরা ধাম থেকে তাঁকে গত ২১ সেপ্টেম্বর দশমহাবিদ্যা মন্দিরে পাঠানো হয়েছে। তবে অপার গোবিন্দ বর্তমানে কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। সব মিলিয়ে ঐতিহাসিক দশমহাবিদ্যা মন্দিরের পরিচালনা, সম্পত্তি, ধর্মীয় কার্যক্রম ও বসবাসকারী পরিবারগুলোর অধিকার নিয়ে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। মন্দিরের ঐতিহ্য ও স্বাভাবিক ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এমএসএম / এমএসএম

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে বইয়ের নেশায় আলোর ফেরিওয়ালা নাজমুল হুদা সারোয়ার

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম তৌহিদের দাফন

দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর দুমকির কাশবন

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ফেনী সমিতির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

দৌলতপুরে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ কথিত মাদক কারবারি স্বপন মেকার গ্রেপ্তার

ঘিওরে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ

সোনালী জুমের সম্ভবনার পর হ্রাস পাচ্ছে চাষাবাদ

রৌমারীর ইতিহাস সংরক্ষণে স্মৃতিফলক স্থাপনের দাবিতে আবেদন

টিকটক ও বিটিএস আসক্তি: অজানা পথের খোঁজে বাড়ি ছাড়া পাবনার তিন স্কুলছাত্রী কুড়িগ্রাম থেকে উদ্ধার

কাপ্তাইয়ের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি

বিলাইছড়িতে বিএনপির উদ্যোগে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

বলেশ্বর নদে কুমিরের হামলা: স্থানীয়দের সাহসিকতায় প্রাণে বাঁচল গাভী

বাংলাবান্ধায় জালে আটকা বার্মিজ অজগর, উদ্ধার করল বন বিভাগ