ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তথ্য কমিশন গঠনে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ, একই পথে বর্তমান সরকার : টিআইবি


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯-৯-২০২৬ বিকাল ৬:৩৩

তথ্য কমিশন গঠনে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হয়েছে, বর্তমান সরকারও একই পথে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সাত মাস পার হলেও এখনো তথ্য কমিশন গঠন করতে পারেনি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তথ্য কমিশন গঠনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছে টিআইবি এবং সহযোগিতাও করেছে। কিন্তু সেই সরকার কমিশন গঠন করতে পারেনি। বর্তমান সরকারও সাত মাস পার করে একই দিকে এগোচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার তথ্য কমিশন গঠনে আগ্রহী ছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত তা করতে পারেনি। এভাবে চলতে থাকলে সরকার একটি ‘বিশ্বরেকর্ড’ তৈরির দিকে এগোচ্ছে, যা অত্যন্ত বিব্রতকর। সাধারণ মানুষ আইন ভঙ্গ করলে জবাবদিহির মুখোমুখি হয়। সরকার আইন ভঙ্গ করলে কী হবে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সরকারের প্রতি মানুষের আস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকার মানুষের আস্থা হারালে তা বিভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। ইতিহাসও এ বিষয়ে সতর্ক করে। তথ্য কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কমিশনটি কতটা স্বাধীনভাবে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে আগের অভিজ্ঞতা থেকে খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই।

বর্তমান সরকারের আমলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, অতীতে তথ্য কমিশন দলীয় কর্মীদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে এবং তখন টিআইবির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কমিশনের দরজা বন্ধ ছিল। একই ধরনের পরিস্থিতি আবার তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তথ্য কমিশন ও তথ্য অধিকার আইন সংশোধনের সঙ্গে ভুল বা মিথ্যা তথ্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি এক করে দেখার সমালোচনা করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, তথ্য পাওয়ার অধিকার এবং ভুল, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ন্ত্রণ আলাদা বিষয়। ভুল তথ্য নিয়ন্ত্রণে আলাদা আইন করা যেতে পারে। তথ্য পাওয়ার অধিকারকে এর সঙ্গে মেলানো ঠিক নয়।

এদিকে, সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ রাইট টু ইনফরমেশন ন্যাশনাল সার্ভে ২০২৬ : রিয়েলিটি চেক অ্যান্ড পাথওয়েজ ফর ব্রেকথ্রু’ শীর্ষক জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়।

প্রধান গবেষক ড. আনন্যা রায়হানের নেতৃত্বে পরিচালিত জরিপে ৩ হাজার ২০০ জন নাগরিক, ১০০ জন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ২০ জন আপিল কর্তৃপক্ষের সদস্য ও ১৫টি ফোকাস গ্রুপ আলোচনার তথ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তথ্য কমিশনের ১০০টি সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

জরিপে দেখা গেছে, সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের প্রয়োজন আছে এমন নাগরিকের হার ৭২ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৯ সালে এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৩ শতাংশ। নাগরিকেরা সবচেয়ে বেশি তথ্য খোঁজেন কর্মসংস্থান, উন্নয়ন প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, শিক্ষা, সরকারি উদ্যোগ, কৃষি ও সরকারি অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে।

তবে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সচেতনতা এখনো কম। ২০১৯ সালে এ আইন সম্পর্কে সচেতনতার হার ছিল ৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। আইনটির নাম জানেন এমন নাগরিকদের ৬৯ দশমিক ৫ শতাংশ শুধু নামটুকুই জানেন।

কী ধরনের তথ্য চাওয়া যায়, তা জানেন ১৮ শতাংশ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য পাওয়ার আইনি সময়সীমা জানেন ৯ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ২০১৯ সালে ছিল ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ। তথ্য চেয়ে আবেদন করার পদ্ধতি জানেন মাত্র ৮ দশমিক ৫ শতাংশ।

তথ্য না পেলে কোথায় অভিযোগ করতে হবে, তা নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ মনে করেন, এ ধরনের অভিযোগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে করতে হয়। সঠিকভাবে তথ্য কমিশনের কথা বলতে পেরেছেন ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ।

তথ্য অধিকার সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা বেড়েছে। ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এ বিষয়ে জানার হার ছিল ১১ শতাংশ, যা বেড়ে ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে টেলিভিশনের ভূমিকা ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ২৫ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।

তথ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তথ্য চেয়ে আবেদন করার হার ২ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য পাওয়ার হারও ১৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। তবে আবেদন জমা দেওয়ার স্বীকৃতি পাওয়ার হার ৭৫ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। তথ্য চাওয়ার অভিজ্ঞতা ইতিবাচক ছিল — এমন নাগরিকের হারও ৫৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে।

জরিপে আরও দেখা গেছে, কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে নাগরিকেরা তথ্য চাইছেন, তাতেও পরিবর্তন এসেছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে তথ্য চেয়ে আবেদনের হার প্রায় আট গুণ বেড়ে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদে তথ্য চাওয়ার হার ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।

তথ্য কমিশনে করা অভিযোগগুলোর ৮৬ শতাংশের কারণ হিসেবে আপিল কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা বা অযৌক্তিকভাবে তথ্যের আবেদন প্রত্যাখ্যানের কথা উঠে এসেছে। ৬৩ শতাংশ অভিযোগ শুনানির জন্য গ্রহণ করতে ৩০ দিনের বেশি সময় লেগেছে।

তথ্য কমিশনের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ২৩ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়নি। ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় দ্বিতীয়বার অভিযোগ করতে হয়েছে।

জরিপে তথ্য অধিকার আইন ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক হয়রানি ও প্রতিশোধের ভয়কে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৫৯ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, তথ্য চাইতে গিয়ে নারীরা বেশি বাধার মুখে পড়েন। নারীদের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অবহেলাকে বড় বাধা বলেছেন ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা এবং সরাসরি হয়রানির কথা বলেছেন ১৪ দশমিক ১ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) সম্মানসূচক নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের ফার্স্ট কাউন্সেলর কামিলা পার্টিকা এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বক্তব্য দেন।

aliul / aliul

আজকের কাজ আজই শেষ করা পবিত্র দায়িত্ব : চট্টগ্রামের ডিসি

অনিয়মের জন্য ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

আইজিপির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

চট্টগ্রামে শিল্প এলাকা থেকে দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

বর্ণবৈষম্য বিলোপ থেকে বিশ্ব এখনো অনেক দূরে : আইরিন খান

শেখ হা‌সিনা বাংলাদেশে আসার আর কোনো চান্স নাই : হুমায়ুন ক‌বির

দ. কোরিয়া যাচ্ছেন হুমায়ুন, প্রেসিডেন্টকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণপত্র দেবেন

ইতালি নেওয়ার কথা বলে মিশরে নির্যাতন-দেহব্যবসা, চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার

তথ্য কমিশন গঠনে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ, একই পথে বর্তমান সরকার : টিআইবি

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে কাজ করবে স্থায়ী কমিটি

দলীয় পরিচয় নয়, অপরাধী হিসেবেই ব্যবস্থা : আইজিপি

রোডক্র্যাশে তরুণদের হতাহত বেশি, সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন চান তারা