ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

উখিয়ার বন ধ্বংসের নায়ক শাহিনুর, নেপথ্যে ডিএফও


এস এম পিন্টু ও সৈয়দ আককাস উদদীন photo এস এম পিন্টু ও সৈয়দ আককাস উদদীন
প্রকাশিত: ৩০-৯-২০২৬ দুপুর ১:৬

অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির মহোৎসব চলছে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের উখিয়া রেঞ্জে। রোহিঙ্গাদের আবাসনের কারণে এমনিতেই চরম ঝুঁকিতে রয়েছে কক্সবাজারের উখিয়ার পাহাড় ও বন। অথচ ক্ষতি পুষিয়ে বন পুনরুদ্ধারের পরিবর্তে ধ্বংসযজ্ঞে নেমেছিলেন সদ্য এক সপ্তাহ আগে বদলী হওয়া উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহীনুল ইসলাম। মাঝেমধ্যে দুয়েকটা লোক দেখানো অভিযান চালানো হলেও তারই মধ্যে চালিয়েছে শতকোটি টাকার বাণিজ্য, নিয়মিত তুলতেন মাসোহারাও। সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, শাহীন তার চাকুরী জীবনের প্রথম পোষ্টিং হিসেবে উখিয়া রেঞ্জে এসেই অনৈতিকভাবে শতকোটি টাকা বানিয়েছেন। বহুমুখী দুর্নীতিতে অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পাহাড় কাটা, বনভূমি দখলে সহযোগিতা ও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ বন বিভাগে  ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও তার কর্মকালীন সময়ে কোনরূপ ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে ৯ মাস আগে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগে যোগদান করা ডিএফও আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পাহাড়সম অভিযোগ ফলাও করে প্রকাশিত হলেও দৃশ্যত কোন ব্যবস্থা নেয়নি  সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। 
জানা যায়, বর্তমানে কর্মরত ডিএফও আব্দুল্লাহ আল মামুনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায়  শাহীনুল ইসলাম উখিয়া রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে মাটি পাচার ও পাহাড় কাটার মহোৎসবে মেতেছিল।  উখিয়ায় বনভূমি রক্ষা করতে গিয়ে তৎকালীন ফরেস্টার সাজ্জাদুজ্জামান নিহত হওয়ার পরও বেশ কয়েকটি চক্র বন ও পাহাড় নিধন চালিয়ে যাচ্ছে। আর ওই প্রভাবশালী চক্রগুলোর সাথে হাত মিলিয়েছিল গত সপ্তাহে বদলী হওয়া শাহিন। এমন ভয়ংকর খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি কেউ।

স্থানীয়রা জানান, শাহিনুরের বদলীর পরও ডিএফও’র আস্কারায় বন ও পাহাড় রক্ষায়  বনবিভাগ কঠোর অবস্থানের পরিবর্তে বনখোকেদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে দেখা যায়,  উখিয়ার বিভিন্ন এলাকার বনাঞ্চলে অবাধে ঘরবাড়ি, দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে, যদিও শুরুটা হয়েছিল এসিএফ শাহিন যখন ট্রেনিং কোর্সে এসে উখিয়া রেঞ্জের দায়িত্ব নেন তখন থেকেই।

স্থানীয় বাসিন্দা সবুর বলেন, বনভূমি জবরদখল প্রতিরোধের পরিবর্তে উখিয়ার তৎকালীন রেঞ্জ কর্মকর্তার নেতৃত্বে বনকর্মীদের একটি চক্র এসব স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ করে দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পরবর্তী তিনি এখান থেকে বদলী হয়ে যায়। তবে বনের জমিতে নির্মিত পুরোনো স্থাপনাগুলো থেকে মাসোহারা আদায়ে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এই শাহিনুরের  বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে  আরও জানা গেছে , রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন এনজিওর কার্যক্রমে বনের কাঠ ও বাঁশ সরবরাহের ক্ষেত্রে অবৈধ লেনদেনে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। শুধু  তাই নয়, গাছ পাচার চক্রের সদস্যদের বন আইনের আওতায় আনার পরিবর্তে তাদের নিরাপত্তা দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।  
অনুসন্ধানে আরো ওঠে এসেছে,  টেকনাফ উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রতি বছর প্রায় ২ কোটি পিস বাঁশের প্রয়োজন হয়। এই বিশাল চাহিদাকে পুঁজি করে উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে ওই ব্যবসার সিংহভাগ নিতেন ডিএফও আব্দুল্লাহ আল মামুন। ফলে সিন্ডিকেটটি কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বনের কাঠ ও বাঁশ পাচার করে আসছে। এ চক্রের বাইরেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বনের কাঠ ও বাঁশ পাচারের একাধিক চক্র রয়েছে। এসব চক্রগুলোর কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে বনজ সম্পদ পাচারের সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সদ্য বিদায়ী উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। 

এসব অভিযোগের ব্যাপারে সদ্য বদলী হওয়া উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহীনুল ইসলামকে কল ও ক্ষুদেবার্তা দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি। 
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, শাহিনুর রহমান কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক হিসেবেও কর্মরত, তিনি  বনবিভাগের বিধিমতো রেঞ্জ ট্রেনিংয়ের জন্য এক বছরের জন্য রেঞ্জারের দায়িত্ব পান উখিয়া রেঞ্জে। এই এক বছরেই নিজের পুরো ভবিষৎ এর উপার্জন করার মনমানসিকতায় রোহিঙ্গা থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিকট গণহারে  বিক্রি করেন  বনভূমি। এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে,   রেঞ্জার শাহিনুর রহমান উখিয়া রেঞ্জের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি নিজেই অনেককে বুক ফুলিয়ে বলে বেড়ান যে চাকুরী জীবনের কখনো আর উখিয়া তো আসা হবেনা, কিংবা উখিয়ার রেঞ্জের দায়িত্ব পাওয়া হবেনা তাই কপালে যা হওয়ার তাই হবে, আগে কামিয়ে নিই।
অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য, কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ডিএফও আব্দুল্লাহ আল মামুনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, টেক্সট দেয়া হলেও তিনি কোন জবাব দেননি।

এমএসএম / এমএসএম

বাঘায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

পঞ্চগড় পৌর শহরে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

নাগরিক সেবায় প্রকাশ্য ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ: কচুয়ায় ইউপি প্রশাসক অবরুদ্ধ, উদ্ধার করল প্রশাসন

সিংড়ায় ৫ দিন ধরে গৃহবধূ ও শিশুকন্যা নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার

চাঁদপুরে কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে অভিযান, ১১ জনের কারাদণ্ড

প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রশান্তি আর বিনোদনের অপূর্ব ঠিকানা " শালিখা ইকোপার্ক "

বরিশালের আটটি কলেজে একাদশে শ্রেণিতে এবারও মেলেনি কোনো শিক্ষার্থী

নোয়াখালী মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণে ৭৫১ টাকার প্রকল্প অনুমোদন

টুঙ্গিপাড়ায় পুকুর-বিলে ছাড়া হলো ২৮৫ কেজি মাছের পোনা

নাজিরপুরের বাবুরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়: ছয় দশক ধরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি

চাঁদপুরে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৩৩ আ.লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা

শার্শায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার স্বর্ণসহ যুবক আটক

উখিয়ার বন ধ্বংসের নায়ক শাহিনুর, নেপথ্যে ডিএফও