ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বরিশালের আটটি কলেজে একাদশে শ্রেণিতে এবারও মেলেনি কোনো শিক্ষার্থী


এম জহির, বরিশাল  photo এম জহির, বরিশাল
প্রকাশিত: ৩০-৯-২০২৬ দুপুর ১:১১

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ আটটি কলেজে চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ায় একজন শিক্ষার্থীও মেলেনি। শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে কলেজগুলোর যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে নানা জটিলতায় এগুলো এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। এমপিওর আশায় বিনা বেতনে যোগ দেয়া শিক্ষকরাও একপর্যায়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে গেছেন।

ফলে চরম শিক্ষকসংকটে থমকে যায় শিক্ষা কার্যক্রম। বরিশাল শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, একাদশ শ্রেনির ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী না পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- বরগুনা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, বেতাগীর কদভানু মেমোরিয়াল সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির পূর্ব জালাবাড়ি আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সেহাঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কাউখালীর সায়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নে ইজিএস শিক্ষা নিকেতন, পটুয়াখালী সদরের লোহালিয়া ইউনিয়নে পাজাখালী কলেজ এবং গলাচিপার পানপট্টি কলেজ। এরমধ্যে পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়েছিল, বাকি তিনটি কলেজ হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টানা কয়েক বছর চালু থাকার পর ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলদের দাবি-শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত না হওয়া এবং স্থানীয় দলীয় কোন্দলের কারণেই মূলত কলেজগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পাঠদানের অনুমতি বাতিলের জন্য শিক্ষা বোর্ডে আবেদনও করা হয়। তবে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তালিকায় হালনাগাদ তথ্য না থাকায়, এ বছরও উচ্চ মাধ্যমিকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীশূন্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্রে আরও জানা গেছে, এমনই একটি প্রতিষ্ঠান বেতাগীর চান্দুখালী বাজারের বরিশাল-বরগুনা আঞ্চলিক সড়ক সংলগ্ন ‘কদভানু মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়’। ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০১৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত করা হয়। তবে ২০২৪ সালে এসে একাদশ শ্রেনীতে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

প্রতিষ্ঠানের প্রধানশিক্ষক শামীমা নাসরিন জানিয়েছেন, প্রতিবছর বিদ্যালয় থেকে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করায় তাদের ওপর ভরসা করেই কলেজ শাখা চালু করা হয়েছিল। তবে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শেষপর্যন্ত তারা কলেজ শাখার কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

তবে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন বিদ্যালয়ের পাশেই নিজ নামে ডিগ্রি কলেজ স্থাপন করেছেন। এসএসসি পাস শিক্ষার্থীদের ওই কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি করানোর কারণে বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা শিক্ষার্থী সংকটে পরে। বিদ্যালয়ের কলেজ শাখায় সর্বশেষ ২০২৫ সালে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন।

কাঁঠালিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক জলিলুর রহমান জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে বালিকা বিদ্যালয়টি উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত করা হয়। ওইসময় আশপাশের কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রভাষক পদে বিনা বেতনে পাঠদান করাতেন। কিন্তু এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ওই শিক্ষকরা যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। পরবর্তীতে কলেজ কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে নিজেদের স্কুলের শিক্ষকরা উচ্চ মাধ্যমিকে ক্লাস শুরু করেছিলেন। একপর্যায়ে ছাত্রীরাই বলতে শুরু করেন স্কুলের শিক্ষকরা কেন কলেজে পড়াবেন। এ কারণে ২০২৪ সালের পর আর শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়নি।

স্বরূপকাঠির সেহাঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, ওই এলাকার সন্তান ঢাকার ব্যবসায়ী একেএম শামসুদোহা ফারুক ব্যক্তিগত প্রচারের উদ্দেশে দাতা সেজে বিদ্যালয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শাখা শুরু করেন। তবে শিক্ষা বোর্ড থেকে কেবল পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি মিললেও অন্য কোনো স্বীকৃতি বা সহায়তা পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে পরিচালনা ব্যয় বহন করতে না পেরে দাতা সটকে পরলে চার বছর আগে এর কলেজ শাখা বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় সেখান থেকে মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে একজন উত্তীর্ণ হয়েছিলো।

একই উপজেলায় ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব জালাবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি কবে কলেজে উন্নীত হয়েছে, কেন বন্ধ হলো-এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য দিতে রাজি হননি প্রধানশিক্ষক সঞ্জয় কুমার। তবে তিনি বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে কলেজের কার্যক্রম চালু হলেও মাঝে কয়েকবার বন্ধ ছিল। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট সূত্রে দেখা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ২১১ জনের মধ্যে ১৫৫ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ছয়জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

স্বরূপকাঠির পাশে কাউখালীর ইজিএস শিক্ষা নিকেতনের প্রধানশিক্ষক তানভীর আহমেদ তার কলেজ শাখা বন্ধের জন্য গ্রামের স্থানীয় কোন্দলকে দায়ী করেন জানিয়েছেন, একপক্ষ গ্রামে গ্রামে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি না হওয়ার জন্য বলে। পাঠদান অনুমতি বাতিলে তারাই বোর্ডে আবেদন করেন। এসব কারণে তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় না।

পটুয়াখালী পাজাখালী কলেজটির অচলাবস্থার জন্য প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষককে দায়ী করেন প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মো. আশরাফ আলী। ২০২২ সালে এ কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় জানিয়ে তিনি বলেন, আমি কয়েকবার তাবলিগ জামাতে গেলে কৌশলে শিক্ষকরা কলেজটিকে শিক্ষার্থীশূন্য করেন। ফলে তিন বছর ধরে কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি হয় না। স্থানীয় এমপির সুপারিশ নিয়ে আবারও কলেজটি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি তিন মাস আগে বরিশালে যোগদান করেছেন। ফলে শিক্ষার্থীশুন্য উচ্চ মাধ্যমিক কলেজগুলোর বিষয়ে সব তথ্য এখনও তার জানা নেই। সবেমাত্র ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এখন এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে।

এমএসএম / এমএসএম

বাঘায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

পঞ্চগড় পৌর শহরে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

নাগরিক সেবায় প্রকাশ্য ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ: কচুয়ায় ইউপি প্রশাসক অবরুদ্ধ, উদ্ধার করল প্রশাসন

সিংড়ায় ৫ দিন ধরে গৃহবধূ ও শিশুকন্যা নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার

চাঁদপুরে কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে অভিযান, ১১ জনের কারাদণ্ড

প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রশান্তি আর বিনোদনের অপূর্ব ঠিকানা " শালিখা ইকোপার্ক "

বরিশালের আটটি কলেজে একাদশে শ্রেণিতে এবারও মেলেনি কোনো শিক্ষার্থী

নোয়াখালী মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণে ৭৫১ টাকার প্রকল্প অনুমোদন

টুঙ্গিপাড়ায় পুকুর-বিলে ছাড়া হলো ২৮৫ কেজি মাছের পোনা

নাজিরপুরের বাবুরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়: ছয় দশক ধরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি

চাঁদপুরে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৩৩ আ.লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা

শার্শায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার স্বর্ণসহ যুবক আটক

উখিয়ার বন ধ্বংসের নায়ক শাহিনুর, নেপথ্যে ডিএফও