ঢাকা শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

এসএমইকে বড় হতে সহায়তা করলেই বাড়বে উৎপাদনশীলতা : নাজনীন আহমেদ


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১-১০-২০২৬ দুপুর ১:৩৭

দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) সক্ষমতা বাড়িয়ে তাদের ধীরে ধীরে মাঝারি ও বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারলে উৎপাদনশীলতা ও উদ্ভাবন বাড়বে বলে মনে করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ।

তার মতে, এসএমই উদ্যোক্তাদের শুধু ঋণ দেওয়াই যথেষ্ট নয়, ঋণের পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, প্রযুক্তি ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের জন্য কারিগরি সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে ‘বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি : চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) ও দৈনিক যুগান্তর যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। আলোচনা সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি, কোম্পানির প্রতিনিধি, গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও এসএমই উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিজেদের গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) সক্ষমতা রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের কাছ থেকেও তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়। কিন্তু ছোট উদ্যোক্তাদের সেই সক্ষমতা নেই। তাই ছোট প্রতিষ্ঠানকে মাঝারি ও বড় পর্যায়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হলে একপর্যায়ে তারা নিজেরাই গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ করার সক্ষমতা অর্জন করবে।

তিনি বলেন, আমাদের ভাবতে হবে, একটি ছোট প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে সহায়তা করলে সেটি মাঝারি প্রতিষ্ঠানে যেতে পারবে। মাঝারি হলে তার জন্য এক ধরনের সহায়তা প্রয়োজন হবে, আর বড় হলে প্রয়োজন হবে অন্য ধরনের নীতি সহায়তা।

ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, উৎপাদনশীলতা ও উদ্ভাবন বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। তবে সমন্বয়ের আগে দেখতে হবে, একই ধরনের কাজের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি হচ্ছে কি না। কারণ, বিভিন্ন পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের জন্য একই ধরনের প্রশিক্ষণ বা সহায়তা সব সময় কার্যকর নাও হতে পারে।

তিনি বলেন, নতুন অবকাঠামো তৈরির পরিবর্তে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো দরকার। এসএমই ফাউন্ডেশন যে প্রশিক্ষণ দেয়, সেগুলোকে বর্তমান সময়ের উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তি ও খাতভিত্তিক প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে নিয়মিত আধুনিকায়ন করতে হবে। কোন কোন খাতে ভবিষ্যতে সম্ভাবনা রয়েছে, সে বিষয়ে এসএমই ফাউন্ডেশনের অগ্রাধিকার নির্ধারণের কাজও সময়ের সঙ্গে হালনাগাদ করা প্রয়োজন।

উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আন্তর্জাতিক মানের করে তুলতে সরকারের পাশাপাশি এনপিও এবং দেশের দক্ষ বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু ও পদ্ধতিও নিয়মিত পরিবর্তন করতে হবে।

প্রযুক্তি ও অটোমেশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবসম্পদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে প্রযুক্তির উদ্দেশ্য শুধু শ্রমের ব্যবহার কমানো হওয়া উচিত নয়। বরং প্রযুক্তির মাধ্যমে শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়িয়ে তাদের আরও উৎপাদনশীল করে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই দক্ষ জনবল তৈরি হোক। শুধু মেশিন এনে প্রযুক্তি ব্যবহার করে যদি অনেক মানুষ কাজ হারায়, সেটা আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়।

নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের সুযোগের সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও তুলে ধরেন ড. নাজনীন আহমেদ। তিনি ২০১৮ সালে করা তার একটি গবেষণার উল্লেখ করে বলেন, তখন তৈরি পোশাকশিল্পে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ৬২ শতাংশ। গবেষণার সময় বিভিন্ন পর্যায়ের পোশাকশ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, অটোমেশন ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নেওয়ার ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকেরা নানা বাধার মুখে পড়েন।

নারী শ্রমিকদের উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের জন্য কর্মঘণ্টা থেকে সময় বের করার সুযোগ তাদের অনেক সময় দেওয়া হয় না। পুরুষ শ্রমিকেরা কাজের বাইরে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পেলেও নারী শ্রমিকদের ঘরের কাজ ও পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে হয়। ফলে তাদের জন্য একইভাবে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এ কারণে উৎপাদনশীলতার স্বার্থে নারী শ্রমিকদের কর্মঘণ্টার মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দেন তিনি।

এসএমই খাতে ঋণের সঙ্গে কারিগরি সহায়তা যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন ড. নাজনীন আহমেদ। তিনি বলেন, পুনঃঅর্থায়ন (রিফাইন্যান্সিং) স্কিমের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু ঋণ দিলেই হবে না, সেই ঋণের একটি অংশ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নেওয়ার সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে।

তার মতে, একজন উদ্যোক্তা ঋণ নেওয়ার পর কোনো প্রতিষ্ঠান বা বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা বা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সহায়তা নিতে পারবেন-এ বিষয়ে একটি কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে। বড় উদ্যোক্তা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতাকেও এ ক্ষেত্রে কাজে লাগানো সম্ভব।

ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের কাজ সবকিছু করে দেওয়া নয়, বরং প্রয়োজনীয় সহায়তার সুযোগ তৈরি করা এবং উদ্যোক্তাদের সেই সুযোগ গ্রহণে উৎসাহিত করা। পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মাধ্যমে এসএমই উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সহায়তা গ্রহণে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

বেসরকারি খাতের প্রশিক্ষণদাতাদেরও এ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি। তার মতে, এসএমই ফাউন্ডেশন বা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে দেশের সব উদ্যোক্তা ও শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়। তাই শিল্প উৎপাদনশীলতা ও উদ্ভাবন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনঃঅর্থায়ন ব্যবস্থার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো বড় হয়ে আরও বেশি মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ পেলে দক্ষতা উন্নয়নের পরিধিও বাড়বে। একই সঙ্গে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান মেশিন ও কর্মপরিবেশকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।

ড. নাজনীন আহমেদের মতে, প্রশিক্ষণ যদি সরাসরি কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে তা আরও কার্যকর হবে। প্রশিক্ষণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে কর্মীদের বাস্তব কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ দিতে পারে। এতে একদিকে প্রশিক্ষণার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা পাবেন, অন্যদিকে কারখানাগুলোও সেই প্রশিক্ষণের সুফল পাবে।

সবশেষে তিনি বলেন, দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরকারকে মূলত সহায়ক ও প্রণোদনামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে এসএমই খাতে উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি ব্যবহার ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বড় শিল্পকে নীতি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে তাদের ধাপে ধাপে বড় হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

aliul / aliul

ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের সিইও আহসানুর রহমান

সেপ্টেম্বরে এলো ৩৪ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয়

পুঁজিবাজারের কাঠামো বদলে যাওয়ায় আইসিবিকেও নতুনভাবে ভাবতে হবে

এসএমইকে বড় হতে সহায়তা করলেই বাড়বে উৎপাদনশীলতা : নাজনীন আহমেদ

ডিজিটাল অর্থনীতি গড়তে বাংলা কিউআর কোডের লেনদেনে কোনো চার্জ লাগবে না

সিলেটে ভাইব্রেন্টের ২২তম সেলস সেন্টার উদ্বোধন

৭৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল

বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উদযাপন করবে বিএসইসি

নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানো যাবে

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব

বাড়ল সোনার দাম

নিখোঁজদের তথ্য প্রচারের নতুন প্ল্যাটফর্ম ওয়ালটন প্লাজার টিভি স্ক্রিন

টেক্সটাইলের কাঁচামাল উৎপাদনে এডিবির ৫০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন