এনএসআই কর্মকর্তার প্রভাবে মামলা প্রভাবিত, অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার
খুলনা সিটি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘিরে ২০১০ সালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা হামলার শিকার হন খুলনা সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান সদস্য সচিব রায়হান বিন কামাল। পরবর্তীতে দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পরে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগি। তবে মামলা করলেও আসামীদের গ্রেফতার করা হয়নি এবং আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন খুলনা সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রায়হান বিন কামাল।
বৃস্পতিবার (১ অক্টোবর) খুলনা সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রায়হান বিন কামাল অভিযোগ তুলে ধরে খুলনা প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
এ সময় রায়হান বিন কামাল বলেন, প্রায় ১৬ বছর আগে ২০১০ সালের ৮ই মার্চ দিনটি আমার জীবনে এক বিভীষিকাময় অধ্যায় হিসেবে এসেছিল। আমি তৎকালীন সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ‘ছাত্রদল’ মনোনীত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ছিলাম। একই সাথে কলেজ শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক এবং সোনাডাঙ্গা থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম। অন্যদিকে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ভর্তি বাণিজ্যসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়া এবং শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের কারণে ছাত্রলীগের গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। ফলে নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনে তারা আমাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ঘটনা সূত্রে ২০১০ সালের ৮ মার্চ আমার বাবা গুরুতর অসুস্থ থাকায় তাঁর চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আমি অগ্রণী ব্যাংক (পিকচার প্যালেস মোড় শাখা) থেকে পঞ্চাশ টাকা তুলে বেবিট্যাক্সি যোগে বাসার দিকে রওনা হই। সঙ্গীতা সিনেমা হলের মোড়ে পৌঁছালে ছাত্রলীগের ভিপি প্রার্থী বি. এম. মহিমের নেতৃত্বে ১৪-১৫টি মোটরসাইকেলে সশস্ত্র ক্যাডাররা আমাকে ঘিরে ফেলে। তারা অস্ত্রের মুখে অন্যান্য যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে আমার পেটে পিস্তল ঠেকিয়ে আমাকে অপহরণ করে।
এরপর চালককে ভয় দেখিয়ে শেখপাড়ার ভেতরের বিভিন্ন গলি ঘুরিয়ে ফারাজিপাড়ায় সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলীর বাড়ির গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব থেকেই প্রস্তুত থাকা ছাত্রলীগ ক্যাডার সাদী আমার কাছে থাকা ২টি মোবাইল ও বাবার চিকিৎসার ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। আমি বাধা দিলে সে আমাকে ছুরি দিয়ে আঘাত (স্টেপ) করে। এরপর তাদের নির্দেশের কথামতো আমাকে অটোরিকশায় করে শান্তিধাম ঝুল মার্কেটের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ধারালো চাপাতি ও লোহার পাইপ নিয়ে ওত পেতে থাকা ছাত্রলীগ ক্যাডার দেব দুলাল বাড়ই, বাপ্পি, সবুজ, হাসানসহ অন্যান্য আসামিরা আক্রমণ চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় আত্মরক্ষার্থে আমি গাড়ি থেকে নামতে না চাইলে, ক্যাডার রিপন রাস্তা থেকে ইট এনে আমার মুখের বাম পাশে সজোরে আঘাত করে। এরপর রেজা আমাকে টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামায় এবং সবুজ হাজরা সরাসরি চাপাতি দিয়ে কোপ দেয়। কোপ প্রতিহত করতে গিয়ে আমার বাম হাতের রগ কেটে যায়। পরবর্তীতে তারা আমাকে রড ও লোহার পাইপ দিয়ে নির্মমভাবে পেটাতে থাকে। আমার রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থা দেখে এক পথচারী ও এক বড় ভাই এগিয়ে আসেন এবং আমাকে রিকশায় তুলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। যাত্রাপথে করিমনগর অতিক্রম করার সময় বর্তমান ১৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক (তৎকালীন সিটি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি) সাইফুল ইসলাম আমাকে রক্তাক্ত দেখে এগিয়ে এসে আমার অটোতে ওঠেন এবং হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তারাই আমার পরিবার ও রাজনৈতিক সহযোগীদের অবহিত করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে জখম গুরুতর হওয়ায় আমাকে দ্রুত অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। হাতের রগ কাটার অপারেশন চলাকালীন সময়ে আমি চিকিৎসকদের বলতে শুনি- “দ্রুত এই রোগীকে বের করে দাও, তাকে আবারও আক্রমণ করতে হামলার উদ্দেশ্যে পুলিশসহ সন্ত্রাসী দল এদিকে আসছে।” চিকিৎসকরা বাধ্য হয়ে চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখেই আমাকে হাসপাতালের পেছনের লাশ বের করার সিঁড়ি দিয়ে বের করে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেন। পরবর্তীতে আমার চাচার অনুনয়-বিনয়ে ওটি বয়-এর মাধ্যমে একটি অসম্পূর্ণ ব্যবস্থাপত্র হাতে দেওয়া হয়। সেখান থেকে অসুস্থ বাবা ও মাকে নিয়ে আমরা গোপালগঞ্জ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হই, কিন্তু অবস্থার অবনতি দেখে তারাও ভর্তি নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তীব্র যন্ত্রণায় যখন ছটফট করছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল এ যন্ত্রণা সহ্য করার চেয়ে মৃত্যুও অনেক শ্রেয়। পরবর্তীতে ঢাকায় নিয়ে গেলে উত্তরা আমেরিকা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুদিন আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি প্রাণ ফিরে পাই। পরবর্তীতে আর্থিক সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে আইসিইউ ত্যাগ করি এবং আমার ভাই চট্টগ্রাম থেকে এসে আমাকে ও আমার অসুস্থ বাবাকে চট্টগ্রামে নিয়ে যান। পরবর্তীতে গত ১৪ বছর ধরে বিচার তো দূরের কথা, প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু পেতেও বাধা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর ত্যাগী নেতাকর্মীদের ওপর লাগাতার হামলা-মামলা চালানো হয়েছে। তৎকালীন সময়ে মামলা করতে গেলেও পুলিশ সোনাডাঙ্গা ও সদর থানার দোহাই দিয়ে ঘোরাতে থাকে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ প্রমাণ ও আসামিদের অবস্থান জানার পরও রহস্যজনক কারণে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। একাধিক তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হওয়ার পর, মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানায় কর্মরত উপপরিদর্শক ইমরান অসাধু উপায়ে ও অনৈতিক ভাবে মামলার অন্যতম আসামী এন এস আইতে কর্মরত বিএম মহিমের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে সকল অপরাধীদের নাম বাদ দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এর মাধ্যমে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মামলাবাজদের ক্যাডারদের দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রত্যেক তদন্ত কর্মকর্তাকে মামলার অন্যতম আসামি আওয়ামীলীগ নেতা রেজা, সাদীসহ অন্যান্য আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হলেও অজানা কারণে তারা গ্রেপ্তারের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ওায়হান বিন কামাল উল্লেখ করে বলেন, মামলার প্রধান আসামি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বি. এম. মহিমকে স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইতে চাকুরী করেন। যার প্রভাবে ও অর্থ যোগান দেয়ায় প্রভাবিত হয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাকে না জানিয়েই আসামীদের দায় মুক্তি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন। এই সময়েও মামলা দায়ের করেও এখন আমি হয়রানির শিকার। মামলাটির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য দ্রুত সিআইডি বা পিবিআইতে হস্তান্তর করার দাবি জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আইনগত প্রক্রিয়ায় আমি পুনরায় মামলার তদন্ত চাইবো। একই সাথে মামলাটি নিস্ক্রিয় করার সাথে সম্পৃক্ত অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সাথে প্রশাসণের ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামীলীগের দোসরদের খুজে বের করতে হবে। নইলে রাষ্ট্র পুনরায় গভীর চক্রান্তের মধ্যে পড়বে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোনাডাঙ্গা থানায় দায়ের করা মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত আসামি করা হয় ১০/১৫ জন। তাদের মধ্যে মামলার এক নম্বর বিবাদী বিএম মহিম বতর্মানে গোয়েন্দা সংস্থা এন এস আইতে কর্মরত রয়েছেন। অন্যান্যরা ২০২৪ সালে ৫ই আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে রয়েছেন।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক ইমরানের বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে জানিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এমএসএম / এমএসএম
জিয়ানগরে আন্তর্জাতিক প্রবীন দিবস উদ্যাপিত
নেত্রকোণায় মহিলা ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ,শিক্ষক ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি পালন
চারঘাটে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করলো র্যাব-৫
আত্রাইয়ে কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন
রাজস্থলীতে র্যালি মধ্যে দিয়ে ও আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত
দাউদকান্দি টোল প্লাজায় তারেক রহমানকে স্বাগত, স্লোগানে মুখরিত মহাসড়ক
আশুলিয়ায় ‘রাস্তার নামে’ ভূমি দখলের পাঁয়তারা, ইওনো'র কাছে ভুক্তভোগীর আবেদন
আদমদীঘিতে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত
এনএসআই কর্মকর্তার প্রভাবে মামলা প্রভাবিত, অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে পটুয়াখালীতে র্যালি ও আলোচনা সভা
নাচোলে জরাজীর্ণ সড়ক পরিদর্শন, দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস মেয়র প্রার্থী মনিরুল ইসলাম
ভূঞাপুরে ১৯৯৬ সালের চর গাবসারা মৌজার জরিপ বহালের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন