ঘিওরে শারদীয় দুর্গোৎসবে প্রতিমার রুপ ও সৌন্দর্য্য ফুঁটিয়ে তুলতে মহাব্যস্ত শিল্পীরা
আগামী ১৫অক্টোবর থেকে ৫দিন ব্যাপি বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ও প্রধান শারদোৎসব শুরু হবে। শরতের দিগন্ত বিতৃত্ব নির্মল আকাশে নীলিমার বুক চিরে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘের ভেলা। শিশিরে ভেজা ভোর আর কুয়াচ্ছন্ন মিষ্টি রোদে ভেসে আসা শিউলি ফুলের সুমধুর ঘ্রাণ আর নদীর ধারে থোকা থোকা কাশফুল বাতাসে দোল খাচ্ছে। বিলে ঝিলে ফুটে থাকা পদ্মফুলের অপরুপ সৌন্দর্য জানান দিচ্ছে ভক্তের কল্যাণে মত্যলোকে আসছেন দেবীদুর্গা। বর্ণাঢ্য ধর্মীয়, সামাজিক ও সাস্কৃতিক উৎসবে মেতে উঠবে সারা দেশের মতো ঘিওর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের লোকজন। শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে ফুটে উঠেছে দেবী, দুর্গা, লক্ষী,স্বরসতী, কার্তিক, গনেশ ও অসুরের অবয়ব। রং এবং তুলির ছোয়ায় প্রতিমার রুপ ও সৌন্দয্য আনার কাজ নিয়ে শিল্পীরা মহাব্যস্ত হয়ে পরেছে। প্রতিটি পূজামন্ডপে দিনরাত কাজ করছেন ভাস্কর ও মৃৎশিল্পীরা। গ্রামাঞ্চলের পুরো জনপদ দেবদেবীর আগমনী বার্তায় মুখর হয়ে উঠেছে। এ বছর ঘিওরে ৮৪টি মন্দিরে পুজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বছরে ৮৩টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
পঞ্জিকা মতে, এবার দুর্গা দেবীর ঘোটকে আগমন এবং নৌকায় গমন। শরতের শুক্লাপক্ষের ষষ্টী থেকে দশমতিথিতে কালের আকাশ বাতাশ জুড়ে আলোড়ন তুলবে ঢাকের বাদ্য আর ধুপের সুগন্ধি। মহিষাসুর বধ এবং দেবতাদের রক্ষা করার জন্য দেবী দুর্গার সৃষ্টি হয়। শ্রী রামচন্দ্র রাবণ বধের উদ্দেশ্যে শরৎকালে অকাল বোধন বা দেবীর অসময়ে আরাধনা করেছিলেন। শরৎকালে দেবতাদের হয়ে অসুরকে ধ্বংস করার লক্ষে পৃথিবীতে দুর্গার আগমন ঘটে। শরৎকালে দেবীর এ পূজাকে বলা হয় অকাল বোধন। বিভিন্ন মন্দিরগুলোতে শিল্পীরা ফরমায়েশ অনুযায়ী প্রতিমা তৈরির কাজে মহাব্যস্ত। প্রতিমা কাঠামোতে খড়, বাঁশ, কাঠ, এবং কাদা-মাটি লাগানোর কাজ শেষ। রং এবং তুলির কাজ প্রায় শেষের দিকে। প্রতিমার চোখ, হাতের আঙ্গুল, মুখমন্ডল, তৈরিসহ প্রতিটি কাজের জন্য ভিন্ন কারিগর রাতদিন নিরলশ পরিশ্রম করছে।
সরেজমিন পূজামন্ডপগুলো পরিদর্শন করে দেখা গেছে, কোথাও বাঁশ খড় দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। কোন মন্দিরে কাঁদা মাটির প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে। আবার অনেক মন্দিরে মাটির কাজ শেষ হয়ে গেছে। অধিকাংশ মন্দিরগুলোর প্রথম এবং ২য় ধাপের কাজ শেষ। মাটি শুকিয়ে গেলে শুরু হবে ফিনিশিং ও রংয়ের কাজ। সর্বশেষ কাপড়, গয়না ও বিভিন্ন সজ্জায় প্রতিমাকে দেওয়া হবে দৃষ্টিনন্দন রূপ। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মন্ডপ সাজানো ও অন্যান্য প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। শিল্পীদের নিপুন হাতে মাটি থেকে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে দেবীদুর্গার।
ঘিওর উপজেলা নেগিরকান্দি গ্রামের মন্টু পাল (৪৬) তার সাগরেদদের নিয়ে লোকনাথ মন্দিরে প্রতিমা গড়ার কাজে ব্যস্ত। মাটির ভাস্কর্য্য তৈরিতে তিনি পারদর্শী। নরম কাঁদা মাটি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিল তিল করে তুলেছেন দশভুজ্য দুর্গাদেবীর প্রতিমা। একই সঙ্গে গনেশ, কার্তিকসহ অন্যান্য প্রতিমার। তিনি এবার দুর্গাদেবীর মুখাকৃতি রাগান্বিত করলেও, কৃতিম হাসির মাঝে তা ফুঁটিয়ে তুলেছেন। ১০ হাতে দুর্গা ত্রিসূল দিয়ে বধ করছেন যমদুত অশুরকে। আর ১০ হাতে দুর্গার ১০ চক্র, লীলা ভঙ্গীতে নতুনন্ত আনার চেষ্টা করছেন শিল্পীরা। লীলা এবং গুনের বিষয়টি অত্যন্ত নিখঁতভাবে ধরা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই দুর্গাদেবী উঠবে বেদীতে। বাজবে ঢাক, ঢোল, শঙ্খ, সানাই। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দেবীদুর্গা মহাশক্তির প্রতীক। সেই মহাশক্তিকেই তারা প্রতিমার মধ্য দিয়ে চিম্ময়ী ব্রম্বাশক্তিকে দর্শন করে। দুর্গোৎসবে ঘিওওে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সব মানুষ অংশ গ্রহন করে। রাজনৈতিক, সামাজিকসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আসেন প্রতিটি মন্দিরে শুভেচ্ছা জানাতে। সমস্ত বিভেদ ভুলে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে মিলন মেলায় পরিনত হয়। উপজেলার বানিয়াজুরী অমুল্য মালাকারের বাড়িতে এবং ঘিওর সদরে শতদল সংঘ, ঘিওর লোকনাথ মন্দির ও কচি কাঁচার উদ্যোগে সবচেয়ে ব্যয় বহুল ভাবে প্রতিমা তৈরি করা হয়। হাজার হাজার লোকজন দুর্গা দেবীকে দর্শন করতে এই মন্দিরগুলোতে সমবেত হয়।শরৎকালে দুর্গোৎসবে আনন্দ এখন থেকেই ভক্তরা প্রহর গুনছে সেই মাহেন্দ্রক্ষনের। ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের মনে সাজ সাজ রব। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের কিশোর কিশোরীরা মাতৃত্ব বন্দনায় অপার মহিমায় বিভিন্ন রং এ সাঁজে। বিধাতার অপার মহিমায় এ ঋতুতে বিলে ঝিলে ফোঁটে পদ্ম ও শাপলা। বিস্তৃর্ণ আকাশে চাঁদের হাসির সাথে সমস্ত আনন্দ উল্লাস একাকার হয়ে যায়। শরৎকালে রঙ্গিন পৃথিবীতে দুর্গা দেবীর নতুন আবির্ভাব। এ যেন শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা।
ঘিওর লোকনাথ মন্দিরের পূরোহিত বচন গোস্বামী বলেন, ষষ্ঠীতে দেবীর আমন্ত্রন ও অধিবাস,সপ্তমীতে আগমন,অষ্টমীতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সব নারীর মধ্যেই দেবী দুর্গার শক্তি আছে। তাই নারীদের মায়ের দৃষ্টিকোন থেকে একজন কুমারীকে দেবীর আসনে বসিয়ে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধি স্থলে সন্ধি পূজা করা হয়। শেষে বিজয়াদশমীর মাধ্যমে দেবীদুর্গাকে বিদায় জানানো হয়।
ঘিওর পূজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি এ্যাডঃ শচীন্দ্রনাথ মিত্র বলেন, ব্যাপক আনন্দ উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে ঘিওরে শারদীয় উৎসবে আনন্দ করে। যা ধর্মীয় আচার ও সংস্কৃতি সামাজিক সম্প্রতির বন্ধন। পূজা উৎযাপন কমিটির উদ্যোগে একটি টিম সার্বক্ষনিক মন্দিরগুলো পরিদর্শন করবে।
ঘিওর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাহাবুবুর রহমান বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবে আইন শৃঙ্খলা সুন্দর ও স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রতিটি মন্দিরে পুলিশ, আনসার মোতায়ন করা হবে। মোবাইল টিম সার্বক্ষনিক মন্দিরগুলো পরিদর্শন করবে। উপজেলার সব মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়সহ বিাভন্ন ধরনের দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা তুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজা বাঙালির চিরচায়িত ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক। আপনারা ঘিওরে শুষ্ট ও সুন্দরভাবে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রেখে পূজামন্ডপগুলোতে দুর্গাপূজা উৎযাপন করবেন। মন্দিরগুলোতে পর্যাপ্ত লাইট এবং সিসিটিভির ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা সকলেই মিলেমিশে মানুষের জন্য একটি শান্তিপূর্ন পৃথিবী গড়ে তুলবো। শরৎকালে সু-বাতাসে শান্তিপূর্ন হোক এ বসুন্ধরা।
এমএসএম / এমএসএম
ময়মনসিংহে সিএনজিকে বাসের ধাক্কা, নিহত ৭
বাগেরহাটের ফকিরহাটে ঘরের ভেতর থেকে সাবেক ইউপি সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার
ঘিওরে শারদীয় দুর্গোৎসবে প্রতিমার রুপ ও সৌন্দর্য্য ফুঁটিয়ে তুলতে মহাব্যস্ত শিল্পীরা
শার্শা সীমান্তে আখের বাম্পার ফলন
ভূরুঙ্গামারীতে তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১
লেখালিখি হোক সমাজ সংস্কারের হাতিয়ার: লেখক এস এম মাসুদ রানা
বিলাইছড়িতে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
জলবায়ু পরিবর্তন ও বাস্তুচ্যুতি সংক্রান্ত সংসদীয় ককাসের সদস্য হলেন আবুল হোসেন খান
রায়গঞ্জে র্যালি-আলোচনায় জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস পালিত
আত্রাইয়ে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
তারুণ্যের উন্নয়নে নিবেদিত প্রাণ অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান রিজভী
বড়লেখায় দৈনিক "মৌলভীবাজার প্রতিদিন" প্রত্রিকার আনুষ্ঠানিক শুভযাত্রা