বেনাপোলে শুল্ক ফাঁকি
কাস্টমসের মামলায় সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী সোহাগ কারাগারে
বেনাপোল কাস্টমসের শুল্ক ফাঁকির পৃথক দুই মামলায় সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী ইকরামুল কবির (সোহাগ)-কে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গত বুধবার যশোর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক মাহবুবা শারমিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত নামঞ্জুর করে তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সোহাগ বেনাপোল পৌরসভার বেনাপোল গ্রামের নুর মোহাম্মাদের ছেলে এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘এস এ ট্রেডার্স’ এর স্বত্তাধিকারী।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে-২০২৬ তারিখে শার্শার আমদানিকারক মেসার্স জাহাঙ্গীর এন্টারপ্রাইজ,মটরপার্টস এন্ড আদার্স পণ্য চালান আমদানি করে বন্দরের ৪১ নং শেডে নামায়। এ পণ্য চালানের পণ্য খালাশের দায়িত্বে ছিলো সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘এস এ ট্রেডার্স’। বেনাপোল কাস্টমস তদন্ত, গবেষণা এবং ব্যবস্থাপনা (ওজগ) টিম পণ্য চালানটি কায়িক পরীক্ষণের সময় ৫১৩ প্যাকেজ পণ্য কম পাই। অথাৎ পণ্য খালাশের আগেই ৪১ নং শেডে দায়িত্বরত শেড ইনচার্জদের সহযোগিতার মাধ্যমে উক্ত পণ্য লোপাট করে নিয়ে যায়। পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিচার আদেশে অপসারিত পণ্যগুলোর শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ধরা হয় আনুমানিক ৪৭ লাখ টাকা এবং সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ ২২ লাখ টাকা ধারনা করা হয়। এই ঘটনায় গত ১৪ জুন কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বাদি বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং-১৪।
এ মামলার আসামিরা হলেন-সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘এস এ ট্রেডার্স’ এর স্বত্তাধিকারী ইকরামুল কবির (সোহাগ), বন্দরের ৪১ নং শেডে দায়িত্বরত যে কয়েকজন শেড ইনচার্জ ও অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন। মামলার বিবরণীতে জানা যায়, সিঅ্যান্ডএফ ও সেড ইনচার্জ পরস্পর যোগসাজসে মালামাল পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন এবং অপসারণ ও পণ্য আত্মসাৎ করার অপরাধে ধারা- ৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৫/৩৪ অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
একই সাথে গত, ১৬ মে-২০২৬ তারিখে যশোরে আমদানিকারক ‘‘মেসার্স আব্দুল্লাহ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল”, মটরপার্টস এন্ড আদার্স পণ্য চালান আমদানি করে বন্দরের ঐ একই ৪১ নং শেডে নামান। এ পণ্য চালানের পণ্য খালাশের দায়িত্বে ছিলো সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘তানজিনা এন্টারপ্রাইজ’। বেনাপোল কাস্টমস তদন্ত, গবেষণা এবং ব্যবস্থাপনা (ওজগ) টিম ণ্য চালানটি কায়িক পরীক্ষণের সময় ৪৮২ প্যাকেজ পণ্য কম পাই। অথাৎ পণ্য খালাশের আগেই ৪১ নং শেডে দায়িত্বরত শেড ইনচার্জদের সহযোগিতার মাধ্যমে উক্ত পণ্য লোপাট করে নিয়ে যায়। পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিচার আদেশে অপসারিত পণ্যগুলোর শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ধরা হয় আনুমানিক ৩৭ লাখ টাকা এবং সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ সাড়ে ১৬ লাখ টাকা ধারনা করা হয়। এই ঘটনায় গত ১৪ জুন কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা কাজী নাঈম উদ্দীন বাদি বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং-১৫।
তবে এ ঘটনায় দেখা যায়,সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট,তানজিনা এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্সটি ইকরামুল কবির (সোহাগ) ভাড়া করে পণ্য খালাশ করেছেন। এ মামলার আসামিরা হলেন-সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট তানজিনা এন্টারপ্রাইজের ষ্টাফ (১) মাসুদুর রহমান, (২) ইকরামুল কবির (সোহাগ),(৩) বন্দরের ৪১ নং শেডে দায়িত্বরত যে কয়েকজন শেড ইনচার্জ ও অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন। মামলার বিবরণীতে জানা যায়, সিঅ্যান্ডএফ ও সেড ইনচার্জ পরস্পর যোগসাজসে মালামাল পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন এবং অপসারণ ও পণ্য আত্মসাৎ করার অপরাধে ধারা- ৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৫/৩৪ অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বন্দরের ৪১ নং শেডে সিঅ্যান্ডএফ এস এ ট্রেডার্স ও ‘তানজিনা এন্টারপ্রাইজ’ এর দুটি পণ্য চালানে লোপাট হওয়া ৫১৩ প্যাকেজ ও ৪৮২ পাকেজে ২৪ হাজার ৮৯০ কেজি পণ্য ছিলো। এত কয়েক কোটি টাকার উচ্চ শুল্ক যুক্ত শাড়ি,থ্রিপিস,জিলেট ব্লেড ও কসমেটিকস পণ্য ছিলো। যার আনুমানিক শুল্ক প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা।
কাস্টমস ও বন্দর সূত্রে উঠে এসেছে, গত আট মাসে বেনাপোল বন্দরে ১৩০টি উপরে জালিয়াতির ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। শেড থেকে পণ্য পাচার,শুল্ক ফাঁকি, মিথ্যা ঘোষণা, একটি চালান শুল্কায়ণ করে অন্য চালান লোপাট, এইসএস কোড পরিবর্তন,আন্ডার ইনভয়েসিং,পণ্য পরিবর্তন যার বেশির ভাগই ঘটেছে ভাড়াকৃত ও লিমিটেডকৃত কোম্পানি লাইসেন্সে। আর প্রতিটি ঘটনার সাথে বন্দরের শেড ইনচার্জরা জড়িত। এসব ঘটনায় বন্দর ও কাস্টমসের দায়ের হওয়া চারটি মামলায় কাস্টমস,বন্দর, নিরাপত্তা সংস্থা ও ব্যবসায়ীসহ ৫৭ জনকে আসামি করা হয়। তবে মামলার মেরিটে ফাঁক ফোকড় থাকায় এসব আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে আবারও প্রকাশ্য অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, বন্দরে শুল্ক ফাঁকির ঘটনা গুলো পার্যলোচনায় দেখা গেছে বেশিরভাগই ভাড়াকৃত ও লিমিটেডকৃত নাম বদলানো লাইসেন্স। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ শুল্ক ফাঁকি রোধে কিছু নিয়ম করলে ব্যপাকহারে শুল্ক ফাঁকি কমবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন-(১)আমদানিকারকের প্রতিনিধি ব্যতিত কোন পণ্য চালান রিসিভ করতে পারবে না।(২) বিল অফ এন্ট্রিতে মালিকের স্বাক্ষর যাচাই।(৩) লাইসেন্সের প্রতিনিধি ব্যতিত অন্য কোন প্রতিনিধি পরিক্ষণ বা শুল্কায়ণ করতে পারবে না।(৪) বৈধ কার্ড ছাড়া বন্দর ও কাস্টমসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা।(৫) বন্দরের গেট ডিভিশনে কাস্টমসের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেওয়া। (৬) আমদানি পণ্য চালান উঠা নামায় কর্মকর্তা শতভাগ নিয়োজিত রাখা। (৭) বন্দরে কাস্টমসের নিজস্ব সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও নজরদারী রাখা।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, বেনাপোল বন্দরের শেডে শেডে দুর্নীতির আঁখড়ায় পরিনত হয়েছে। তবে এর সাথে কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাও এদের সাথে জড়িত। কাস্টমসের রাজস্ব ধ্বসের অন্যতম কারন বন্দরের শেডে একই আমদানিকারকের একাধিক পণ্য চালান নামানো আর ইনচার্জদের কারসাজি অন্যতম কারন। বন্দরের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে দোষী হওয়া বরখাস্ত কর্মকর্তা, ওয়্যারহাউজ/ইয়ার্ড সুপারিনটেনডেন্ট আলমগীর মোল্লা জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বরখাস্ত। তাছাড়া ৬ কোটি টাকার পণ্য লোপাটের সাথে জড়িত সহকারী পরিচালক কাজী রতন ও শেড ইনচার্জ শাহ জালালকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে এমন গুরুতর ও শুল্ক ফাঁকির সাথে বন্দরের শেড ইনচার্জ,পরিচালকরা জড়িতদেরকে বরখাস্ত করলেও কিছুদিন পর আবারও কর্মে যোগদান করছেন। একই সাথে কয়েকজন কর্মকর্তাকে বদলী ও বরখাস্ত করা হলেও কাস্টমসের অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন দৃশ্যমান শাস্তির আওতায় আনা হয়নি বলে জানান। তবে বন্দরের পণ্য চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকি রোধে দ্রুত বন্দরের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইন পরিবর্তন করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, বেনাপোল বন্দরের গেট ডিভিশনে কস্টমসের নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থা না থাকায় শুল্ক ফাঁকিবাজরা শেড থেকে কখন কি পণ্য বের করে নিয়ে যাচ্ছে তা অদৃশ্য থাকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে। নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমস কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আমদানি পণ্য নামানো বা উঠানো, কিন্তু বেনাপোল বন্দরে সেটা হয়না। কস্টামসের আনস্টাফিং টিম হাউজে বসে ফাইল স্বাক্ষর করে থাকে আর এক্সিট শাখার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদেরও একই অবস্থা। এভাবে চলতে থাকলে কোন ভাবেই শুল্ক ফাঁকি থামানো যাবেনা বলে মতামত জানান ব্যবসায়ীরা।
এমএসএম / এমএসএম
মনোহরগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ - বৃদ্ধ কে আটক
জুলাই আন্দোলন ১৭ বছরের সংগ্রামের ফসল: ত্রাণমন্ত্রী
নেত্রকোণায় সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু
বাকেরগঞ্জ প্রশাসন ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
ধুনটে শহীদ আব্দুল মালেক ট্রাস্ট কমপ্লেক্সের ছাদ ঢালাই শুরু
চট্টগ্রামে বন নিধনের মহোৎসব, গার্ড সংকটের অযুহাত
মনপুরায় ইউপি সদস্যের ওপর অতর্কিত হামলা, ভাঙল হাত-পা
সরকারের উন্নয়ন প্রচারে ডিসির অবহেলা তথ্য অফিসের মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের ক্ষোভ
মনোহরগঞ্জে ইসলামপুর-গজরাপাড়া রাস্তার কাজে ধীরগতি দুর্ভোগে ৪ হাজার মানুষ
নরসিংদীতে যুবককে আটকে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, এসআরবির অভিযানে গ্রেফতার ২
কাস্টমসের মামলায় সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী সোহাগ কারাগারে
কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়াম