চট্টগ্রামে বন নিধনের মহোৎসব, গার্ড সংকটের অযুহাত
চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও উপকূল বন বিভাগের কতিপয় দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ও অনৈতিক সুবিধা আদায়ের ফলে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে বনদস্যুরা। একদিকে কাঠ পাচার অপরদিকে বনের জমি দখল, দুটোই চলছে সমানতালে। যেন বন নিধনের মিশনে নেমেছে কর্মকর্তা আর পাচারকারী সিন্ডিকেট। আর এসব কাজে নিয়মিত চাঁদাবাজি করে বৈধতা দেওয়া হলেও গার্ড সংকটকে অযুহাত হিসেবে ব্যবহার করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, চট্টগ্রামের উত্তর, দক্ষিণ ও উপকূল বিভাগের আওতায় ৪ লাখ একরের অধিক বনভূমি রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনের জমি রয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৫৬ হাজার একর। এসব বনভূমি থেকে প্রতিনিয়ত গাছ কেটে পাচার করছে চোরাকারবারীরা। আর এতে সহযোগীতা করছেন এক শ্রেণির লোভী কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ। বিভিন্ন চেকপোস্টে নামমাত্র তল্লাশি বা মাসোহারার বিনিময়ে এই অবৈধ কাঠবাহী গাড়িগুলোকে নির্বিঘ্নে পার হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। অপর একটি সিন্ডিকেট বনের জমি দখল করে গড়ে তুলেছে বাসা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।
সূত্র জানায়, বিশাল বনভূমি পাহারায় রয়েছেন মাত্র ৩২০ জন গার্ড। একজন গার্ডকে গড়ে ১ হাজার ৪০০ একর বনভূমি পাহারা দিতে হয়। একদিকে জনবল সংকট অন্যদিকে পর্যাপ্ত লজিস্টিক সাপোর্ট না থাকায় বনভূমির নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাঠ পাচারে জড়িতরা অনেক সময় ভারী অস্ত্রে সজ্জিত থাকে। তাছাড়া গহিন বনে রাতে পাচারকারীদের প্রতিরোধ করার মতো সামর্থ্য প্রহরীদের না থাকায় রক্ষা করা যাচ্ছে না মূল্যবান গাছ। দখল হয়ে যাচ্ছে বনভূমি।
বনপ্রহরীরা বলছেন, দীর্ঘদিন এ পদে নিয়োগ নেই। তাছাড়া পদোন্নতি না থাকায় ফরেস্ট গার্ড পদে যারা চাকরি করছেন তারাও কর্মবিমুখ হয়ে পড়ছেন। অনেকের চাকরির বয়সও শেষ পর্যায়ে। আবার অনেকে অসুস্থ থাকায় গহিন এলাকায় ডিউটি করতে পারছেন না। গত কয়েক বছরে পাচারকারী ও দুর্বৃত্তদের হামলার শিকারের পাশাপাশি হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনভূমির অর্ধেকই দুর্গম। গহিন বন থেকে দল বেঁধে গাছ কেটে নিয়ে গেলে দুই-তিনজনের পক্ষে রক্ষা করা সম্ভব হয় না। দুর্বৃত্তদের হাতে ভারী অস্ত্রও থাকে। এ কারণে রাতেই বনের কাঠ পাচার হচ্ছে বেশি। ২০১৭ সালে অর্থ মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঝুঁকিভাতা সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগের কর্মকর্তাদের দেয়া হলেও চট্টগ্রামকে এর আওতায় আনেনি।
চট্টগ্রাম ফরেস্ট গার্ড কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো: জসিম ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘চট্টগ্রামে পাহাড়ি এলাকায় বিভিন্ন ধরনের গাছ রয়েছে। চট্টগ্রামের বড় বড় রেঞ্জ ও বন বিটে গড়ে চার-পাঁচজন পাহারা দেন। এত বড় বনভূমি রক্ষা সীমিত ফরেস্ট গার্ড দিয়ে সম্ভব নয়। তাছাড়া বনের নিরাপত্তায় লজিস্টিক সাপোর্টেরও সংকট রয়েছে। এসব কারণে বনের কাঠ পাচার কিংবা বনভূমি রক্ষা করা দুসাধ্য হয়ে পড়ছে। ’
বন বিভাগের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে বন বিভাগ রয়েছে ৪১টি। এ বিভাগে ২৫৫টি বিট ও ৪৬০টি রেঞ্জ রয়েছে। বন বিভাগের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো হলো চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবন), ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিলেট, নোয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, খুলনা, সাতক্ষীরা (সুন্দরবন) ও বাগেরহাট। রোহিঙ্গাদের বসতির কারণে গত এক দশকে সবচেয়ে বেশি বনভূমি ধ্বংস হয়েছে কক্সবাজার অঞ্চলে।
এদিকে বাংলাদেশ ফরেস্ট গার্ড কল্যাণ সমিতির এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে ২ হাজার ৪৫১টি ফরেস্ট গার্ড পোস্টের মধ্যে কর্মরত প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন। এর মধ্যে অনেকেই চাকরির শেষ প্রান্তে রয়েছেন। মূলত বনের এলাকা অনুযায়ী জনবল খুবই কম। আমাদের প্রতিটি বিটে গড়ে তিন-চারজন দায়িত্ব পালন করেন। যারা বনের জায়গা দখল করে কিংবা কাঠ পাচারের সঙ্গে জড়িত তাদের হাতে অনেক গার্ড বা ফরেস্টারের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফেনীতে একজনের হাত কেটে ফেলেছিল দুর্বৃত্তরা। নানা সংকটের মধ্যে প্রহরীদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তবে বন নিধনের জন্য শুধু এসব কারণই যথেষ্ঠ নয়, আমাদের গার্ডরা বন রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করছে কিন্তু কতিপয় অসাধু কর্মকতার মাসোহারার ফলে বন আজ ধ্বংসের ধারপ্রান্তে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বনভূমি রক্ষা করতে হলে বন বিভাগকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। সুন্দরবনে বাঘে আক্রমণ করতে পারে এজন্য ঝুঁকি ভাতা পাচ্ছেন দায়িত্বরত ফরেস্ট গার্ডরা। বাংলাদেশে অন্য বনে কোনো ঝুঁকি নেই—এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। বন হলো প্রাকৃতিক সম্পদ। এটা রক্ষা করতে হবে। লোকবল নিয়োগ ও বিভিন্ন ঝুঁকি ভাতার পাশাপাশি মাসোহারা আদায় বন্ধ করতে হবে।’
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৪সালের ৩১ মার্চ রাতে পাহাড়ের মাটি কেটে পাচারের সময় বাধা দেয়ায় কক্সবাজারের উখিয়ায় বন বিট কর্মকর্তা সাজ্জাদুজ্জামান সজলকে ডাম্পার চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। একই জেলায় ২০২০ সালের ৬ আগস্ট বন বিভাগের ভূমি উদ্ধারে দুর্বৃত্তদের হামলায় মারা যান মহেশখালী রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইউসুফ উদ্দিন। ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সংরক্ষিত বনভূমির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শেষে ফেরার সময় হামলায় আহত হন বাঁশখালী ইকোপার্কের জুনিয়র ওয়াইল্ড লাইফ অফিসার বিসু কুমার দাস ও অফিস সহকারী মোহাম্মদ আশিক। এছাড়া বিভিন্ন সময় বনপ্রহরীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
বন নিধন রোধ ও গার্ড নিয়োগের বিষয়ে জানতে বন বিভাগ চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দো ও উপ বন সংরক্ষক এম এ হাসানের মোবাইলে একাধিকবার কল দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এমএসএম / এমএসএম
মনোহরগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ - বৃদ্ধ কে আটক
জুলাই আন্দোলন ১৭ বছরের সংগ্রামের ফসল: ত্রাণমন্ত্রী
নেত্রকোণায় সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু
বাকেরগঞ্জ প্রশাসন ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
ধুনটে শহীদ আব্দুল মালেক ট্রাস্ট কমপ্লেক্সের ছাদ ঢালাই শুরু
চট্টগ্রামে বন নিধনের মহোৎসব, গার্ড সংকটের অযুহাত
মনপুরায় ইউপি সদস্যের ওপর অতর্কিত হামলা, ভাঙল হাত-পা
সরকারের উন্নয়ন প্রচারে ডিসির অবহেলা তথ্য অফিসের মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের ক্ষোভ
মনোহরগঞ্জে ইসলামপুর-গজরাপাড়া রাস্তার কাজে ধীরগতি দুর্ভোগে ৪ হাজার মানুষ
নরসিংদীতে যুবককে আটকে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, এসআরবির অভিযানে গ্রেফতার ২
কাস্টমসের মামলায় সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী সোহাগ কারাগারে
কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়াম