ঢাকা সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

গহিরার ইলিশে ভরসা অনলাইন ক্রেতাদের, বাড়ছে ডিমের কদর


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৪-১০-২০২৬ দুপুর ১১:২১

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বঙ্গোপসাগরের গহিরা ও রায়পুর উপকূলের ইলিশ এখন আর শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে এখানকার রূপালি ইলিশ। মাছের পাশাপাশি অনলাইনে পাল্লা দিয়ে বিক্রি হচ্ছে ইলিশের ডিমও। অনলাইনে অর্ডার নিয়ে কুরিয়ার ও পরিবহনের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে এসব পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন উপকূলের তরুণ উদ্যোক্তারা।

উদ্যোক্তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে ইলিশের চাহিদা থাকলেও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অনলাইনে প্রচুর অর্ডার আসছে। বিশেষ করে ইলিশের ডিমের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ এখন বেশ চোখে পড়ার মতো। গহিরা এলাকায় বর্তমানে পাইকারিতে প্রতি কেজি ইলিশের ডিম ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং খুচরায় ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা জি এম মঈন উদ্দীন। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি অনলাইনে ইলিশ বিক্রি করছেন। মঈন জানান, চলতি মৌসুমে তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় এক টনের বেশি ইলিশ বিক্রি করেছেন। এর পাশাপাশি প্রায় ২০০ কেজি ইলিশের ডিমও বিক্রি করেছেন তিনি।

মঈন উদ্দীন বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করে আমরা আনোয়ারার গহিরা থেকে ইলিশ বিক্রি করছি। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ইলিশ কেনার জন্য যোগাযোগ করেন। এখন ইলিশের পাশাপাশি ইলিশের ডিমেরও ভালো চাহিদা রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ জন গ্রাহকের কাছে তিনি ইলিশ মাছ ও ইলিশের ডিম বিক্রি করেছেন। ইলিশের তুলনায় এর ডিমও বেশ ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে।

তবে অনলাইনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইলিশ পাঠাতে গিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয় বলে জানান এই উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, আনোয়ারা এলাকায় ভালো মানের কুরিয়ার সার্ভিস না থাকায় মাছ পাঠাতে সময় ও খরচ– দুটোই বাড়ে। এ ছাড়া গহিরা এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় ক্রেতারা সরাসরি এসে মাছ সংগ্রহ করতে গেলেও ভোগান্তিতে পড়েন।

অনলাইনে মাছ কেনা নিয়ে কথা হয় চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার বাসিন্দা ইশতিয়াকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। ব্যস্ততার কারণে উপকূলে গিয়ে সরাসরি মাছ বা ইলিশের ডিম কেনা সম্ভব হয় না। তবে উপকূলের মাছের প্রতি আমার আগ্রহ রয়েছে। তাই একটি অনলাইন পেজের মাধ্যমে ৫ কেজি মাঝারি আকারের ইলিশ ও ১ কেজি ইলিশের ডিম কিনেছি। রাতে অর্ডার করার পরদিন দুপুরেই পণ্য হাতে পেয়েছি।’

আনোয়ারার গহিরা চিবাতলী ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ছোট আকারের চারটি ইলিশে এক কেজি, বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০০ টাকায়। মাঝারি আকারের দুটি ইলিশে এক কেজির দাম ১ হাজার ৪০০ টাকা। ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে। আর দেড় কেজি ওজনের একটি বড় ইলিশের দাম হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত।

ঘাটের গদির কারবারি ইমতিয়াজ শাকিল বলেন, ‘মানুষের খরচ বেশি। জেলেদের কাছ থেকে মাছ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এর প্রভাব বাজারেও পড়ছে।’

আনোয়ারা উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ৭ হাজার ৫০৩ জন। এর বাইরে প্রায় ৫ হাজার অনিবন্ধিত জেলেও মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত। উপজেলার মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারের সংখ্যা ৯৭৫। এসব নৌযানের বড় অংশই জ্বালানিনির্ভর। জেলেদের দাবি, একটি ছোট বোটেও প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লিটার জ্বালানি লাগে। সাগরে একাধিকবার যাওয়া-আসা করতে হলে এই ব্যয় আরও বেড়ে যায়। চলতি বছর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব মাছ আহরণেও পড়েছে।

রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বোট মালিক দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘আমার দুটি বোট আছে। অন্যান্য বছরের মতো এবার ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে জ্বালানির দামও বেশি। প্রতিটি বোটে ৪০ লিটার করে জ্বালানি প্রয়োজন হয়। সাগর উত্তাল থাকায় আবহাওয়াও ইলিশ আহরণের উপযোগী নয়। ফলে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রাখতে মাছের দামেও এর প্রভাব পড়ছে।’

জেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামে ইলিশ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৭ হাজার মেট্রিক টন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রকৃত আহরণে ওঠানামা রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রামে ইলিশ আহরণ হয়েছে ১৫ হাজার ২৫৬ মেট্রিক টন, যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার ৮৮৪ মেট্রিক টন কম।

সার্বিক বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা জ্যেষ্ঠ (সিনিয়র) মৎস্য কর্মকর্তা রাশিদুল হক বলেন, গহিরা ও রায়পুর উপকূলে ইলিশ আহরণ স্থানীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সরাসরি ক্রেতার কাছে ইলিশ পৌঁছে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এতে উপকূলের জেলে ও উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন বাজার তৈরি হচ্ছে। তবে মাছ পরিবহনের ক্ষেত্রে দ্রুত ও মানসম্মত কোল্ডচেইন এবং পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ইলিশ আহরণের খরচও বেড়েছে। ফলে আহরণ ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতির প্রভাব বাজারদামে পড়তে পারে।

aliul / aliul

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোই পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

বিমা খাতে আস্থা ফেরানোর উদ্যোগ

গহিরার ইলিশে ভরসা অনলাইন ক্রেতাদের, বাড়ছে ডিমের কদর

পাটের সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজনের পণ্য তৈরিতে জোর দিচ্ছে সরকার: পাটমন্ত্রী

সুদের চাপ কমাতে ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা: গভর্নর

তেল-চিনি ও ডিমে নাজেহাল ক্রেতা

শিমের কেজি ২০০, ব্রয়লার ১৮০ টাকা

ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের সিইও আহসানুর রহমান

সেপ্টেম্বরে এলো ৩৪ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয়

পুঁজিবাজারের কাঠামো বদলে যাওয়ায় আইসিবিকেও নতুনভাবে ভাবতে হবে

এসএমইকে বড় হতে সহায়তা করলেই বাড়বে উৎপাদনশীলতা : নাজনীন আহমেদ

ডিজিটাল অর্থনীতি গড়তে বাংলা কিউআর কোডের লেনদেনে কোনো চার্জ লাগবে না

সিলেটে ভাইব্রেন্টের ২২তম সেলস সেন্টার উদ্বোধন