ঢাকা সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ সিসিএফ’র বিরুদ্ধে, তদন্তে দুদক


এসএম পিন্টু photo এসএম পিন্টু
প্রকাশিত: ৫-১০-২০২৬ দুপুর ৩:২৯

পরিবেশ বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ে অধীনে দেড় হাজার কোটি টাকার ‘সুফল প্রকল্প’র (টেকসই বন ও জীবিকা) বনায়ন, কেনাকাটা ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তাসহ (ডিএফও) গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের বদলীতে ব্যাপক  ঘুষ বাণিজ্যসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ ওঠেছে প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী ও তার অনুসারি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এমনকি প্রকল্পের ১০ শতাংশ কমিশন আদায়ে ব্যর্থ হয়ে প্রকল্প পরিচালককে (পিডি) সরানো হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে সম্প্রতি তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

জানা যায়, কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা বিট এলাকায় কাগজে-কলমে গাছ লাগানো দেখানো হলেও বাস্তবে বিশাল ব্যবধান পাওয়া গেছে। দুদকের নথিপত্র এবং স্যাটেলাইট ইমেজ তথ্য বলছে রামুর জোয়ারিয়ানালা বিটসহ সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকায় প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে বনায়নের কোনো অস্তিত্ব নেই। বনায়ন সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে ভুয়া নথির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। একইভাবে বাঁশখালী এলাকার কালিপুরে ২০ হেক্টর জমিতে বনায়ন করার কথা থাকলেও করেছে মাত্র ১০ থেকে ১২ হেক্টর। তাছাড়া, হাটহাজারীতে বনায়নের নামে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অবহেলা ও তদারকির অভাবে মীরসরাই রেঞ্জে এই প্রকল্পের আওতাধীন ৩ লাখ বনের চারা গায়েব ও নষ্ট হয়ে গেছে। এই ঘটনা নিয়ে পরপর দুই দফা তদন্ত কমিটি গঠন করা  হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। 

মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের সুবিধাজনক পোস্টিং এবং বদলিকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। সুফল প্রকল্পের নীতি লঙ্ঘন করে কর্মকর্তাদের থেকে মাসোহারা ও ঘুষের বিনিময়ে পদায়নের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠন করেছিলেন সিসিএফ।  এই সন্ডিকেটের অবাধ্য হওয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সুফল প্রকল্পের জনবলসহ একযোগে ৭৭ জন কর্মচারীকে মাত্র একদিনে নিয়মবহির্ভূতভাবে বদলি করার অভিযোগ রয়েছে, যার পেছনে বিপুল পরিমাণ ঘুষের লেনদেন জড়িত ছিল বলে দুদক তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের কয়েকটি অঞ্চলে কোনো ধরনের বাগান না করেই শতভাগ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে বনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। প্রকল্পের আওতায় ‘সমৃদ্ধকরণ বাগান’ তৈরির নামে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের নথিতে বড় ধরনের জালিয়াতি এবং অ-কাঠ বনজ পণ্য বা এনটিএফপিভি ত্তিক বাগান তৈরির নামে লুটপাট করা হয়েছে আরও ১৩ কোটি টাকার অধিক।  নানা অনিয়মের ফলে সামগ্রিকভাবে ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বনায়নের লক্ষ্যমাত্রায় বড় ধরনের জালিয়াতি করা হয়েছে। যেমন—নির্ধারিত ৫১০ হেক্টর বনায়নের জায়গায় বাস্তবে করা হয়েছে মাত্র ১৬০ হেক্টর। বিশ্বব্যাংকের স্যাটেলাইট চেকিং ও অডিটে ধরা পড়ার পর সুফল প্রকল্পের মোট প্রদর্শিত বনায়ন এলাকা থেকে ১১,৫২৯ হেক্টর জমি কর্তন করতে বাধ্য হয়েছে বিশ্বব্যাংক, কারণ সেগুলোতে বনায়নের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করা হয়েছিল। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের মোট বাজেট থেকে ১০ শতাংশ ঘুষ দাবি করেন তৎকালীন সিসিএফ। এর সাথে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের গুটিকয়েক এমপি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও জড়িত ছিলেন। কমিশন না দেওয়ায় প্রকল্প পরিচালক রাকিবুল হাসান মুকুলকে সরিয়ে গোবিন্দ রায়কে দায়িত্ব দিয়ে ইচ্ছেমতো লুটপাট করা হয়েছে। এবিষয়ে বন বিভাগের উপপ্রধান বন সংরক্ষক ও সুফল প্রকল্পের পিডি গোবিন্দ রায় এর মোবাইলে একাধিকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

শুধু প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করেই ক্ষান্ত হননি বনের এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, সারাদেশে লোভনীয় পদের তালিকা করে শুরু করেন পোস্টিং বাণিজ্য। যেসব এলাকায় বনভূমি বেশি বা প্রকল্পের বরাদ্দ বেশি ছিল, সেসব এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বসার জন্য আর্থিক লেনদেনের একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, রেঞ্জ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন চেকস্টেশনে পদায়নের জন্য মোটা অংকের অর্থ লেনদেন করতেন একটি চক্র। দেশের প্রায় ৪৫ জন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, ৪ শতাধিক রেঞ্জ ও বিভিন্ন চেকস্টেশন থেকেও কোটি কোটি টাকা মাসোহারা আদায় করতেন। আর এসব অপকর্ম নির্বিঘ্নে চালাতে মনিরুল ইসলাম, মো. আব্দুল আওয়াল সরকার, মিহির কুমার দো, বিপুল কৃষ্ণ দাস, মো. মাইন উদ্দিন, ড. গোবিন্দ রায় ও জাহেদুল কবিরের সমন্বয়ে সক্রিয় ছিল একটি চক্র। এই চক্রটি পতিত আওয়ামী লীগের আমলে সরকারের উপর মহলের সাথে ম্যানেজ করে চালাতেন দুর্নীতির মহযজ্ঞ। নাম প্রকাশ না করাপর শর্তে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি তথ্য নিশ্চিত করেছেন এমনকি দুদকের অভিযানসংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনেও বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য ওঠে এসেছে। 

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ শাখার দায়িতে থাকা উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বলেন, গত বছর বন বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে বন অধিদপ্তরে একটি অভিযান পরিচালনা করে দুদক।  পরে বিভিন্ন তথ্য ও রেকর্ডপত্র সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে, তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবিষয়ে জানতে বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মো. আমির হোসাইন চৌধুরীর মোবাইলে একাধিকবার কল দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এমএসএম / এমএসএম

বছরের পর বছর অচল চালকলকে সচল দিখিয়ে গুদামে নিম্নমানের চাল সরবরাহের অভিযোগ

মান্দায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নেত্রকোণায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রাজশাহীতে চাঁদা না পেয়ে যুবককে মারধর, বাড়িতে হামলা-লুট

বেকুটিয়া সেতুর নিচে পাইপ চুরির অভিযোগে ইউপি বিএনপি সভাপতিসহ আটক ৯

মাদারগঞ্জে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা

উলিপুরে মাদরাসায় গোপনে নিয়োগ, অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপার অভিযোগ

উল্লাপাড়ায় প্রকৌশলীকে এমপির আলটিমেটাম, এক সপ্তাহে ড্রেন শেষ করার নির্দেশ

বাঘায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উদযাপিত

সুবর্ণচরে আশার আলো সমাজ কল্যাণের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে শিক্ষকের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ সিসিএফ’র বিরুদ্ধে, তদন্তে দুদক

​কাউখালীতে গৃহবধূকে গণধর্ষণ ও হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার