চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে নির্বিচারে মাটি লুট, নিরাপত্তায় শঙ্কা!
নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (চট্টগ্রাম বিমানবন্দর) থেকে নির্বিচারে মাটি লুট করে বাইরে বিক্রি করার অভিযোগ ওঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট কতিপয় লোভী কর্মকতার যোগসাজসে মাছ চাষের জন্য পুকুর খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে নির্বিঘ্নে এই মাটি পাচার কাজ চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশ্বস্ত একাধিক সূত্রের তথ্যে সরেজমিনে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া গেছে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সরকারের একটি প্রথম সারির গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনা (কেপিআইভুক্ত) হওয়ায় এর নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে হাই সিকিউরিটির মাধ্যমে সরকারের কঠোর নিরয়ন্ত্রণ থাকার কথা। কিন্তু এই নীতির তোয়াক্কা না করে বিমানবন্দরের ভেতরে রানওয়ে ও রাস্তার পাশে বিশালাকার পুকুরের মতো গর্ত করে মাটি পাচার করছে চক্রটি। গত ৬ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সরেজমিনে গিয়ে মূল সড়কে দাড়িয়ে দেখা গেছে রানওয়েতে একটি বিমান আকাশের দিকে উড়ার চেষ্টা করছে, তার কাছেই এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটছে। আরও একটু এগিয়ে গিয়ে কয়েকটি বড় পুকুরের মতো গর্ত দেখা গেছে। আরো একটু এগিয়ে মূল গেইট দিয়ে চেকপোস্ট অতিক্রম করে প্রবেশের পর রাস্তার পাশে ডানদিকে কলাবাগান ধ্বংস করে বিশালাকার আয়তনের পুকুর খনন করা হয়েছে। একপাশে একটি এস্কেভেটর অলস বসে আছে।এর পাশে আরও কয়েকটি বড় পুকুর রয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে এনাম নামের একজনসহ বিমানবন্দরের কয়েকজন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী মিলে জায়গাটি মাছ চাষের জন্য ইজারা নিয়েছে। তারাই পুকুর তৈরি করার জন্য মাটি কাটছে এবং বাইরে বিক্রি করছে বলে জানিয়েছেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান বাড়ি ও ১৪ নং এলাকায় এসব মাটি বিক্রি করেছেন বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, রাজস্বের টাকা খরচ করে একবার এসব মাটি কিনে জায়গা ভরাট করেছে সরকার, ভবিষ্যত প্রয়োজন হলে আবরও কিনতে হবে আর সেই কেনা মাটি অবৈধভাবে বিক্রি করে নিজেদের পকেট ভারী করছে কতিপয় লোভী ব্যক্তি।
আইন অনুযায়ী কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে মাটি বিক্রির ক্ষেত্রে কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা প্রোটোকল রয়েছে। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, কোনো কেপিআই প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তর বা তার চারপাশের নির্দিষ্ট সীমানা (১ কমপক্ষে কিলোমিটর) থেকে বাণিজ্যিকভাবে মাটি কাটা এবং বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর সংশোধিত, ২০২৩ এ বলা হয়েছে, ”কেপিআইভুক্ত স্থাপনা, সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, রেললাইন বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনার সর্বনিম্ন ১ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ধরনের মাটি বা বালু উত্তোলন ও বিপণন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে যদি কোনো রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনে (যেমন: ড্রেনেজ সিস্টেম, পুকুর পুনর্খনন বা ভবনের ভিত্তি তৈরি) মাটি কাটা হলেও সেই মাটি উন্মুক্তভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি করা যায় না। সরকারের বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী, সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উত্তোলিত মাটি জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মাধ্যমে এবং নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া মেনে নিলাম বা বিলি-বন্দোবস্ত করার বাধ্যবাদকতা রয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী কেপিআইভূক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তা জোনিং বা বাফার জোন থাকে। কেপিআই প্রাঙ্গণে অননুমোদিত বহিরাগত ব্যক্তি বা ভারী খনন যন্ত্রের (এস্কেভেটর/ড্রেজার) প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত নিরাপত্তার ক্ষতি হতে পারে এমন যেকোনো ধরণের মাটি অপসারণ বা খনন কাজ সম্পূর্ণ অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। আর এই আইন অমান্য করে অবৈধভাবে মাটি কাটলে বা বিক্রি করলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী অপরাধীদের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা এবং মাটি কাটায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি (এস্কেভেটর, ড্রেজার, ট্রাক বা অন্যান্য যানবাহন) বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে। এছাড়াও, ফসলি বা কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি কাটার ক্ষেত্রে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এবং ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম শ্রেণির স্পর্শকাতর ও কেপিআইভুক্ত স্থাপনা। যার বিশেষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করার বাধ্যবাদকতা রয়েছে। এই সংরক্ষিত ও সংবেদনশীল এলাকায় অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ধারণ পর্যন্ত নিষিদ্ধ এবং কঠোর নিরাপত্তা বলয় বজায় থাকার কথা হলেও দিনে দুপুরে মাটি কেটে পাচারের বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে গত রোববার (৪ অক্টোবর) শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নূর হোসেন বলেন, মাটি কাটার বিষয়টি আমি অবগত নয়, খোঁজ নিয়ে দেখছি। পরে আপডেট বক্তব্য জানতে (৭ অক্টোবর) আরও কয়েকবার মোবাইলে কল দিলেও আর রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে মাটি কাটার ছবি ও ভিডিওি পাঠিয়েও কোন জবাব পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকা এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সহ অধিনায়ক (এসপি) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, মাটি কাটার বিষয় দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়। কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠানে স্কেভেটর প্রবেশ নিষেধ আছে, সেখানে কিভাবে মাটি কাটছে? নিরাপত্তার কোন ঘাটতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ভালো জানে, ভেতরে মেরামতের কাজ থাকলে যদি স্কেভেটরের প্রয়োজন হয় তাহলেতো আমরা বাধা দিতে পারি না।
এমএসএম / এমএসএম
আদমদীঘিতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৫ জনকে জেল-জরিমানা
কীর্তনখোলা নদীতে অভিযান, ২ ড্রেজার ও ৩ বাল্কহেড জব্দ
বিএম কলেজের মেধাবী ছাত্রী ঝুমুরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ
শালিখায় ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক
শালিখায় ব্রয়লার খামারি ও বিক্রেতাদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ
আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় ২২ বছর পর কারামুক্ত মোহাম্মদ আলী
চাঁদপুরের আলোচিত চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন
নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
চকরাজাপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে বাঘা ইউএনও
চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে নির্বিচারে মাটি লুট, নিরাপত্তায় শঙ্কা!
বাঘায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে পাকুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপি
ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে শিক্ষাথী বিদ্যালয় যাতায়াত -দুশ্চিন্তায় অভিভাবক