ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

ইয়াবার তথ্য ফাঁস সন্দেহে হত্যা, অটোরিকশা বিক্রি করে টাকা ভাগাভাগি


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৮-১০-২০২৬ দুপুর ১:৫২

দীর্ঘ আড়াই বছর পর ঢাকার নবাবগঞ্জে অটোরিকশাচালক রাহুল (১৯) হত্যা ও অটোরিকশা ডাকাতির রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দু’জন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই বলছে, ইয়াবা বিক্রির তথ্য বাইরে ফাঁস করে দেওয়ার সন্দেহ থেকেই রাহুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরে তাকে অটোরিকশাসহ নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে প্রথমে ইয়াবা সেবন করানো হয়। এরপর লোহার অ্যাংগেল দিয়ে তার মাথায় আঘাত, ব্লেড দিয়ে কান ও মুখে জখম এবং অটোরিকশার ব্যাটারি দিয়ে মুখে আঘাতের পর শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। পরে অটোরিকশাটি বিক্রি করে টাকা ভাগাভাগি করে নেয় হত্যায় জড়িতরা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উত্তরা পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম, এন, মোর্শেদ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নবাবগঞ্জের পাতিলঝাপ এলাকার মো. সমেজ (৩২), একই এলাকার মো. সবুজ মিয়া (২৮), সিংহড়া এলাকার খবির ওরফে গোবিন্দ (২৮), মো. হাবিব ওরফে সজল (৩৬) এবং লালন মোল্লা (৪৩)।

পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম, এন, মোর্শেদ বলেন, নিহত রাহুল তার ভাড়ায় চালিত অটোরিকশাটি নবাবগঞ্জের চক সিংহড়া এলাকার ওমর ফারুকের একটি ওয়ার্কশপে রাখতেন। রাতে সেখানেই ঘুমাতেন। ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে রাতের খাবার খেয়ে তিনি ওয়ার্কশপে ঘুমানোর জন্য যান। পরদিন সকালে বাড়িতে না ফেরায় তার বাবা ওয়ার্কশপে গিয়ে রাহুলের খোঁজ নিলে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় তার অটোরিকশাটিও সেখানে ছিল না এবং মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

এরপর রাহুল ও তার অটোরিকশার সন্ধান করতে থাকেন স্বজনরা। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টার দিকে ওয়ার্কশপের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে লিয়াকত নামে এক ব্যক্তির ভুট্টা ও ঘাসের জমির আইলের ঝোপ থেকে রাহুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় রাহুলের বাবা মো. আব্দুর রহমান বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ২০২৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি করা মামলায় দণ্ডবিধির ৩৯৪, ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

প্রথমে মামলাটি থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে এর তদন্তভার পিবিআই ঢাকা জেলার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক মো. আব্দুর রহিমকে উক্ত মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়।

পুলিশ সুপার মোর্শেদ বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে মো. সমেজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় মো. সবুজ মিয়াকে।

পিবিআইয়ের দাবি, সবুজ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খবির ওরফে গোবিন্দ, মো. হাবিব ওরফে সজল এবং মো. লালন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে লালন মোল্লাও আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্ত ও আসামিদের জবানবন্দি পর্যালোচনার বরাতে পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার জানান, রাহুল ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পূর্বপরিচিত ছিলেন। লালন মোল্লা ইয়াবা বিক্রি করতেন। রাহুলসহ অন্যরা তার কাছ থেকে ইয়াবা কিনতেন এবং একসঙ্গে সেবন করতেন। লালন জানতে পারেন, তার ইয়াবা বিক্রির তথ্য রাহুল বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ করে দিতে পারেন। এ তথ্য জানার পর রাহুলকে হত্যা করে তার অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে লালনের নির্দেশে সবুজ রাহুলকে অটোরিকশাসহ একটি খোলা মাঠে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে লালন, সবুজ, সজল, সমেজ ও গোবিন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পিবিআই বলছে, সেখানে প্রথমে রাহুলকে ইয়াবা সেবন করানো হয়। একপর্যায়ে লালন লোহার অ্যাংগেল দিয়ে রাহুলের মাথার পেছনে আঘাত করেন। এতে তার মাথা ফেটে রক্ত বের হয়। পরে ব্লেড দিয়ে তার কান ও মুখে আঘাত করা হয়। অটোরিকশার ব্যাটারি দিয়ে মুখে আঘাতের পর শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

হত্যার পর রাহুলের মরদেহ অটোরিকশায় তুলে সজলের গরুর খামারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দু’দিন মরদেহ রাখা হয়। পরে ৯ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১টার পর মরদেহটি ওমর ফারুকের ওয়ার্কশপের পাশে ফেলে রাখা হয়। পরদিন সকালে সেখান থেকেই মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

অন্যদিকে, রাহুলের অটোরিকশাটি বিক্রি করে দেয় আসামিরা। অটোরিকশা বিক্রির টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ সুপার মোর্শেদ বলেন, “চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার মামলাটি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তদন্তভার পাওয়ার পর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। নিরলস তদন্তের মাধ্যমে দীর্ঘ আড়াই বছরেরও বেশি সময়ের পুরোনো মামলাটির ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। মামলাটির তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।

aliul / aliul

ডিসেম্বরের আগে গঙ্গা চুক্তি, মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজ

দেশে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে ২.১ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা

কেএনএফের পোশাক তৈরিতে অর্থায়ন, নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ইয়াবার তথ্য ফাঁস সন্দেহে হত্যা, অটোরিকশা বিক্রি করে টাকা ভাগাভাগি

শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ আজ হোক কাল হোক হবেই

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

পানি সহযোগিতা নিয়ে ক‌মি‌টি : ভারতীয় প্রতিনিধিদের নাম চেয়েছে ঢাকা

দেশজুড়ে বজ্রসহ বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণ হতে পারে

ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৫২৮, মামলা ৫৩

চট্টগ্রামে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু

নভেম্বর ঢাকা সফরে আসছেন জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের উপদেষ্টা হলেন সুফিউর রহমান

দেশজুড়ে বাজারে অভিযান, ১১৬ প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১১ লাখ টাকা জরিমানা