সুনামগঞ্জে ৪৪৪ পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, উৎসবের অপেক্ষায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এই পূজাকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সারাদেশের মতো সীমান্তবর্তী জেলা সুনামগঞ্জেও দুর্গাপূজাকে ঘিরে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। জেলার ১২টি উপজেলায় এবার ৪৪৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।
দুর্গাপূজা সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়েছে। কোথাও প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ চলছে, কোথাও মাটির প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে। আবার কোনো কোনো মণ্ডপে প্রতিমায় রং ও সাজসজ্জার কাজও শুরু হয়েছে। শিল্পীদের নিপুণ হাতে ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে দেবী দুর্গা, সঙ্গে তৈরি হচ্ছে গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর প্রতিমাও।
পূজাকে ঘিরে মণ্ডপগুলোর সাজসজ্জার কাজেও এসেছে ব্যস্ততা। বাঁশ, কাঠ, কাপড়, রঙিন কাগজ, বৈদ্যুতিক বাতি ও বিভিন্ন ধরনের উপকরণ দিয়ে সাজানো হচ্ছে পূজামণ্ডপ। অনেক মণ্ডপে নেওয়া হচ্ছে আলাদা থিমের প্রস্তুতিও। ছোট-বড় বিভিন্ন পূজামণ্ডপে আয়োজকদের পাশাপাশি স্থানীয় তরুণ-তরুণীরাও স্বেচ্ছাশ্রমে প্রস্তুতির কাজে অংশ নিচ্ছেন।
আয়োজকরা বলছেন, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি এখন বাঙালির সর্বজনীন উৎসবেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই পূজার কয়েকদিন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষও মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করেন। এ কারণে পূজামণ্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল এবং উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে আগেভাগেই বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে।
সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় মোট ৪৪৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তুতি থাকায় জেলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও এখন উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন মণ্ডপেও চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। মণ্ডপের আশপাশের সড়ক ও প্রবেশপথ পরিষ্কার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও সংস্কার করা হচ্ছে মণ্ডপের অবকাঠামো। পূজার সময় দর্শনার্থীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয়ভাবেও নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।
দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে কেনাকাটার প্রস্তুতিও শুরু করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনীসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য কিনতে বাজারে বাড়ছে মানুষের উপস্থিতি। পূজাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, মিষ্টি, খাবার ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রীর দোকানে বেচাকেনা বাড়ার প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দর্শনার্থীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আয়োজকরাও প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক রাখার উদ্যোগ নিচ্ছেন।
সুনামগঞ্জ একটি সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় পূজার সময় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও বিশেষ নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পূজার দিনগুলোতে মণ্ডপে মানুষের সমাগম বাড়বে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন আয়োজকরা।
পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তার পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক সংযোগ, আলোকসজ্জা এবং মণ্ডপের ভেতরে-বাইরে বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকেও বৈদ্যুতিক তার ও সংযোগ পরীক্ষা করে নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দুর্গাপূজার মূল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে রয়েছে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত বিভিন্ন আয়োজন। ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার বোধন ও পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হবে। দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। প্রতিটি মণ্ডপেই এসব ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিন পর পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে মিলিত হয়ে উৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকেই। প্রবাসে বা দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা স্বজনরাও পূজাকে কেন্দ্র করে নিজ এলাকায় ফিরবেন—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে অনেক পরিবারের।
স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বলছেন, তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দের সঙ্গে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে চান। পূজার সময় যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং সব ধর্মের মানুষ যেন পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে উৎসবে অংশ নিতে পারেন—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
আয়োজকদের মতে, দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানেরও একটি বড় উপলক্ষ। তাই মণ্ডপগুলোতে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রসাদ বিতরণ এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের আয়োজনও করা হয়ে থাকে। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে উৎসব আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
৪৪৪টি পূজামণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও জমে উঠবে উৎসবের আমেজ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলায় ৪৪৪টি পূজামণ্ডপে এবার দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি মণ্ডপেই এখন শেষ মুহূর্তের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কোথাও প্রতিমা তৈরির কাজ, কোথাও মণ্ডপ সাজানোর কাজ, আবার কোথাও আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে জেলার সর্বত্রই এখন দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ততা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গার আগমন অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। সেই বিশ্বাস ও ধর্মীয় আবেগকে ধারণ করে সুনামগঞ্জেও এবার উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা। দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশা সুনামগঞ্জের সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ জেলার সর্বস্তরের মানুষের। এছাড়াও সবকটি উপজেলার চেয়ে জেলা সদরের আয়োজন যেন অন্য রকম সাজানো হচ্ছে। সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদর উপজেলা যার মধ্যে ৫২টি পূজা মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন এর নেতৃত্বে সদর থানার ওসি রতন সেখ পিপিএম দিন রাত পূজা মণ্ডপে তদারকি শুরু করেছেন। সব কিছু মিলে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য সদর থানার আওতাধীন ৫২টি পূজামণ্ডপকে নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানোর চেষ্টা করে চলেছেন ওসি রতন সেখ। তিনি বলেন কেউ যদি পূজা মণ্ডপে যায় ঝামেলা করার চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে কঠুর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সুপারের নির্দেশনা রয়েছে। অপর দিকে পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন তিনি সদর থানার মতো প্রত্যাকটি থানায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
এমএসএম / এমএসএম
গোদাগাড়ীতে নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
জিয়ানগর সুধীজনদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা
সিংড়ায় ৫ টি বক অবমুক্ত করলো ইউএনও
শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির ৮ প্লাটুন মোতায়েন
কালিয়ায় অনলাইন প্রতারনায় দুইজন আটক, নগদ টাকা জব্দ
মনপুরায় পুকুরের পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু
ইট ভেঙে জীবিকা চলে শতবর্ষী ছব্দুলের, পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে সেবার মানউন্নয়নে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান নবাগত তত্বাবধায়ক ডাঃ আলী আশরাফ
শান্তিগঞ্জে প্রধান শিক্ষক সমিতির নতুন কমিটি, সভাপতি মানিক লাল সম্পাদক সুধা রঞ্জন
আত্রাইয়ে বান্দাইখাড়া টেকনিক্যাল কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন
নাগরপুরে দশম শ্রেণির বখাটে ছাত্রর হাতে শিক্ষিকা লাঞ্ছিত
বাঘায় বিশ্ব সাদা ছড়ি নিরাপত্তা দিবস পালন