ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

নয় বছরেও পদোন্নতি না পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দৃষ্টিহীন প্রভাষকের চিঠি


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৮-১০-২০২৬ দুপুর ৪:৪২

‘আমি দৃষ্টিহীন, কিন্তু অক্ষম নই। করুণা নয়, চাই আমার যোগ্যতার মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি।’ এমন বেদনা ও ক্ষোভ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন নয় বছর ধরে পদোন্নতি না পাওয়া এক দৃষ্টিহীন শিক্ষক।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়ে নেত্রকোণা সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক হিসেবে শিক্ষাদান করছেন মো. শামসুল ইসলাম। জন্মগতভাবে দৃষ্টিহীন এই শিক্ষক দেখতে দেখতে একই পদে পার করেছেন দীর্ঘ নয় বছর। বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বুনিয়াদি ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করেছেন তিনি। আধুনিক স্ক্রিন রিডার প্রযুক্তির সহায়তায় নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও দাপ্তরিক দায়িত্বও পালন করে আসছেন দক্ষতার সঙ্গে। তবে দীর্ঘ এই কর্মজীবনেও মেলেনি পদোন্নতি। একই পদে আটকে আছেন নয় বছর ধরে। তার মতো আরও অনেক কর্মকর্তার পদোন্নতিও নানা প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে রয়েছে।

পদোন্নতির বিষয়ে গত সেপ্টেম্বর মাসে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পর তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো জারি হয়নি পদোন্নতির সরকারি আদেশ (জিও)। শূন্য পদের সংকট, সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাবের অনুমোদনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে আছে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকদের পদোন্নতি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন তিনি। চিঠিতে নিজের ব্যক্তিগত সংগ্রাম, দৃষ্টিহীনতাকে জয় করে উচ্চশিক্ষা অর্জন এবং বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পথচলার কথা তুলে ধরেছেন শামসুল ইসলাম। পাশাপাশি, শিক্ষা ক্যাডারের দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জটিলতা এবং এর ফলে সৃষ্ট নানা ভোগান্তির কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

৩৬ তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা চিঠিতে লিখেছেন, দৃষ্টিহীন হওয়া তার সক্ষমতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি কম্পিউটার পরিচালনা, তথ্য সংগ্রহ, গবেষণাপত্র তৈরি এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছেন। সরকারের কাছে তিনি কোনো সহানুভূতি বা বিশেষ সুবিধা চান না। চান যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা ও বিধিবদ্ধ শর্ত পূরণের ভিত্তিতে স্বাভাবিক পেশাগত অগ্রযাত্রার সুযোগ।

মুঠোফোনে ঢাকা পোস্টকে শামসুল ইসলাম বলেন, আমি জন্মগতভাবে দৃষ্টিহীন। তবে এই দৃষ্টিহীনতা আমার সক্ষমতার শেষ কথা নয়। ৯ বছর ধরে একই পদে আটকে থাকার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই পেশাগত আত্মবিশ্বাসে আঘাত করে। তবে আমি রাষ্ট্রের কাছে কোনো সহানুভূতি চাই না। মেধা, শ্রম ও বিধিবদ্ধ শর্ত পূরণ করার পর পদোন্নতি পাওয়া কোনো দয়া নয়, এটি একজন কর্মকর্তার পেশাগত অধিকার।

তিনি বলেন, নিজের চেষ্টায় স্ক্রিন রিডার ও সহায়ক প্রযুক্তি শিখে কম্পিউটার পরিচালনা, তথ্য সংগ্রহ, গবেষণাপত্র তৈরি ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছি। এর জন্য সরকারিভাবে কোনো প্রশিক্ষণের সুযোগ বা কারিগরি উপকরণ পাইনি। দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটারটিও ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ করতে হয়েছে। প্রতিবন্ধী কর্মচারীদের প্রতি রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি করুণাভিত্তিক না হয়ে অধিকার ও সক্ষমতাকেন্দ্রিক হওয়া উচিত।

জামালপুর সদর উপজেলার রণরাসপুর গ্রামের মো. মোবারক আলীর ছেলে শামসুল ইসলাম জন্মগতভাবে দৃষ্টিহীন। ছয় ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। শৈশবের দারিদ্র্য ও দৃষ্টিহীনতার প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং ৩৬তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় হয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি নেত্রকোণা সরকারি কলেজে ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।

তবে শুধু শামসুল ইসলামের নয়, তার মতো বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের হাজার হাজার কর্মকর্তার পেশাগত অগ্রযাত্রাই দীর্ঘদিন ধরে থমকে আছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া প্রায় ১৭ মাস ধরে কার্যত স্থবির। গত ১৬, ১৭ ও ২১ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সভা শেষ হওয়ার পরও পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।

এর অন্যতম বড় কারণ শিক্ষা ক্যাডারের পদ সংকট। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা ক্যাডারে নবম গ্রেডের প্রভাষক পদে বর্তমানে কর্মকর্তা রয়েছেন ৯ হাজার ৭৮২ জন। বিপরীতে ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপক পদ নির্ধারিত রয়েছে ৪ হাজার ৪৫১টি। অর্থাৎ প্রভাষকের তুলনায় সহকারী অধ্যাপক পদ অর্ধেকেরও কম। ফলে যোগ্যতা অর্জন করলেও বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় পদই নেই।

এই সংকট কাটাতে সুপার নিউমারারি বা অস্থায়ী পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক প্রয়াত অধ্যাপক বি এম আবদুল হান্নান ২ হাজার ৮২৩টি সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির লিখিত প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠান। কিন্তু নয় মাস পেরিয়ে গেলেও সেই প্রস্তাবের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, এসব পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদনের ক্ষেত্রে একাধিক ধাপ পেরোতে হয়। মাউশি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং প্রশাসনিক সংস্কারসংক্রান্ত সচিব কমিটিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অনুমোদনের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত যেতে পারে। কোনো একটি ধাপে সিদ্ধান্ত বিলম্বিত হলে পুরো প্রক্রিয়াই আটকে যায়।

এদিকে, দীর্ঘদিন পদোন্নতি না পাওয়ায় একই বিসিএসের জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে পদমর্যাদার ব্যবধানও কার্যত মুছে গেছে। একই সময়ে বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মকর্তারা অন্য ক্যাডারে পদোন্নতি পেয়ে উচ্চতর গ্রেডে গেলেও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা বছরের পর বছর প্রভাষক পদেই রয়েছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর নিয়মিতভাবে ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি হয়েছে। স্বাস্থ্য ক্যাডারেও সম্প্রতি সাড়ে ৫০০ চিকিৎসককে সুপারনিউমারারি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৬ সালে ষষ্ঠ গ্রেডে কোনো নিয়মিত পদোন্নতি হয়নি। ২০২৫ সালে এককালীন ১ হাজার ৮৭০ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হলেও তাতে দীর্ঘদিনের জট পুরোপুরি কাটেনি।

৩৬তম বিসিএসের সমসাময়িক অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা ২০২৩ সালে, ৩৭তম বিসিএসের কর্মকর্তারা ২০২৪ সালে এবং ৩৮তম বিসিএসের কর্মকর্তারা ২০২৬ সালে নিয়মিতভাবে ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছেন। অথচ ৩৬তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা নয় বছর পরও নবম গ্রেডের প্রভাষক পদে রয়েছেন।

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন বলেন, শিক্ষা ক্যাডারে নিয়মিত প্রভাষক নিয়োগ হলেও ওপরের স্তরে পদ সৃষ্টি না হওয়ায় প্রতিবারই আমাদের এই সংকটে পড়তে হয়। ৩৬ ব্যাচের অন্য ক্যাডারের সহকর্মীরা পদোন্নতি পেয়ে ষষ্ঠ গ্রেডে অবস্থান করলেও আমরা এখনো নবম গ্রেডে আটকে আছি। পদোন্নতি বঞ্চনার কারণে আসন্ন নবম পে-স্কেলেও আমরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ব।

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতির এই দীর্ঘসূত্রতা যে শুধু আর্থিক বিষয় নয়, সে বিষয়েও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, বছরের পর বছর একই পদে আটকে থাকায় জ্যেষ্ঠতা ও পেশাগত মর্যাদার প্রশ্নও তৈরি হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় ও যোগ্যতা পূরণ করেও যখন পদোন্নতি পান না, তখন তার পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

ক্যাডারভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘দ্য এডভাইজরস’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক সচিব তালুকদার বলেন, শিক্ষক দিবস আসে, শিক্ষক দিবস যায়, পূজা আসে, পূজা যায়, ঈদ আসে, ঈদ যায়— কিন্তু বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি বঞ্চনার ইতিহাস বদলায় না। বিসিএসের প্রাক-নিয়োগ প্রক্রিয়াসহ দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সিভিল সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরও ৩৬তম বিসিএসের কর্মকর্তা হয়ে আজও প্রভাষক পদে পড়ে আছি।

তিনি বলেন, অথচ আমাদের চেয়ে ১৩ ব্যাচ জুনিয়র, অর্থাৎ ৪৯তম বিসিএসের নতুন কর্মকর্তারাও একই প্রভাষক পদে এসে যোগ দিচ্ছেন। জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ কর্মকর্তা একই পদে বছরের পর বছর আটকে থাকার এই অবিশ্বাস্য প্রশাসনিক বাস্তবতা আমাদের সামাজিক, আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

পদোন্নতি আটকে থাকার বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রভাষকদের পদোন্নতি প্রক্রিয়ার বিষয়ে গত সেপ্টেম্বর মাসে পরপর তিনটি বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা সম্পন্ন হয়েছে। অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তাবনা ও নথি ইতোমধ্যেই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে সচিব মহোদয় দেশের বাইরে থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছে। তিনি দেশে ফিরলেই ফাইলটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আশা করছি, সচিব মহোদয়ের নির্দেশনার মাধ্যমেই শিক্ষা ক্যাডারের দীর্ঘদিনের এই জটিলতার দ্রুত ও স্থায়ী সুরাহা সম্ভব হবে।

পদোন্নতি আটকে রাখার বিষয়টি সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নও তৈরি করছে বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণের পরও দীর্ঘদিন পদোন্নতি আটকে রাখাটা সাংবিধানিক অধিকারের অবমাননা। সংবিধানে রাষ্ট্রীয় কর্মে সুযোগের সমতা ও যোগ্যতার মূল্যায়নের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, এই প্রশাসনিক স্থবিরতা তার পরিপন্থি।

তিনি বলেন, ১৩ ব্যাচ জুনিয়র অর্থাৎ ৪৯তম বিসিএসের নতুন কর্মকর্তারাও যদি জ্যেষ্ঠদের মতো একই পদে কাজ করেন, তবে কর্মকর্তা সমাজে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সরকারের উচিত কোনো কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে এই প্রশাসনিক জট নিষ্পত্তি করা।

দৃষ্টিহীন প্রভাষক শামসুল ইসলামের প্রসঙ্গে জিয়া হাবীব আহসান বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইনের আলোকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের কর্মপরিবেশ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোনো কর্মকর্তাকে কেবল প্রতিবন্ধিতার কারণে পেশাগত অগ্রযাত্রায় পিছিয়ে রাখা উচিত নয়। বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে বর্তমানে প্রায় ১৯ হাজার কর্মকর্তা রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা বলছেন, বছরের পর বছর পদোন্নতি আটকে থাকলে শুধু কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতি হয় না, এর প্রভাব পড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামো ও শিক্ষকদের কর্মস্পৃহার ওপরও।

তাদের দাবি, পদ সংকটের স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি দ্রুত ২ হাজার ৮২৩টি সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন করতে হবে। এরপর গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ডিপিসির ভিত্তিতে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সরকারি আদেশ জারি করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা চিঠিতে শামসুল ইসলামও শেষ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিগত অনুকম্পা চাননি। তার দাবি, দৃষ্টিহীনতার কারণে তাকে আলাদা করে দেখা নয় বরং অন্য কর্মকর্তাদের মতো যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তার পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করা হোক।

তার ভাষ্য মতে, প্রতিবন্ধকতা যেন আমার যোগ্যতার বিরুদ্ধে কোনো অদৃশ্য দেয়াল হিসেবে দাঁড় না করায়। করুণা নয়, যোগ্যতার মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি চাই।

aliul / aliul

শূন্যপদ পূরণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

বট দিয়ে ট্রেনের টিকিট ব্লক করে কালোবাজারি, ওয়েবসাইট বন্ধের উদ্যোগ

কবরস্থানের সংকট, বড় জায়গা খুঁজছে ডিএনসিসি

১২ অক্টোবর জানা যাবে ইউপি ভোটের তফসিল ও ধাপ : ইসি সানাউল্লাহ

সাড়ে ৪ বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত, উপসচিব হাবিবা শারমিনকে বরখাস্ত

নয় বছরেও পদোন্নতি না পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দৃষ্টিহীন প্রভাষকের চিঠি

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত

জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিটে ইউএনডিপির সহযোগিতা চান পরিবেশমন্ত্রী

উচ্ছেদকৃত জায়গায় মাঠ নির্মাণের ঘোষণা ডিএসসিসি প্রশাসকের

গবেষণার ফলাফলকে ব্যবহারিক ও বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তর করতে হবে

ডিসেম্বরের আগে গঙ্গা চুক্তি, মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজ

দেশে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে ২.১ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা

কেএনএফের পোশাক তৈরিতে অর্থায়ন, নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা