ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

বেনাপোল বন্দরে কাস্টমসের নেই নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা


সুমন হোসাইন, শার্শা photo সুমন হোসাইন, শার্শা
প্রকাশিত: ১১-১০-২০২৬ রাত ১০:১৩

দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দর গেট ডিভিশনে কাস্টমসের নিজস্ব নজরদারি না থাকায় শুল্ক ফাঁকি চক্রের সদস্যরা সহজেই পণ্য লোপাট করছে। একটি পণ্য শুল্কায়ন করে অন্য পণ্য চালান অনায়াসে বের করে নিয়ে যাচ্ছে। বন্দর কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বের হচ্ছে এসব পণ্য চালান। একের পর এক শুল্ক ফাঁকির চিত্র দৃশ্যমান হলেও থামছে না কারসাজি। গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ঘাটতির পরও চলতি অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগেনি এ বন্দরে । 
বন্দর সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল স্থলবন্দরে নিরাপত্তায় নিয়োজিত ১৬৩ জন আনসার সদস্য, বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মী (সিকিউরিটি গার্ড) ১২৯ জন ও এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন)-এর ২১ জন নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে। তবে বন্দরে কাস্টমসের নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থা না থাকায় লাগামহীন বন্দরে পরিণত হয়েছে। বন্দরে কোথায় কী ঘটছে তা অজানায় থাকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে। কাগজে কলমে পণ্য খালাস একটি আর বের করে নিয়ে যাচ্ছে আরেকটি। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দুই একটি চালান ধরা পড়লেও বেশির ভাগই থাকছে অধরা। 
স্বচ্ছ ব্যবসায়ীরা জানান, বন্দরে শুল্ক ফাঁকির ঘটনাগুলো পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বেশিরভাগই ভাড়াকৃত ও লিমিটেডকৃত ও নাম বদলানো লাইসেন্স গুলোতে এই ঘটনা ঘটছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ শুল্ক ফাঁকি রোধে কিছু নিয়ম নির্ধারণ করলে ব্যাপকহারে শুল্ক ফাঁকি কমবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন-(১) আমদানিকারকের প্রতিনিধি ব্যতীত কোনো পণ্য চালান রিসিভ করতে পারবে না। (২) বিল অফ এন্ট্রিতে মালিকের স্বাক্ষর যাচাই করতে হবে। (৩) লাইসেন্সের প্রতিনিধি ব্যতীত অন্য কোনো প্রতিনিধি পরীক্ষণ বা শুল্কায়ন করতে পারবে না। (৪) বৈধ কার্ড ছাড়া বন্দর ও কাস্টমসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে। (৫) বন্দরের গেট ডিভিশনে কাস্টমসের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে। (৬) আমদানি পণ্য চালান উঠা নামায় কাস্টমস কর্মকর্তার শতভাগ নিয়োজিত রাখতে হবে। (৭) বন্দরে কাস্টমসের নিজস্ব সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকতে হবে। (৮) কাস্টমস বিজিবি যৌথ বাঁশকলে নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে। (৯) মিথ্যা ঘোষণার পণ্য চালানের তথ্য প্রদানকারীকে উপযুক্ত পুরুস্কার দিতে হবে। (১০) মিথ্যা ঘোষণার তথ্য প্রদানের জন্য একটি হটলাইন মোবাইল নাম্বার চালু করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকা আনসার, সিকিউরিটি গার্ড ও আর্মড পুলিশ সদস্যরা আমদানি রপ্তানি কাগজপত্র সংক্রান্ত কিছুই বোঝে না। তারা শুধু বন্দরের গেট খোলা ও আটকানোর কাজ করে থাকে। শুল্ক ফাঁকি রোধে বন্দরে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনী নিয়োজিত করলে শুল্ক ফাঁকি থামানো সম্ভব হবে। একই সাথে বন্দর ও কাস্টমসের সফটওয়্যার অটোমোশন করে কতটি পণ্য চালান অ্যাসেসমেন্ট হচ্ছে,কতটি খালাস হচ্ছে,কতো গুলো মেনিফেস্টের পণ্য বন্দরে রক্ষিত রয়েছে তা পরিষ্কার হিসাব থাকতে হবে। 
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, বেনাপোল বন্দরের শেডে শেডে দুর্নীতির আঁখড়ায় পরিনত হয়েছে। তবে এর সাথে কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাও জড়িত। কাস্টমসের রাজস্ব ধ্বসের অন্যতম কারণ বন্দরের একই শেডে আমদানিকারকের একাধিক পণ্য চালান নামানো আর শেড ইনচার্জদের কারসাজি। একই আমদানিকারকের পণ্য চালান খালাস না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোন পণ্য চালান নামানোর জন্য একই শেডে পোস্টিং দেওয়া যাবে না। পণ্য চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকি রোধে বন্দরের পরিবেশ ফেরাতে কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে কর্মচারী বিধিমালা, আইন পরিবর্তন করতে হবে। 
এদিকে সম্প্রতি, একটি পণ্য চালানে অভিনব কায়দায় শুল্ক ফাঁকির তথ্য উঠে এসেছে। কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক কোনো পণ্য চালানে শুল্ক ফাঁকির তথ্য থাকলে, সেই পণ্য চালান একবারেই পরীক্ষণ শেষ করতে হবে। তা না হলে কিছু প্যাকেজ পরীক্ষণের পর পরের দিন যখন পুনরায় পরীক্ষণ করবে, সেই চালানে কিছুই পাবে না। কারণ কারসাজি!। ঘটনা হলো ৫০০ প্যাকেজ পণ্য চালানে শুল্ক ফাঁকির তথ্য থাকলে পরীক্ষণ কর্মকর্তারা সে চালানে একদিনে সর্বোচ্চ ১০০ বা ২০০ টি প্যাকেজ পরীক্ষণ করে থাকেন। পরের দিন বা আরও বেশি সময় নিয়ে অন্যান্য প্যাকেজ পণ্য পরীক্ষণ করে থাকেন। মজার ব্যাপার হলো,পরীক্ষণকৃত পণ্য চালান গুলো কাস্টমস কর্মকর্তারা চলে যাবার পর শেড ইনচার্জদের সাথে প্রতারণার সন্ধি চুক্তি সহায়তার মাধ্যমে সেগুলো বদলে ফেলা হয়। এতে পরেরদিন পরীক্ষণ কর্মকর্তারা নতুন করে শুল্ক ফাঁকির পণ্য খুঁজে পাই না। এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারী।
এক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী জানান, পণ্য ঘোষণায় একটি চালানের সাথে অন্য “আদার্স” পণ্য আমদানি দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিচ্ছে। পূর্বে কাস্টমস এমন ঘোষণার নিষেধ ছিলো। বর্তমান অসাধু ব্যবসায়ীরা ঘোষণায় ফেব্রিক্স অ্যান্ড আদার্স,অ্যাসোটেড অ্যান্ড আদার্স, পার্টস অ্যান্ড অদার্স হেডিং ব্যবহার করছে। ফলে নিম্ন শুল্ক পণ্য ঘোষণায় উচ্চ শুল্ক প্রবেশ করিয়ে শেড ইনচার্জদের সহযোগিতায় বিভিন্নভাবে শুল্ক ফাঁকি দিচ্ছে। যদি অদার্স ঘোষণা বন্ধ হয় তাহলে শুল্ক ফাঁকি কমে আসবে। 
ব্যবসায়ীরা জানান, বেনাপোল বন্দরের গেট ডিভিশনে কস্টমসের নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থা না থাকায় শুল্ক ফাঁকিবাজরা শেড থেকে কখন কী পণ্য বের করে নিয়ে যাচ্ছে তা অদৃশ্যই থাকছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে। নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমস কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আমদানি পণ্য নামানো বা ওঠানো। কিন্তু বেনাপোল বন্দরে তার বাস্তবায়ন নেই। কস্টামসের আনস্টাফিং টিম হাউজে বসে ফাইল স্বাক্ষর করে থাকে আর এক্সিট শাখার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদেরও একই অবস্থা। এভাবে চলতে থাকলে কোন ভাবেই শুল্ক ফাঁকি থামানো যাবেনা।  
ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, বর্তমান বেনাপোল কাস্টমস হাউসে শুল্ক গোয়েন্দা শাখার অনিয়ম ও দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থা শুল্ক ফাঁকির অন্যতম একটি কারণ। এ শাখার অব্যবস্থাপনায় আর দৃশ্যমান সফলতা না থাকায় কোন ফয়দা পাচ্ছে না বন্দর। বন্দরে অব্যাহত শুল্ক ফাঁকি ও পণ্য পাচার আরও দীর্ঘায়িত হলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাবে, তেমনি বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। 
সর্বশেষ,গত (৮ অক্টোবর) দুপুরে বন্দরের ৪১ নং শেড থেকে শুল্ক পরিশোধ ছাড়াই দুই ট্রাক পণ্য বের করে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যদিও এ ঘটনায় বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য দেইনী। তবে ৪১ নং শেডে মিথ্যা ঘোষনায় আনা পণ্যের তথ্য থাকায়, কাস্টমস হাউসের যুগ্ন কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা পরীক্ষণের জন্য নজরদারিতে রাখেন। কিন্তু পণ্য চালানটির দায়িত্বে থাকা (আইআরএম) টিমের সহাকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মঈন উদ্দীন আরমান ও শেড ইনচার্জদের যোগসাজশে দুই ট্রাক পণ্য বেরিয়ে চলে যায়। দুই দিন সরকারি ছুটি থাকায় এ ঘটনায় রোববার কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানা গেছে। 
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বেনাপোল বন্দরে কাস্টমসের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় শুল্ক ফাঁকি সিন্ডিকেট সদস্যদের কোন ভাবেই থামানো যাবে না। তাছাড়া বন্দরের শেড ইনচার্জরা অক্টোপাসের মতো দুর্নীতিতে জড়িয়ে রয়েছে তা আয়নার মতো পরিস্কার। এছাড়া প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটা বাজলেই কাস্টমস কর্মকর্তারা ঢাকায় ফিরে যেতে ‘রুপসী বাংলা’ ট্রেন ধরতে হাউস ছাড়তে উদ্যত হন। ফলে দুপুর দুইটার পরে কাস্টমসের টেবিল যেমন ফাঁকা হয়ে যায়। তেমনি শুল্ক ফাঁকি বাজদের রাস্তাও পরিস্কার হয়ে যায়।   
বিশেষ বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, বন্দর আধুনিকায়নের সাথে শুল্ক ফাঁকি ও নিরাপত্তার জন্য ডিজিলাইজেশন করতে হবে। তিনি জানান, বন্দরে প্রবেশকৃত ট্রাক চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বা এনআইডি ভেরিফিকেশন করে ফিঙ্গারপ্রিন্টের ব্যবস্থা করতে হবে। চালকরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে বন্দরে প্রবেশ করবে। একই সাথে চালকের নিজের এনআইডিতে নেওয়া সচল মোবাইল নাম্বার থাকতে হবে। কোন শুল্ক ফাঁকির পণ্য চালান বা মিথ্যা ঘোষণার পণ্য চালান নিয়ে বেরিয়ে গেলেও লোকেশন ট্রাকিং করে সহজে বের করা যাবে। তাছাড়া শুল্ক ফাঁকিবাজ চক্রের সদস্যদের পণ্য নামানোর গোডাউন বের করে কাস্টমস,কোস্টগার্ড ও গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে অভিযান পরিচালনা করে কাগজপত্র যাচায় বাচায় করে অবৈধ পণ্য চালান জব্দ করতে হবে। 
বন্দর ব্যবসায়ীদের দাবি, বেনাপোল বন্দরের শৃঙ্খলা ফেরাতে বিজিবি,কোস্টগার্ড বা উন্নত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বিশেষ বাহিনীদ্বারা বন্দর পরিচালনা করে শুল্ক ফাঁকি রোধ করা হোক। অর্থ মন্ত্রাণালয়,বাণিজ্যে মন্ত্রাণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হস্তক্ষেপে বেনাপোল বন্দররের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।  

এমএসএম / এমএসএম

বেনাপোল বন্দরে কাস্টমসের নেই নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা

লোহাগড়ায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, যুবলীগ নেতার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ

টাঙ্গাইলে জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

শরণখোলায় আমগাছে মিললো দিনমজুরের ঝুলন্ত লাশ

বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে অভয়নগরে চক্ষু চিকিৎসাসেবা ও সচেতনতামূলক র‍্যালি

পল্লীবিদ্যুতের খুঁটি বাসনো নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ব্যক্তির মৃত্যু

ধামরাইয়ে দুই অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, দেড় লাখ টাকা জরিমানা

চাপাইনবাবগঞ্জে ৫ উপজেলায় বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন।

ভূমি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জরুরী হস্তক্ষেপ কামন। শ্যামনগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, কর্তৃপক্ষ নীরব

‎দলীয় সমর্থনে জীবন বৃত্তান্ত জমা দিলেন রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রত্যাশী ইসমাইল বিন মনির

কোনাবাড়ীতে বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

মেঘনায় মা ইলিশ শিকার করায় ১০ জেলে আটক, জাল ও ইলিশ জব্দ

রাজারহাটে পৃথক অভিযানে ৭ জন গ্রেপ্তার