মনপুরায় জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়ম! মাস্টার রোলে অন্যের টিপসই
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা বিশেষ ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরুর পর তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রকৃত জেলে চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, জেলেদের মূল তালিকার সঙ্গে মাস্টার রোলের মিল না রেখেই চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো জেলের নামের বিপরীতে অন্য ব্যক্তি টিপসই দিয়ে চাল নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকে ইউনিয়নটির প্রায় ২ হাজার ২০০ জেলের জন্য চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। সরেজমিনে গিয়ে বিতরণ কার্যক্রমে তালিকা ও মাস্টার রোলের মধ্যে অসংগতি এবং প্রকৃত জেলেদের বাদ পড়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। ভুক্তভোগীদের দাবি, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার চাল বিতরণ করছেন। এতে প্রকৃত জেলেদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিরা চাল পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তালিকায় নাম থাকার পরও চাল পাননি কুটি
প্রকৃত জেলে হয়েও মাস্টার রোলে নাম না থাকার অভিযোগ করেছেন মো. কুটি। তিনি বলেন, “আমি একজন প্রকৃত জেলে। জীবনের দীর্ঘ সময় নদীতে মাছ ধরে কাটিয়েছি। জেলেদের তালিকায় প্রথম দিকে আমার নাম থাকার পরও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. কবির আমাকে স্লিপ না দিয়ে অন্য কাউকে দিয়েছেন।”
তাঁর অভিযোগ, তালিকায় নাম থাকার পরও তিনি সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
নিজের নামের পাশে অন্যের টিপসই, চাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জাকির মাঝি। তিনি বলেন, “আমার জেলে কার্ডে নাম রয়েছে। কিন্তু ইউপি সদস্যের কাছ থেকে আমি কোনো স্লিপ পাইনি। আমার স্লিপ অন্য কাউকে দেওয়া হয়েছে। পরে পরিষদে এসে মাস্টার রোলে দেখি, আমার নামের পাশে অন্য একজন টিপসই দিয়ে চাল নিয়ে গেছেন।”
জাকির মাঝির দাবি, প্রকৃত জেলে হয়েও তিনি সরকারি সহায়তা পাননি। তাঁর নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ চাল নিয়ে গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
রাজনৈতিক নেতাদের নাম দেওয়ার অভিযোগ ইউপি সদস্যের
এ বিষয়ে উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য ২৭০টি নাম পেয়েছি। এর মধ্যে রাজনৈতিক নেতারা আমাকে ১৫৫টি নাম দিয়েছেন। বাকি ১১৫টি নাম নেতারা নিয়ে গেছেন।”
তবে কোন কোন রাজনৈতিক নেতা এসব নাম দিয়েছেন, তা প্রকাশ করতে অনীহা জানান তিনি।
ইউপি সদস্য আরও বলেন, “প্রশাসক আমাকে মাস্টার রোল থেকে নাম দেওয়ার জন্য বলেছেন। আমি সিরিয়াল অনুযায়ী নাম না দিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে নাম দিয়েছি।”
তাঁর এই বক্তব্যের পর জেলেদের তালিকা প্রণয়ন ও স্লিপ বিতরণে কারা কীভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রশাসকের
এ বিষয়ে ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের প্রশাসক মো. নাসির উদ্দিন জানান , “আমি সব ইউপি সদস্যের সঙ্গে সভা করে কোনো ধরনের অনিয়ম না করে সঠিকভাবে স্লিপ বিতরণের নির্দেশ দিয়েছি। এরপরও কেউ অনিয়ম করে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে প্রকৃত জেলেদের বাদ পড়া, অন্যের নামে চাল উত্তোলন এবং তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো তদন্তের ফল পাওয়া যায়নি।
মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জেলেদের জীবিকা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সহায়তা সঠিক ব্যক্তির হাতে পৌঁছানো জরুরি। তাই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত জেলেদের তালিকা যাচাই এবং বঞ্চিত পরিবারগুলোর সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
Aminur / Aminur
রায়গঞ্জে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন
মেঘনায় জেলেদের ধাওয়ায় ডুবল নৌ-পুলিশের স্পিডবোট, নিখোঁজ শটগান
ধনবাড়ীতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের ব্যতিক্রমী হাডুডু খেলা, দর্শকদের ভিড়
আনোয়ারায় বিএনপির সমর্থন পেতে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিলেন দিল মোহাম্মদ মঞ্জু
বাঘায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
নেত্রকোণায় রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের বিশেষ সাধারণ সভা ও দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত
বিদ্যুৎ সংকটেও মাসব্যাপী মেলার আয়োজন, -মাঠের মালিক আত্মগোপনে থাকা আ. লীগ নেতা
মেহেরপুরে সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণ খাতে ১১৩ জনের মাঝে চেক বিতরণ
রাণীনগরে তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান সভা অনুষ্ঠিত
ডামুড্যায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ
মনপুরায় জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়ম! মাস্টার রোলে অন্যের টিপসই
জাতীয় কন্যাশিশু দিবসে শালিখায় র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ