ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

উল্লাপাড়ায় তিন শত.বছরের ঐতিহ্য পোড়া মাটির অপরূপ নিদর্শন ‘নবরত্ন মন্দির’


কাইয়ুম মাহমুূদ, উল্লাপাড়া  photo কাইয়ুম মাহমুূদ, উল্লাপাড়া
প্রকাশিত: ১৩-১০-২০২৬ দুপুর ১:২৪

সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের হাটিকুমরুল নবরত্ন পাড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রায় তিন শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক গোপালভোগ মন্দির—যা স্থানীয়ভাবে ‘নবরত্ন মন্দির’ নামে পরিচিত।

বাংলাদেশের বৃহত্তম এই নবরত্ন শৈলীর মন্দিরগুলোর অন্যতম এই স্থাপনাটি আজও বাংলার অতীত ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও অনন্য স্থাপত্যশৈলীর বার্তা বহন করে চলেছে।

​উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় এক কিলোমিটার এগোলেই চোখে পড়ে প্রাচীন স্থাপত্যের এই অনন্য নিদর্শনটি। তিন তলা বিশিষ্ট মূল মন্দিরের বিস্তৃত প্রাঙ্গণে রয়েছে আরও দুটি ছোট মন্দির।

ঐতিহাসিকদের মতে, ১৭শ’ শতাব্দীতে স্থানীয় জমিদার বংশের উদ্যোগে মন্দিরটি নির্মিত হয়। তৎকালীন বাংলায় নির্মিত মন্দিরগুলোর মধ্যে ‘নবরত্ন’ শৈলী ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয়, যেখানে মূল কাঠামোর শীর্ষে নয়টি রত্ন বা শিখর স্থাপন করা হতো।

​এককালে মন্দিরের সুউচ্চ নয়টি শিখরে ছিল ফুল, লতাপাতা, পৌরাণিক উপাখ্যান এবং দেবদেবীর মূর্তিখচিত সুনিপুণ পোড়ামাটির নকশা। কালের পরিক্রমায় ও সঠিক সংস্কারের অভাবে বর্তমানে নয়টি শিখরের মধ্যে কেবল পূর্ব ও পশ্চিম পাশের দুটি শিখর টিকিয়ে রেখেছে অস্তিত্ব; বাকি সাতটি বিলীন হয়ে গেছে।

 তবে জীর্ণতার মাঝেও এর কার্নিশ, দেয়াল ও খিলানের অলংকরণে ফুটে ওঠে প্রাচীন শিল্পীদের অসামান্য রুচি ও নিপুণ কারুকাজ।​প্রায় ২৫৬ বর্গফুট আয়তনের এই সুদৃঢ় মন্দিরটি চুন-সুরকি ও হাতে তৈরি পোড়ামাটির ইটের গাঁথুনিতে তৈরি।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, আলোর স্বাভাবিক বিন্যাস ও বায়ু চলাচলের সুবিধার জন্য বাইরে ৪৩টি এবং ভেতরে ৯টি প্রবেশপথ রাখা হয়েছে—যা তৎকালীন স্থাপত্য কৌশলের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

​১৯৬৯-৭০ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত হওয়া এই স্থাপনাটিকে ১৯৮৭ সালে ‘সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান’ হিসেবে ঘোষণা করে আংশিক সংস্কার করা হয়।বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

​মন্দিরটির কোলঘেঁষে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী গোপালভোগ দীঘি ও সবুজ-শ্যামল গ্রামীণ পরিবেশ। এই শান্ত ও স্নিগ্ধ আবহ প্রতিবছর ঈদ, দুর্গাপূজা ও বিভিন্ন ছুটির দিনে অসংখ্য ভ্রমণপিপাসুকে আকর্ষণ করে।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রাচীন এই সম্পদটিকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত মূল নকশা অক্ষুণ্ণ রেখে পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণ প্রয়োজন। একই সাথে পর্যাপ্ত পর্যটন সুবিধা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হলে এটি জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হবে।

এমএসএম / এমএসএম

ঘিওরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

ভূরুঙ্গামারীতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে অগ্নিনির্বাপণ ও ভূমিকম্প বিষয়ক সচেতনতামূলক মহড়া অনুষ্ঠিত

সুবর্ণচরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুরো সবজি বাগান ধুলিস্যাৎ

উলিপুরে নিভৃত পল্লীতে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে সাকসেস রেসিডেন্সিয়াল স্কুল

বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে শ্রমিকদল নেতার তান্ডব গভীর রাতে নারী চিকিৎসক কে হেনস্তা

বাসসের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন আবদুল হাই শিকদার: ভূরুঙ্গামারীবাসীর অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা

নওয়াব ফয়জুন্নেছা কলেজের ২ একর জমি ভূমিদস্যুদের দখলে

উল্লাপাড়ায় তিন শত.বছরের ঐতিহ্য পোড়া মাটির অপরূপ নিদর্শন ‘নবরত্ন মন্দির’

নেত্রকোণার মদনে মাদক সেবনের অভিযোগে পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ আটক-৪

ধনবাড়ীতে প্রতিবন্ধীদের আত্মকর্মসংস্থানে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ

আত্রাইয়ে আনসার ও ভিডিপির আয়োজনে তাল বীজ রোপণ অভিযান অনুষ্ঠিত

উজিরপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি: ‘দুষ্কৃতকারীদের কোনো ধর্ম নেই, প্রতিহতে পুলিশ প্রস্তুত’

ভোলার ​বাংলাবাজার কলেজে প্রথম বর্ষের নবীনবরণ ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান