ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে সব ধরনের পণ্য উৎপাদন করছে ওয়ালটন


মনজুর এ আজিজ photo মনজুর এ আজিজ
প্রকাশিত: ১৩-১০-২০২৬ রাত ৮:৪৫

সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্স, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, সোলার প্যানেল, ইনভার্টার এবং আধুনিক লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিসহ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের পণ্য দেশেই তৈরি করেছে দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন। মঙ্গলবার গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন কমপ্লেক্সে জ্বালানি বিষয়ক সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব বিষয় সম্পর্কে অবহিত করেন ওয়ালটনের কর্মকর্তারা।
ওয়ালটনের কর্মকর্তারা জানান- শুধু ব্যবসার জন্য নয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের দিক থেকে কোম্পানিটি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। নিজস্ব কারখানায় ছাদে ও কারখানা প্রাঙ্গণের জলাশয়ে ভাসমান প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ওয়ালটন বর্তমানে ৩২ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, যা দেশের একটি বড় জেলা শহরের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার সমান। উৎপাদিত  সৌরবিদ্যুতের বড় অংশ নিজস্ব উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যবহারের মাধ্যমে কারখানার জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডেও বছরে গড়ে প্রায় ১ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
পরিবেশবান্ধব সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ওয়ালটনের সকল কারখানাকে পুরোপুরি জ্বালানি-স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে শিল্প খাতের জন্য বড় আকারের এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (ইএসএস) স্থাপন করাই এখন ওয়ালটনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানান কর্মকর্তারা।
ওয়ালটনের কর্মকর্তারা জানান, হাইব্রিড এসি, ৬৬০ লিটারের ফোর-ডোর ইনভার্টার রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, বিএলডিসি সিলিং ফ্যান, স্ট্রিট লাইট, এলইডি বাল্ব ও ইলেকট্রিক চুলা সরাসরি সৌরশক্তিতে চলবে এবং সূর্যের অনুপস্থিতিতে ব্যাটারি ব্যাকআপ বা জাতীয় গ্রিডেও (হাইব্রিড প্রযুক্তি) চালানো যাবে। পাশাপাশি শিল্প-কারখানার জন্য ভবিষ্যতে ১ থেকে ৫ মেগাওয়াটের বড় এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (ইএসএস) তৈরির পরিকল্পনার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।
এদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), ওয়ালটনের ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন করবে। এটি দেশের কোনো বেসরকারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ছাদ ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ খাতে করা অন্যতম বড় বিনিয়োগ। 
জ্বালানি বিষয়ক সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ইডকলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল ইসলাম জানান, এই প্রকল্পের জন্য ইডকল মোট ১৪৪ কোটি টাকা অর্থায়ন করবে, যার মধ্যে ৪৪ কোটি টাকা ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে।
মনিরুল জানান, ইডকলের সহায়তায় ওয়ালটন এ পর্যন্ত ৩২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে; এর আওতায় রয়েছে কারখানার ছাদ, হাঁটার পথ (ওয়াকওয়ে) এবং কারখানার পুকুরে স্থাপিত ১.২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
ইলেকট্রনিক্স খাতের এই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট। তারা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ১৮ মেগাওয়াট সক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে, ফলে তাদের মোট পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে।
ইডকলের সহযোগিতায় ‘ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ’ (এফইআরবি) আয়োজিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে ওয়ালটনের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, আমরা  দিনের বেলার সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চাহিদা পরিবেশবান্ধব উৎস থেকে মেটানোর লক্ষ্যে কাজ করছি। ২০০২ সালে দেশব্যাপী ‘সোলার হোম সিস্টেম’ কর্মসূচির মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অর্থায়ন শুরু করা ইডকল এখন সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তার অংশ হিসেবে শিল্পকারখানার ছাদ ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
শিল্পখাতে বিদ্যুৎ খরচ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য আনা, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে সরকার সম্প্রতি সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের ওপর আমদানি শুল্ক হ্রাস ও বিভিন্ন প্রণোদনা ঘোষণা করেছে।
ওয়ালটন জানিয়েছে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের এই উদ্যোগের ফলে জাতীয় গ্রিডের ওপর তাদের নির্ভরতা ও বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং একই সাথে রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি’ বা পরিবেশবান্ধব কারখানার মানদণ্ড অর্জনেও অগ্রগতি হবে।
সাংবদিকদের ওয়ালটনের বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখান কর্মকর্তারা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটনের সিনিয়র নির্বাহী পরিচালক মো. নিজাম উদ্দিন মজুমদার, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক রবিউল ইসলাম (মিল্টন), সিনিয়র উপ-পরিচালক মো. কাইসারুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।

Aminur / Aminur

সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে সব ধরনের পণ্য উৎপাদন করছে ওয়ালটন

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে একমত বিশ্বব্যাংক : অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.২%, মূল্যস্ফীতি ১০.৯% হতে পারে: আইএমএফ

মোংলা ইপিজেডে ২১০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান

ব্যাংককে চলছে বাংলাদেশের বড় পরীক্ষা, জ্বালানি খাত ও বাড়তি ব্যয়ের বোঝা সামলাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চায় বাংলাদেশ

বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম

সংসারের হিসাব মেলাতে নিত্যদিনের খরচে কাটছাঁট

​৪৫০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ পেতে ব্যাংককে আইএমএফের সঙ্গে দর-কষাকষিতে বাংলাদেশ

জ্বালানি খাতের চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চায় বাংলাদেশ

চার কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা

ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন

রিকশাচালক-মুচিরাও লেনদেন করতে পারবেন বাংলা কিউআর দিয়ে: গভর্নর

অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ