ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

সিংড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ


এম মাহফুজ আলম, পাবনা photo এম মাহফুজ আলম, পাবনা
প্রকাশিত: ১৪-১০-২০২৬ দুপুর ২:১৫

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ  নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়া নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার  প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এর আওতাভূক্ত জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো কর্তৃক পরিচালিত সিংড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান মোঃ রবিউল ইসলাম, অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ২০২২ সালে চালু হয় সিংড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।  এখানে কর্মরত আছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ১ জন, সিনিয়র ইন্সট্রাকটর ১ জন, ইন্সট্রাকটর ৩ জন, সিনিয়র শিক্ষক ১ জন, কম্পিউটার অপারেটর ১ জন, অফিস সহায়ক ২ জন, স্কিল ওয়ার্কার ২ জন কর্মরত আছেন।
প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানের আবাসিক থাকার ব্যবস্থা এবং নিয়ম অনুয়ায়ী প্রতিষ্ঠানের আবাসিক ভবনে থেকে অফিস করার নিয়ম থাকলেও অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) তার নিজ বাসভবন থেকে অফিস করেন।

অভিযোগ রয়েছে,  অধ্যক্ষ নিজ বাসা থেকে ক্লাস করেন। অনেক সময় প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূর থেকে অফিস পরিচালনা করেন, নিজ নামে সরকারি বাসভবন বরাদ্দ নেওয়া থাকলেও অত্র প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি খাতে কোনো টাকা জমা দেয় না এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুয়ায়ী সকল কর্মচারীদের ডিজিটাল বায়োমেটিক্স মেশিনের মাধ্যমে হাজিরার নিয়ম থাকলেও অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এর অফিসে যাওয়া এবং আসার নিয়মিত ডাটা বায়োমেট্রিক মেশিনে নাই এবং সপ্তাহের শুরু কিংবা শেষের দিন ছুটি না নিয়ে বাসায় থেকে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে থাকে। যা নিয়ম বহির্ভূত।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে আরো প্রকাশ,  উক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩ দিনের বিদেশগামীদের জন্য  পিডিও ক্লাস হয়।  প্রতি সপ্তাহে সিংড়া উপজেলা ও আশে পাশের উপজেলা থেকে ৩০০-৪০০ জন বিদেশগামী প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে। ভর্তির নিয়ম অনুয়ায়ী প্রতি বিদেশগামী প্রশিক্ষণার্থী প্রতি ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়। অথচ  প্রশিক্ষণার্থীদের শিক্ষার উপকরন কলম, নোট খাতা, ম্যানুয়াল বই যার আনুমানিক মূল্য ৪০ টাকা দেওয়ার জন্য বরাদ্দ থাকলেও কোনো ধরনের শিক্ষার উপকরন না দিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে বিতরন করা হয়েছে মর্মে স্বাক্ষর নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। প্রতিষ্ঠানের মসজিদের নামে এসি কেনার কথা বলে চাঁদা আদায় করে বাঁকী অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।


প্রতি সপ্তাহেই পিকনিকের নাম করে ক্লাসে উপস্থিত হয়ে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে চাঁদা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।  ৪০হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলে নামমাত্র ৮/১০ হাজার টাকা  খিচুড়ি খাইয়ে বাঁকি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রিক ট্রেডে নিয়োগ প্রাপ্ত  মুক্তা বানুকে বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি এবং মানসিক নির্যাতন করে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।  ঐ পদে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) তার ঘনিষ্ট ইলেকট্রিক্যাল ট্রেডে এ্যাসেট প্রজেক্টের প্রশিক্ষক মো: সুলতান মাহমুদ সাগর কে অর্থের বিনিময়ে অস্থায়ী ভাবে নিয়োগ করেছে। উর্ধতন কর্তপক্ষের কিছু কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশে এসব অপকর্ম করার অভিযোগ উঠেছে।  প্রশিক্ষিকা মুক্তা বানু কে মিথ্যা  অভিযোগে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই নিয়োগ পত্রে ৭ নং নীতিমালা শর্তে কর্মচ্যুত করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানে নিজের প্রভাব বৃদ্ধি করার জন্য অধ্যক্ষ তার নিজ ভাতিজা নাজমুল হক তুহিনকে অত্র প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রিক ট্রেডে স্কিল ওয়ার্কার পদে চাকরিতে যোগদান করায়ছে। তার বিরুদ্ধে নারী ঘটিত ও মাদকের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরো প্রকাশ,  প্রতিষ্ঠানে  ড্রাইভিং ট্রেড্রের আওতায় গাড়ির তেলের প্রতি তিন  মাসে ৬০,০০০/- থেকে ৭০,০০০ টাকা যে বাজেট আসে তার চার ভাগের ১ ভাগ খরচ করে বাকি ৩ ভাগ বিভিন্ন ধরনের ভূয়া ভাউচারের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে।  প্রশিক্ষণার্থী বাবদ ড্রাইভিং লাইসেন্স এর খরচ বাবদ ৩ হাজার টাকা নেয়া হয়। পরবর্তীতে ঐ টাকা ফেরত না দেয়ার ও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী প্রশিক্ষনার্থীরা জানায়, প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রনিক্স ট্রেডের মালামালের জন্য সরকার থেকে নিয়মিত বাজেট থাকা সাপেক্ষেও প্রশিক্ষণ করতে গিয়ে প্রশিক্ষণার্থীরা প্রয়োজণীয় মালামাল পাচ্ছে না তারা। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন খাতে বাজেট থাকা সাপেক্ষেও দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে নাই। টয়লেট অপরিষ্কার থাকলেও কোনো ভ্রুক্ষেপ নাই।

বাংলাদেশ ও বিশ্ব ব্যাংক এর সহযোহিতায় ২ বছর মেয়াদী এ্যাসেট প্রজেক্ট চলাকালে প্রতি ৩ মাসে এক ব্যাচ মোট ৮ ব্যাচ সম্পুর্ণ করে প্রায় কোটি কোটি  টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নিজের ক্ষমতার প্রয়োগ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ্যাসেট প্রজেক্ট ও দক্ষতা উন্নয়ন তহবিল থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত সকল প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে বেতনের পার্সেন্টেজ  কর্তন  এবং গোপন রাখতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন খরচের টাকা নামমাত্র ভূয়া ও জালিয়াতি ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে পকেটে ভরছেন অত্র প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ রবিউল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে প্রকাশ, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পূর্ণ করার জন্য কোন কমিটি ছাড়াই অধ্যক্ষের একক সিদ্ধান্তে হয়ে থাকে।  কিছু কিছু নামমাত্র কমিটি থাকলেও সেসব কমিটির কোন দায়িত্ব নাই শুধু স্বাক্ষর করা ছাড়া। প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মচারীকে বিভিন্ন জায়গায় ট্রান্সফার করে দেওয়া হবে বলে নানা ধরনের মানসিক চাপ ও হুমকির অভিযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে অধ্যক্ষ ( ভারপ্রাপ্ত)  মো: রবিউল ইসলাম জানান, সরকারী নিয়ম নীতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হয়। তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।  মুক্তা বানুকে বরখাস্ত বিষয়ে জানান, তার কাজে অবহেলার কারনে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

এমএসএম / এমএসএম

রৌমারীতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামুনে রেখে ৩নং বন্দবেড় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী

সিংড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

বাগেরহাট বাস টার্মিনালে দুই পক্ষের সংঘর্ষ

মনিরামপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শান্তিগঞ্জে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বাবুগঞ্জের চাঁদপাশায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের সূচনা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ মাদকসেবী আটক, কারাদণ্ড

দোহাজারীকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের অভিযোগ

অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সার্জেন্টের হত্যার প্রতিবাদে বাদশাগঞ্জে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

রাণীনগরে আম বাগানে হলুদ চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন

রাঙ্গামাটিতে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

ধামরাইয়ে পূজামণ্ডপে জিআর চাল ও আর্থিক অনুদান বিতরণ

নোয়াখালীর সদরে চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪