৪৫ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে পাঁচ শতাধিক কবর খুঁড়েছেন দিনমজুর আবদুল কুদ্দুছ
কারও মৃত্যুর সংবাদ কানে আসামাত্রই আর এক মুহূর্তও দেরি করেন না তিনি। নিজের কাজ ফেলে হাতে ঝুড়ি আর কোদাল নিয়ে ছুটে যান মৃতের বাড়িতে; স্বজনদের অপেক্ষায় না থেকে নেমে পড়েন শেষ ঠিকানা কবর প্রস্তুতের কাজে। বিনিময়ে নেন না কোনো পারিশ্রমিক। এভাবেই টানা ৪৫ বছর ধরে পরম মমতায় ও নিঃস্বার্থভাবে মানুষের অন্তিম শয্যা তৈরি করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের মনপাল গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কুদ্দুছ।
ষাটোর্ধ্ব আবদুল কুদ্দুছ পেশায় একজন দিনমজুর। দীর্ঘদেহী ও সাদাসিধে এই মানুষটির সংসার চলে দিনমজুরির সামান্য আয়ে। মাটি কাটা ও কৃষিশ্রমিক হিসেবে মাঠে কাজ করার সময়ও যদি মসজিদের মাইকে কারও মৃত্যুর খবর ভেসে আসে, তবে নিজের রুটিরুজির কথা ভুলে তিনি ছুটে যান সেখানে। অনেক সময় স্বজনরা খবর দেওয়ার আগেই তিনি ঝুড়ি-কোদাল নিয়ে কবরস্থানে হাজির হয়ে যান। কবর খুঁড়তে গিয়ে নিজের কাজ বন্ধ হলেও এ নিয়ে তাঁর কোনো অনুশোচনা বা আক্ষেপ নেই। মনপালসহ আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ তাঁকে চেনেন ‘কবর খোঁড়ার মানুষ’ হিসেবে। গত সাড়ে চার দশকে তিনি এভাবে পাঁচ শতাধিক কবর খুঁড়েছেন।
জানা যায়, আশির দশকের শুরুতে গ্রামের মুরব্বি পূর্বপাড়ার রব্বন আলীর কাছ থেকে কবর খোঁড়ার কাজে অনুপ্রাণিত হন তিনি। পরে রব্বন আলীর জামাতা তৌহিদ মিয়ার সঙ্গে সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তৌহিদ মিয়ার মৃত্যুর পর থেকে একাই এ দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। শুধু কবর খননই নয়, গ্রামের কেন্দ্রীয় মসজিদটিও নিয়মিত নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন তিনি।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আবদুল কুদ্দুছ বলেন, ‘১৯৮০-৮১ সাল থেকে এ কাজ করে আসছি। কারও মৃত্যুর খবর শুনলেই চলে যাই। আমি শুধু মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় এবং মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে এ কাজ করি। এতে আমি আত্মিক শান্তি ও আনন্দ পাই। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এভাবেই মানুষের সেবা করে যেতে চাই।’
স্থানীয়রা জানান, কবর খননের পর অনেকে তাঁকে স্বেচ্ছায় সম্মানী দিতে চাইলেও তিনি তা বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে দেন। স্থানীয় বাসিন্দা অহিদুল ইসলাম ও সমাজসেবক ওবায়দুল হক মজুমদার বলেন, সমাজে এমন নিঃস্বার্থ ও পরোপকারী মানুষ সত্যিই বিরল; তাঁর উপস্থিতির কারণে স্বজন হারানোর মুহূর্তে কাউকে কবর খোঁড়া নিয়ে ভাবতে হয় না। মনপাল কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব মাওলানা তাজুল ইসলাম জানান, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি ও অত্যন্ত অমায়িক স্বভাবের আবদুল কুদ্দুছ সামাজিক যে কোনো ভালো কাজে সবার আগে এগিয়ে আসেন। প্রতিদানের প্রত্যাশাহীন এই মানুষটি পুরো এলাকায় এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন।
এমএসএম / এমএসএম
ধামইরহাটে আগ্রাদিগুন বাজারে "আরডিআরএস" এনজিও-র নতুন শাখা উদ্বোধন
হাতিয়ায় সর্বপ্রথম মহিলা সংরক্ষিত -৩৪ মাধবী মার্মা এমপির মতবিনিময়
গোপালগঞ্জে জেলা ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ
৪৫ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে পাঁচ শতাধিক কবর খুঁড়েছেন দিনমজুর আবদুল কুদ্দুছ
রায়গঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে মশারি বিতরণ
বাকেরগঞ্জে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা ও সরকারি অনুদান বিতরণ
মাটির প্রতিমায় রংতুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত বারহাট্টার মৃৎশিল্পীরা
শান্তিপূর্ণ সবস্থান,সম্প্রীতি উন্নয়নে সহযাত্রী হতে চায় ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক
খালিয়াজুরীতে ধনু নদে চাঁদা আদায়, দুইজনকে অর্থদণ্ড
পটিয়ায় পুকুরের মাছ নিয়ে বিরোধ: উপড়ে ফেলা হলো বৃদ্ধার দাঁত, আহত ছেলে-পুত্রবধূও
পিরোজপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আনসার ও ভিডিপির ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত
পরিচ্ছন্ন ধনবাড়ী গড়ার নেপথ্যের কারিগর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা